kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চৌকস

মডেলিংয়ের অহনা

পিন্টু রঞ্জন অর্ক   

১৪ মে, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মডেলিংয়ের অহনা

অহনা ছবি : নাভিদ ইশতিয়াক তরু

বয়স সবে ছয়। এরই মধ্যে ২৫টি বিজ্ঞাপনচিত্র করে ফেলেছে। রেডিও বিজ্ঞাপনেও কণ্ঠ দিচ্ছে। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও শিখছে এই খুদে প্রতিভা।

বিজ্ঞাপন

আবৃত্তিতেও বেশ ভালো সৈয়দা নাইয়ার সুলতানা অহনা

ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি লেগে থাকে সারাক্ষণ। এই বয়সে যেমন দুষ্টুমিতে মেতে থাকার কথা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও নেই। একেবারে শান্তশিষ্ট। আরো বেশি অবাক হই, যখন অহনার বাবা জানালেন, ও এ পর্যন্ত ২৫টি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছে! একটু পর দেখা গেল আলোকচিত্রী যেভাবে বলছেন, ঠিক সেভাবেই ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছে। নানা অ্যাঙ্গেল থেকে ২০-২৫ মিনিট ধরে ছবি তোলা হলো। অহনার মুখে বিরক্তির চিহ্নমাত্র নেই!

অহনার পুরো নাম সৈয়দা নাইয়ার সুলতানা। বয়স মাত্র ছয় বছর। এই বয়সে অভিনয় করেছে গ্রামীণফোন, মোবিক্যাশ, প্রাণ মিস্টার নুডলস, ডোরিও বিস্কুট, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, বাটা, বসুন্ধরাসহ ২৫টি বিজ্ঞাপনচিত্রে। সম্প্রতি বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়েছে অহনা। যেটি কয়েক দিনের মধ্যেই টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার কথা। নিত্য উপহার, নাগরদোলা, অধুনা, আড়ংসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের মডেল হয়েছে বহুবার। অসংখ্যবার মডেল হয়েছে দেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের বিভিন্ন ফিচারে।

অটিস্টিক শিশুদের জীবনচিত্র নিয়ে নির্মিত টেলিফিল্ম 'নীল মেঘের রোদ'-এ মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে অহনা। এত্ত এত্ত যন্ত্রপাতি ও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় লাগে না- এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় অহনা, 'কিসের ভয়? ছবি তুলতে, অভিনয় করতে তো মজা লাগে আমার। '

অভিনয়ে হাতেখড়ি মাত্র তিন বছর বয়সে। বাবা মাহদীন একরাম জানালেন, "ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল আমাদের বাসায়। সঙ্গে সব সময় ক্যামেরা থাকত। তিনি মাঝেমধ্যে অহনাকে বলতেন, 'মামণি দাঁড়াও তো, তোমার একটা ছবি তুলি। ' যখনই তিনি আসতেন, তখনই ওর ছবি তুলে দিতেন। এভাবে ধীরে ধীরে ক্যামেরাভীতি কেটে যায় অহনার। "

প্রথম মডেল হয় দৈনিক জনকণ্ঠের 'ডেঙ্গু জ্বর' বিষয়ে লেখা একটা ফিচারে, ২০১১ সালে। তখন সবে তিনে পা দিয়েছে। এর পর থেকে নিয়মিতই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের লাইফস্টাইল পাতায় মডেল হতে থাকে অহনা। সেই সঙ্গে অভিনয় করতে থাকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে। এ পর্যন্ত অভিনয় করেছে দিলারা জামান, শারমিন লাকী, অপূর্ব, লাক্স সুপার স্টার মিলাসহ অনেক গুণী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে। তার মা শারমিন সুলতানা জানান, 'অন্য শিশুদের নিয়ে কাজ করতে হলে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে শুটিং ইউনিটের সঙ্গে রাখা হয়, যাতে সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু অহনার ক্ষেত্রে তেমনটা করা লাগে না। এ কারণে যে পরিচালক একবার ওকে নিয়ে কাজ করেছেন, তিনি আর বিকল্প খোঁজেন না। '

রেডিওতে প্রচারের জন্য বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে কণ্ঠ দিচ্ছে অহনা। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন নাচও শিখছে এই খুদে প্রতিভা। আবৃত্তিতেও বেশ ভালো। স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিতই আবৃত্তি করে।

মডেলিং নয়, অহনার কাছে সবার আগে পড়াশোনা। ইংরেজি মাধ্যমে কেজি ওয়ানে পড়ছে রাজধানীর গ্রিন হেরাল্ড স্কুলে। দিনের পড়া দিনেই শেষ করে। নিয়মিত করে বাড়ির কাজ। এ জন্য স্কুলে শিক্ষকরা পছন্দ করেন ওকে। বন্ধুদেরও সে প্রিয়। অহনা জানায়, 'বন্ধুরা মাঝেমধ্যে তার কাছে শুটিংয়ের গল্প শুনতে চায়। তাদেরকে আগ্রহ নিয়েই শুটিংয়ের গল্প বলি। '

অহনা জানায়, 'শুটিংয়ের সময় আমি যা বলি, তা শোনে সবাই। যদি বলি, পানি খাব। তখন শুটিং বন্ধ করে আমাকে পানি এনে দেয়। '

নিয়মিত মডেলিং করলেও বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায় অহনা।

 

 



সাতদিনের সেরা