kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

ভাইভায় সহজ প্রশ্নগুলোই করা হয়েছে টেকনিক্যালি

সালেহ উদ্দিন
প্রিন্সিপাল অফিসার এক্সিম ব্যাংক

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভাইভায় সহজ প্রশ্নগুলোই করা হয়েছে টেকনিক্যালি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ছাত্র ছিলাম। আমার ক্যারিয়ার ভাবনা শুরু হয় উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার সময়। এসএসসিতে বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ার পরও ক্যারিয়ারের কথা ভেবে এইচএসসিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হই ঢাকা কলেজে।

পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাই। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই প্রাইভেট চাকরির প্রতি আকৃষ্ট হই, বিশেষ করে প্রাইভেট ব্যাংকের চাকরির প্রতি। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। হলে বন্ধুদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন বিষয়গুলো আলোচনা করে বোঝার চেষ্টা করতাম। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী পড়াতাম, যা আমার মৌলিক জ্ঞান অর্জনে কাজে দিয়েছিল। টিউশনি করার কারণে প্রায় সব ক্লাসের গণিত ছিল আয়ত্তে। চাকরির জন্য কোন কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা অনার্স পড়ার সময়ই জেনেছি। বেশির ভাগ চাকরিতেই সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি বিষয়ের পাশাপাশি আইসিটি, Analytical Puzzles, Critical Reasoning, IQ, Data Sufficiency ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকে।

সাধারণ জ্ঞানের জন্য হলের পত্রিকারুমে নিয়মিত সময় দিতাম। তা ছাড়া সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর জন্য প্রতি মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ঘরানার মাসিক পত্রিকাগুলো সংগ্রহে রাখতাম।

বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই, উচ্চতর বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা বইসহ বিভিন্ন উপন্যাস পড়তাম।

ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের জন্য বিভিন্ন প্রকাশনীর ভোকাবুলারি, রিডিং নিউজপেপারস, গ্রামার, Analytical Puzzles, অ্যানালজি, গণিত, জ্যামিতি বইসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক গাইড সংগ্রহ করেছিলাম। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতাম এবং জটিল প্রশ্নগুলোকে আলাদা করে সমাধান করতাম। তা ছাড়া গণিত বিষয়ের জন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দেখেছি।

চাকরির প্রস্তুতির সহায়ক বই হিসেবে বাজারে বেশ কিছু বই আছে। আমার মতে, এসব বই ভালোভাবে আয়ত্ত করলে চাকরির লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেকাংশেই হয়ে যায়।

বেশির ভাগ চাকরিতেই সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি বিষয়ের পাশাপাশি আইসিটি, Analytical Puzzles, Critical Reasoning, IQ, Data Sufficiency ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকে

যেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছি, তাদের প্রশ্নপত্র কেমন, তা মাথা রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আইবিএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও বিআইবিএমের (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট) প্রশ্নপত্রের ধাঁচ (Pattern) ভিন্ন হয়।

চাকরির লিখিত পরীক্ষায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গণিত দিয়েই উত্তর দেওয়া শুরু করতাম; কারণ ক্যালকুলেশনের জন্য অন্যান্য অংশের তুলনায় গণিতে একটু বেশি সময় দিতে হয়। এরপর অন্যান্য বিষয়ের উত্তর দিতাম।

লিখিত পরীক্ষা হয়ে গেলে ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিতাম।

অনেকেই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির বেলায় যতটা গুরুত্ব দেয়, ভাইভার বেলায় ততটা দেয় না। অথচ ভাইভা না টপকালে চাকরি হবে না। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা অনেক মেধাবী প্রার্থীও ভাইভায় আটকে যায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলব, ভাইভায় খুব একটা কঠিন প্রশ্ন করা হয়নি। সহজ প্রশ্নগুলোই করা হয়েছে টেকনিক্যালি। বেশির ভাগ চাকরির ভাইভায় দেখলাম নিজের শিক্ষাজীবনের মেজর বিষয়গুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় যেমন—বর্তমানে কী করেন? নিজেকে ব্যক্ত করুন। আপনার সবল ও দুর্বল পয়েন্টগুলো কী কী? ইত্যাদি প্রশ্ন করা হয়। চাকরির ধরন-পদ, সমসাময়িক বিষয় এবং যে প্রতিষ্ঠানের ভাইভা হচ্ছে তার কাজ নিয়েই সাধারণত বেশি প্রশ্ন করা হয়। নিজের মেজর বিষয়গুলোর ওপর দখল থাকলে ভাইভার প্রশ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। ফেসবুকে চাকরির প্রস্তুতির জন্য অনেক পেজ ও গ্রুপ আছে। সেখান থেকে প্রস্তুতিসংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির আবেদন শুরু করি। ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার, বেসিক ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক, বিআরডিবিতে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে এমটিও, ডিবিবিএলে প্রবেশনারি অফিসার, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার, প্রিমিয়ার ব্যাংকে এমটিও, এক্সিম ব্যাংকে এমটিও, এবি ব্যাংকে এমটিওসহ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার পদে আবেদন করেছিলাম। প্রতিটিতেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বেশ কয়েকটিতে চাকরিতে যোগদানের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছি।

ব্যবসায় প্রশাসনের বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীর মতো আমারও লক্ষ্য ছিল প্রাইভেট ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদ। এমটিও পদে সুযোগ হওয়ার কারণে ২০১০ সালে এক্সিম ব্যাংকে যোগ দিই।

এর আগে একটি প্রাইভেট কলেজে প্রভাষক হিসেবে কয়েক মাস এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকে ছয় মাস চাকরি করেছি। আমার মতে, পড়াশোনা শেষ করেই তাড়াহুড়া করে নামমাত্র কোনো চাকরিতে ঢোকা ঠিক নয়। যেনতেন কোনো চাকরিতে ঢুকে যদি ভালো চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া না যায়, তা হলে এমন চাকরি না করাই ভালো। প্রথম দিকের পদবিটা চাকরিজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

মন্তব্য