kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

টেলিকমিউনিকেশনে ক্যারিয়ার

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টেলিকমিউনিকেশনে ক্যারিয়ার

স্মার্ট ও সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র হিসেবে অনেকেই টেলিকমিউনিকেশনে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী। টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোও চাইছে দক্ষ কর্মী। এ পেশায় সম্পৃক্ত হতে চাইলে নিজেকে কিভাবে তৈরি করতে হবে, নিয়োগের বেলায় কোন কোন বিষয়ে জোর দেওয়া হয়—এসব নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন কম্পানির কর্মকর্তারা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান রহমান

টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরটি যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করেছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ইন্টারনেটের সহজ লভ্যতায় এই কর্মক্ষেত্রের দ্রুত প্রসার ঘটছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টেলিকম কম্পানিগুলো এখন আর কমিউনিকেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অ্যাপ ডিজাইন, অ্যাপ আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও অটোমেশনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ এই শিল্পের সম্ভাবনা আরো দৃঢ় করেছে। ফলে এই খাতকে এগিয়ে নিতে দরকার দক্ষ কর্মী বাহিনী। তরুণরাও চাইছে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে।

 

কাজের সুযোগ

অপারেটর কম্পানি টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তারজীবুল ইসলাম বলেন, ‘এই সেক্টরে কাজ করতে হলে নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যাবসায়িক কৌশল সম্পর্কে জানাশোনা থাকতে হবে। আমাদের মার্কেট ধীরে ধীরে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেখানে কাজ করতে হবে ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে। টেলিটক প্রতিবছর টেকনিশিয়ান, ইঞ্জিনিয়ার, আইটি বিশেষজ্ঞ, মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, এইচআর, প্ল্যানিং বা বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগে লোকবল নিয়োগ দিচ্ছে।’

গ্রামীণফোন লিমিটেডের রাজশাহী জোনের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহীদুল হক মিল্কি বলেন, ‘আমরা উদ্যমী তরুণদের বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োগ দিয়ে থাকি। তবে ফ্রেশাররা মূলত ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি বা শিক্ষানবিশ হিসেবে নিয়োগ পান।’

টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করা ড্রিম টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের (ডিআইটি) পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘কাজের ধরন আলাদা হলেও মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, টাওয়ার বা নেটওয়ার্কিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, অপারেটর প্রতিষ্ঠান—প্রতিটিই টেলিকম খাতের সঙ্গে যুক্ত। তাই এখানে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কিছু প্রতিষ্ঠান দেশেই মোবাইল সেট প্রস্তুত করছে। এখানে প্রচুর দক্ষ লোকের প্রয়োজন হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ তো থাকছেই।’

জিপিআই এশিয়াটেল কম্পানির সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘টেলিকমিউনিকেশনে চাকরি মানেই অপারেটর কম্পানিতে চাকরি বোঝায় না। কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ টেলিকমিউনিকেশন অপারেটর কম্পানিকে সাপ্লাই দেয়। এ ছাড়া সাপোর্টিং হিসেবে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মূল কম্পানির কাজটি নিজেদের কর্মী দিয়ে করিয়ে দেয়।’

 

যোগ্যতার পরিমাপ

তারজীবুল ইসলাম বলেন, ‘এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি টেকনোলজিবিষয়ক জ্ঞান এবং নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা নেওয়ার মানসিকতা থাকা চাই। প্রযুক্তিবিষয়ক সর্বশেষ খবরাখবর নখদর্পণে রাখতে হবে।’

শাহীদুল হক মিল্কি বলেন, ‘এখানে প্রতিটি কাজই টেকনিক্যালি সম্পাদন করা হয়। প্রতিনিয়তই কাজের ধরন ও মার্কেট কৌশল পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে এখানে কাজ করতে চাইলে পরিবর্তনশীল মনোভাবাপন্ন একজন মানুষ হতে হবে। নতুন নতুন কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার আগ্রহ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে। পড়াশোনা যে বিষয়েই হোক, এখানে টেকনিক্যাল জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ।’

ফরহাদ হোসন বলেন, ‘নেটওয়ার্কিং, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার ও টেলিকমিউনিকেশন বিষয়ে ধারণা রাখার পাশাপাশি এসব বিষয় স্নাতকধারীরা এ পেশায় অগ্রাধিকার পান।’

 

নিয়োগে চোখ

টেলিকমিউনিকেশন কম্পানিগুলো সাধারণত নতুন ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের আলাদা নিয়োগ দেয়। তারজীবুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্রেশার নিয়োগে টেলিকম কম্পানিগুলো কিছুটা খুঁতখুঁতে হয়। প্রার্থীর মধ্যে বুদ্ধিসম্পন্নতা, অ্যানালিটিক্যাল স্কিল, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা রয়েছে কি না—খুঁটিয়ে দেখা হয়। এ ছাড়া ভোক্তাকে কনভিন্স করার ক্ষমতা, স্মার্টনেস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি টেলিকম খাতে চাকরি পাওয়া সহজ করে। অভিজ্ঞ প্রার্থী নিয়োগের বেলায় তাঁর আগের কাজের ফিরিস্তি, ক্যারিয়ার গ্রাফ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

শাহীদুল হক মিল্কি বলেন, ‘যেহেতু টেলিকম খাতে ফ্রেশারদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়, তাই প্রার্থীর সিভি হতে হবে গঠনমূলক। অতিরঞ্জিত না করে পদসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। উপস্থাপন করতে হবে নির্ভুল ও নির্দিষ্ট তথ্য। একাডেমিক ফলাফলের সঙ্গে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া কোনো প্রফেশনাল বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স করা থাকলে তা-ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

 

যেভাবে নিয়োগ

তারজীবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। টেলিটকে নিয়োগ দেওয়া হয় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা টেলিটক কর্তৃপক্ষ সরাসরি গ্রহণ করে।’ শাহীদুল হক মিল্কি বলেন, ‘গ্রামীণফোন সাধারণত নিজেদের ওয়েবসাইট ও লিংকডইনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। সিভি গ্রহণ করা হয় অনলাইনে। বাছাইকৃতদের ডাকা হয় মৌখিক পরীক্ষার জন্য।’

 

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদন করার নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হয়। প্রতিটি টেলিকমিউনিকেশন অপারেটর কম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ক্যারিয়ার নিয়ে আলাদা আয়োজন রয়েছে। সেখানেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো প্রকাশিত হয়। এসব সাইটে অ্যাডভান্স সিভি জমা দেওয়ার অপশনও রয়েছে। সিভি জমা ও আবেদন করা যাবে এই ঠিকানায়—

বাংলালিংক (http://banglalink.bdjobs.com),  গ্রামীনফোন (www.grameenphone.com/b/about/career), রবি (www.robi.com.bd/bn/personal/career) এবং টেলিটক (http://www.teletalk.com.bd/career/circular.jsp?menuItem=43003&lang=bn)|

 

সুযোগ-সুবিধা

টেলিকম কম্পানিগুলো নিজস্ব নীতি অনুসারে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়। সাপ্তাহিক ছুটি, সরকারি ছুটিসহ সম্মানজনক বেতন দেওয়া হয়। সঙ্গে রয়েছে পদোন্নতির সুযোগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা