kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

৩৬তম বিসিএস লিখিত বিশেষ ধারাবাহিক ২

গণিত ও বিজ্ঞানে নির্ভর করছে অনেক কিছু

বিসিএসে টেকা অনেকটাই নির্ভর করছে লিখিত পরীক্ষার ওপর। তিন পর্বের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজনে আজ গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি। লিখেছেন ৩০তম বিসিএসে প্রথম সুশান্ত পাল

১১ মে, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গণিত ও বিজ্ঞানে নির্ভর করছে অনেক কিছু

গলফ খেলায় ভালো খেলোয়াড়রা দুটি ব্যাপার মাথায় রাখেন—এক. বল। দুই. গর্তটা। গর্তে বলটা ফেলার জন্য গর্তের সঙ্গে বলটার সংযোগের একটা দৃঢ় কল্পনা মাথায় আসার পরেই তাঁরা বলে আঘাত করেন। আর সাধারণ মানের খেলোয়াড়রা দূরত্ব, আশপাশের মাঠের পরিবেশ, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া—এসব নিয়েও ভাবতে থাকেন।

বিসিএস পরীক্ষার জন্য দুটি ব্যাপার মাথায় রাখুন—এক. প্রস্তুতি কৌশল। দুই. চাকরিটা। বিসিএস নিয়ে যত বেশি গবেষণা করবেন, ততই আপনার প্রস্তুতি খারাপ হবে। আপনার স্বপ্নটা মাথায় রেখে আর কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা না করে প্রচুর পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিন। দেখবেন চূড়ান্ত গেজেটে আপনার রোল নম্বরটা আছে!

এই সময়টাতে আপনার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে—এমন সব ব্যাপার জীবন থেকে সাময়িকভাবে একেবারেই সরিয়ে দিন। অনেক নির্বোধই নানা মন্তব্য করতে পছন্দ করে—এ রকম লোকজন থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

গাণিতিক যুক্তির জন্য যেকোনো তিনটি গাইড বই কিনে সলভ করে ফেলুন। ম্যাথস ভালো না পারলে প্রতিদিনই প্র্যাকটিস করুন। বিসিএস পরীক্ষায় ম্যাথসে ফুল মার্কস পাওয়ার জন্য সায়েন্সের স্টুডেন্ট হতে হয় না। প্রতিটি স্টেপ বিস্তারিতভাবে দেখিয়ে ম্যাথস করবেন। কোনো সাইড নোট, প্রাসঙ্গিক তথ্য—কিছুই যেন বাদ না যায়।

সরল : আগের বছরের প্রশ্ন, গাইড বই। সরলের উত্তর সবার শেষে করলে ভালো হয়।

বীজগাণিতিক রাশিমালা, বীজগাণিতিক সূত্রাবলি, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, একমাত্রিক ও বহুমাত্রিক সমীকরণ, একমাত্রিক ও বহুমাত্রিক অসমতা, সমাধান নির্ণয়, পরিমিতি, ত্রিকোণমিতি : আগের বছরের প্রশ্ন, গাইড বই। চাইলে নবম-দশম শ্রেণির গণিতের সংশ্লিষ্ট অধ্যায় সলভ করে নিতে পারেন।

ঐকিক নিয়ম, গড়, শতকরা, সুদকষা, লসাগু, গসাগু, অনুপাত ও সমানুপাত, লাভক্ষতি, রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, বৃত্তসংক্রান্ত উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, অনুসিদ্ধান্ত : আগের বছরের প্রশ্ন, গাইড বই।

সূচক ও লগারিদম, সমান্তর ও জ্যামিতিক প্রগমন, সেটতত্ত্ব, ভেনচিত্র, সংখ্যাতত্ত্ব : গাইড বই ও নবম-দশম শ্রেণির গণিতের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়।

বিন্যাস ও সমাবেশ, স্থানাংক জ্যামিতি : গাইড বই, একাদশ শ্রেণির বই থেকে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়।

সম্ভাবনা : গাইড বই, দ্বাদশ শ্রেণির বিচ্ছিন্ন গণিতের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়।

