kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

নিয়োগকর্তা বললেন

শেখার কোনো শেষ নেই, শিখতে থাকুন

প্রার্থী বাছাইয়ের বেলায় কী কী বিষয় দেখেন নিয়োগকর্তারা? নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা বিষয়ে কথা বলেছেন গ্রামীণফোনের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সৈয়দ তানভির হোসেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন আরাফাত শাহরিয়ার

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শেখার কোনো শেষ নেই, শিখতে থাকুন

সৈয়দ তানভির হোসেন। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

গ্রামীণফোনের ফুলটাইম কর্মী না হয়েও খণ্ডকালীন অথবা প্রজেক্ট বেইসে কাজ করতে পারবেন প্রচুর প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে গ্রামীণফোন আমাদের প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে

 

দেশের সবচেয়ে বড় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটিতে কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে?

গ্রামীণফোন টেলিকমিউনিকেশন থেকে ধীরে ধীরে ডিজিটাল টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর হচ্ছে। ভবিষ্যতের দিকে আমরা নজর দিচ্ছি। যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, অ্যাডভার্স অ্যানালিটিক এবং ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি)—এসব জায়গা নিয়েই ভবিষ্যতের মার্কেট দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে আমরা এই সেক্টরগুলোতে লোক নেব। বিজনেস সাইডে বেশি নিয়োগ হতে পারে। আগে বেশি লোক নেওয়া হতো মার্কেটিং বিভাগে। সেখান থেকে সরে এসে আমরা ডিজিটাল সার্ভিসের জন্য ইঞ্জিনিয়ার বেশি নিতে পারি।

কোথায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়?

আমরা পত্রিকায় খুব একটা বিজ্ঞাপন দিই না। লিংকডইনে গ্রামীণফোনের পেজ আছে। সেখানে জব রিলেটেড পোস্টগুলো দিয়ে থাকি। সেখানে সিভি আপলোড করা যাবে।

 

নিয়োগের বেলায় কী কী দেখা হয়?

আমাদের নিয়োগ খুবই সিলেকটিভ। শুধু গ্রামীণফোন নয়, সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বেলায় নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা চাওয়া হয়। এটি ফ্রেশারদের জন্য এক রকম, মিড ক্যারিয়ারের জন্য আরেক রকম। বেশির ভাগ কম্পানিতে চাকরির পূর্বশর্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা। এটি লাগবেই। দেখা হয়, প্রার্থী কোনো অর্গানাইজেশন, ক্লাব, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না? চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখতে চায়, আপনি কী শুধু পড়াশোনাই করেছেন, নাকি এর পাশাপাশি অন্য কিছু করেছেন। আমরা ছাত্রাবস্থায় টিউশনি করতাম। এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনেক কাজের সুযোগ আছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিপিও ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠছে। এতে খণ্ডকালীন কাজের অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

নিজেকে কিভাবে তৈরি করবে?

অটোমেশন, অ্যাপ ডিজাইন, অ্যাপ আর্কিটেকচার—এসব জানতে হবে। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় না। তাই শেখার জন্য নিজেকে এফোর্ট দিতে হবে। আমাদের দেশের তরুণরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে এসব কাজ শিখছে। এটি ইতিবাচক দিক। আর প্রত্যেকেরই একটি উদ্দেশ্য থাকা উচিত। শুধু টাকার জন্য কাজ করা উচিত নয়। যদি কারো উদ্দেশ্যের সঙ্গে গ্রামীণফোনের ভিশন মিলে যায়, তাহলে কিন্তু একজন এমপ্লয়ি কাজটি অনেক বেশি এনজয় করবে।

 

খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ আছে কেমন?

গ্রামীণফোনের ফুলটাইম কর্মী না হয়েও খণ্ডকালীন অথবা প্রজেক্ট বেইসে কাজ করতে পারবেন। প্রচুর প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে গ্রামীণফোন। আমাদের প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। সম্প্রতি ডিজিটাল নিনজা নামের প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছি। কোডার, অ্যাপ ডিজাইন, ইউজার ইন্টারফেস অথবা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা প্রজেক্ট জমা দিতে পারবেন।

 

কী কী বিষয় অযোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়?

আমরা বিভিন্ন অ্যাসেসমেন্ট টুল দিয়ে প্রার্থী যাছাই করি। মানদণ্ডের একটি হলো, যদি মনে হয় তাকে দিয়ে কখনো দুর্নীতি হতে পারে, তিনি অসৎ কোনো কাজ করতে পারেন, তাহলে আমার তাকে নিই না। আমাদের একটি প্রিন্সিপল হচ্ছে, সে নো টু করাপশন।

 

গ্রামীণফোনে ইন্টার্নশিপের সুযোগ আছে?

ইন্টার্নশিপের সুযোগ আছে গ্রামীণফোনে। ইন্টার্নশিপে আমরা দুই ধরনের শিক্ষার্থী পেয়েছি। এক দল আসে কাজ শেখার জন্য। আরেকটা গ্রুপ আসে শুধু সময় কাটানোর জন্য। আড়াই-তিন মাস তারা কাজ করে। সময় কিন্তু কম নয়। তারা যদি সুযোগ কাজে লাগায়, কাজটা শেখে, ভবিষ্যতের জন্য অনেক ভালো হবে। আর শিখতে না চাইলে এটি হবে তাদের জন্য বিরাট একটি সুযোগ নষ্ট।

 

সিভি কেমন হওয়া উচিত?

প্রার্থী কী কী কাজ করেছেন, কী পারেন—তার ওপরে বেইস করে সিভি তৈরি করা উচিত। অনেকে এতে পারিবারিক জীবনবৃত্তান্ত এবং তিন-চারজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের রেফারেন্স দেয়। কিন্তু দেখা গেল আসল তথ্যই নেই। তিনি এর আগে কী করেছেন, তাঁকে নিলে কম্পানির কী লাভ হবে—সেসব তথ্য থাকতে হবে। যাঁরা মিড ক্যারিয়ারে আসেন, অর্জনগুলো যদি সিভিতে তুলে ধরেন, তাহলে চাকরিদাতার জন্য বোঝা সহজ, প্রার্থী কী কী করেছেন, তাঁর কী দক্ষতা আছে।

 

আপনার সর্বশেষ পরামর্শ—

দেশকে ভালোবাসুন। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলুন। নিজের যোগ্যতা বাড়ান। শেখার কোনো শেষ নেই, শিখতে থাকুন।

 

মন্তব্য