kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে ভেবেছি, তারপর ক্লু খুঁজে পেয়েছি

ডা. যুগল কিশোর রায়
মেডিক্যাল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে ভেবেছি, তারপর ক্লু খুঁজে পেয়েছি

২০০৬ সালে সনকা উচ্চ বিদ্যালয় (বীরগঞ্জ, দিনাজপুর) থেকে এসএসসি এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ (সৈয়দপুর, নীলফামারী) থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাস করি।

এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই মেডিক্যালে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। প্রথম চান্সেই (২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাই। এমবিবিএস শেষ করি ২০১৫ সালে। এর পর প্রস্তুত হই ৩৭তম বিসিএসের জন্য।

বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত সিলেবাস অনেক বড় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। চিকিত্সকদের জন্য বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) হওয়া একটু কঠিনই বলা যায়। কারণ ছয় বছর মেডিক্যালের কঠিন সব পড়া শেষ করে আবার আরেকটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় (বিসিএস) প্রস্তুতি নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়! টানা চার-পাঁচ মাস একনাগাড়ে বিসিএস সিরিজের বইগুলো পড়ে ফেলি। গাইড ছাড়াও নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ও ভূগোল পড়েছি। দিনে ৮-১০ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করেছি।

পরিকল্পিত প্রস্তুতির জন্য নিজের সুবিধামতো সময় বণ্টন করে রুটিন তৈরি করি। কত দিনে, কিভাবে, কোন বিষয়ের কোন কোন অংশের পড়া শেষ করব, সেটাও ঠিক করি।

পড়া শেষে কখন রিভিশন দেব, তা-ও মাথায় ছিল। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে ‘কোন ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে’ সে ব্যাপারে ধারণা হয়েছে। একটি বিষয় সব সময় মাথায় রেখেছি, ‘রিপিটেশন ইজ দ্য সিক্রেট অব লার্নিং’।

প্রিলি পরীক্ষার ছয়-সাত দিন আগেই পূর্বের সব পড়া রিভিশন দিই। পরীক্ষার আগের রাতে চাপ নিইনি, রাতও জাগিনি। প্রিলি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে দেখি মোটামুটি কমন। তেমন একটা ভুল দাগাইনি। অনুমান করে দাগালে ভুল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি! প্রিলিতে টিকে যাব, পরীক্ষার দিনই আন্দাজ করেছি।

 

বিসিএসের জন্য অনেকে কোচিং সেন্টারে যায়। আমার মতে, কোচিং না করেও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে টেকা সম্ভব।

লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন প্রিলি থেকে অনেক কঠিন করা হয়। গণিত আর ইংরেজিতে বেশি সময় দিয়েছি। বিগত প্রশ্নের ধরন দেখে অঙ্ক অনুশীলন করেছি। ইংরেজি ব্যাকরণের নিয়মগুলোও নিয়মিত চর্চায় রেখেছি। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, মানসিক দক্ষতা থেকেও প্রশ্ন এসেছিল। কিছু প্রশ্ন হুবহু কমন পড়েছিল। আর কিছু প্রশ্ন অজানা ছিল। প্রথমে জানা প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিয়েছি। অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে ভেবেছি, তারপর ক্লু খুঁজে পেয়েছি। সেই ক্লু ধরে উত্তর করেছিলাম। আর স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষাও বেশ ভালো দিয়েছি। লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিই। ভাইভা হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ভাইভার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খবর বা শিরোনামগুলো দেখি। ওই দিন বাংলা, ইংরেজি ও আরবি মাসের কত তারিখ তা-ও খেয়াল করি। সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে যাই। মেয়েদের বলব, ভাইভায় শাড়ি আর মার্জিত থ্রি-পিসই মানানসই।

 

ভাইভা বোর্ডে প্রথমে আমার নাম, ঠিকানা, মেডিক্যালের নাম জিজ্ঞেস করা হলো।

নাম-ঠিকানা বলার পর নিজের মেডিক্যালের নাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ বললাম। আমার মেডিক্যালের নাম শুনে প্রশ্ন করলেন, ‘স্যার সলিমুল্লাহ কেন বিখ্যাত?’ উত্তরে বললাম, তিনি ঢাকার নবাব ছিলেন। ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন করেন। এ ছাড়া তিনি ছিলেন বিদ্যানুরাগী। এর পর স্যার সলিমুল্লাহকে নিয়ে আরো কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। সবগুলোর ঠিকঠাক উত্তর দিই। আমার বাসা দিনাজপুর হওয়ায় ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় দিনাজপুর কত নম্বর সেক্টরে ছিল’, জানতে চাইলেন। উত্তর জানাই ছিল।

ফল প্রকাশ হলে দেখি, স্বাস্থ্য ক্যাডারে মেধাতালিকায় আমি ৮৪তম।

 

     অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

 

মন্তব্য