মানসিক দক্ষতার প্রশ্নগুলো একটু ঘোরানো হওয়ারই কথা। মাথা ঠাণ্ডা রেখে, ভালোভাবে প্রশ্ন পড়ে, এদিক ওদিক না তাকিয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে উত্তর করতে হবে। চার-পাঁচটি গাইড বই ভালোভাবে পড়ে ফেলুন।

গাইড বই, আইকিউ টেস্টের বই, আর গুগলে সার্চ করে বিভিন্ন সাইটে ঢুকে এই অংশটি নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে পারেন। এ অংশে ফুল মার্কস পাবেন না, এটা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিন।

সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশের জন্য আগের বছরের প্রশ্নগুলো আর দুই-তিনটি গাইড বইয়ের সাজেশনসের প্রশ্নগুলো প্রথমেই যথেষ্ট সময় নিয়ে কয়েকবার খুব ভালোভাবে পড়ে ফেলুন। এই অংশে সাধারণত সায়েন্সের স্টুডেন্টরা মার্কস কম পায়। এর কারণ হলো, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে অনেকেই ঠিকভাবে প্রস্তুতি নেয় না। বিজ্ঞানে বানিয়ে বানিয়ে লিখুন কম। প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র, সংকেত, সমীকরণ দিতে পারলে আপনার খাতাটা আর দশজনের চেয়ে আলাদা হবে। মাথায় রাখুন, ১০ মার্কসের একটি প্রশ্ন উত্তর করার চেয়ে ৪+৩+৩ = ১০ মার্কসের তিনটি প্রশ্নের উত্তর করা ভালো। এখন কোন অংশটি কোথা থেকে পড়তে পারেন, সেটা নিয়ে বলছি।

আলো, শব্দ, চৌম্বকবিদ্যা : গাইড বই, নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র।

অম্ল, ক্ষারক, লবণ : নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, একাদশ শ্রেণির রসায়ন।

পানি, আমাদের সম্পদসমূহ, পলিমার, বায়ুমণ্ডল, খাদ্য ও পুষ্টি, জৈবপ্রযুক্তি, রোগব্যাধি ও স্বাস্থ্যের যত্ন : গাইড বই, ইন্টারনেট, নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি : গাইড বই, ইন্টারনেট, পিটার নরটনের ইন্ট্রোডাকশন টু কম্পিউটারস, উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র।

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক টেকনোলজি : গাইড বই+উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র।

সিলেবাস দেখে টপিক ধরে ধরে কোনটা কোনটা দরকার, শুধু ওইটুকুই ওপরের বইগুলো থেকে পড়বেন (গাইডেও অনেক কিছু দেওয়া থাকে, যেগুলোর কোনো দরকারই নেই)। চাইলে বই না কিনে যতটুকু দরকার ততটুকু ফটোকপি করে নিতে পারেন। টপিকগুলোকে ইন্টারনেটে সার্চ করে পড়লে খুবই ভালো হয়। বেশি বেশি প্রশ্ন স্টাডি করে প্রশ্নের ধরন বোঝার চেষ্টা করুন, এতে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন পড়ে সময় নষ্ট হবে না।

এই সময়টাতে এদিক-ওদিক না দৌড়ে, বাসায় বেশি সময় দিন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রধান সমস্যাটাই হলো, প্রিপারেশন প্রিপারেশন ভাব, প্রিপারেশনের অভাব! বিসিএস লিখিত পরীক্ষা দেওয়া অত সোজা না। এটা ঠিক, এ পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ফেলতে পারবেন। কারণ এ পরীক্ষায় ফেল করা আসলেই কঠিন। শুধু পাস করার সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ভাইভা পরীক্ষা দিতে পারবেন, আর কিছু না। আপনার টার্গেট পাস করা নয়, চাকরি পাওয়ার মতো বেশি নম্বর পেয়ে পাস করা।

যদি ঠিকভাবে বুঝেশুনে পরিশ্রম করেন আর সেটাকে কাজে লাগাতে পারেন, তবে ভালোভাবে পাস করার যথার্থ পুরস্কার হিসেবে চাকরিটা পাবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা