kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেরা বাংলাবিদ শাহেদ

১১ অক্টোবর রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা ভাষা নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় মেধাভিত্তিক টিভি রিয়ালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এর তৃতীয় বর্ষের মহোৎসব। সেখান থেকে ঘুরে এসে অনুষ্ঠানের বৃত্তান্ত ও সেরা বাংলাবিদের গল্পটা জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সেরা বাংলাবিদ শাহেদ

মাঝখানে সেরা বাংলাবিদ শাজেদুর রহমান, বাঁয়ে দ্বিতীয় অন্তিকা জান্নাত এবং ডানে তৃতীয় অয়ন চক্রবর্তী

চ্যানেল আইয়ের পর্দায় বাংলাবিদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পর্বগুলো দেখে প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে শাহেদ। তাই তৃতীয় বর্ষে নিবন্ধনের সুযোগ হাতছাড়া করেনি। বন্ধুরা শুরুতেই বাদ পড়ে গেলেও দমে যায়নি বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহেদ। বাংলায় তার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের একের পর এক ধাপ পেরিয়ে চলে আসে মহোৎসবে। মহোৎসবের পর্বগুলোর মধ্যে শুরুতেই ছিল ‘আমার পছন্দ’। শাহেদ সাহিত্য বিভাগ বাছাই করে। তিনটি প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দেয়।  অন্যদের তিনটি উত্তর চ্যালেঞ্জ করে ১৫ নম্বর পেয়ে যায়। আমার পছন্দ পর্বেই শাহেদ পেয়ে যায় ৩০ নম্বর। তখন অন্যদের নম্বর ছিল ১০। তার পরের খেলাগুলো ছিল ঘণ্টা বাজিয়ে উত্তর দেওয়ার। ওলটপালট, বলো তো কে, গানের খেলা এবং  প্রশ্নঝড় শেষে ৯৪ নম্বর নিয়ে সেরা বাংলাবিদ হয়ে যায় শাহেদ। জানাল, এই গোটা ভ্রমণটাই অনেক মজার স্মৃতি আর অভিজ্ঞতায় ভরপুর। বিশেষ করে ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিযোগীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো খুবই মনে পড়ে। দল বেঁধে কখনো আবৃত্তিচর্চা করত। একে অন্যের পড়ার কাজে টুকটাক সাহায্য করত। ‘একবার তো আম কেটে এক প্রতিযোগী বন্ধুর জন্মদিন পালন করেছিলাম। আমরা কখনো বাথরুমের পাশে বিকট আওয়াজ করে অন্যদের ভয় দেখাতাম। এভাবে মজার সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমাদের সময়গুলো দারুণ কাটত।’ বলল শাহেদ। মজাদার সব খাবারের ব্যাপারে বিশেষ দুর্বলতা আছে তার। বিশেষ করে মায়ের হাতের রান্না হলে তো কথাই নেই। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। তার সংগ্রহে থাকা বইয়ের সংখ্যাও কম নয়। কিছু টাকা হাতে এলেই চলে যায় বইয়ের দোকানে। বই আর পত্রিকা হাতে থাকলে আর কিছু লাগেই না তার। পত্রিকার সম্পাদকীয় ও খেলার পাতার প্রতি আগ্রহ বেশি। ‘বাংলাবিদ অনুষ্ঠান থেকে বেশ কতগুলো বই উপহার পেয়েছি। আগ্রহী বন্ধুদেরসহ মাঝে মাঝে নতুন বই নিয়ে আলোচনা করি। ভবিষ্যতে এই বইগুলো দিয়ে একটি পাঠাগার গড়ার ইচ্ছা আছে।’ অবসর কাটে টেলিভিশনে সিনেমা ও কার্টুন দেখে। আবৃত্তিচর্চাও মাঝেমধ্যে করে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কিংবা খেলাধুলাও তার খুব পছন্দ। বিদ্যালয়ে সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও বিজ্ঞানসভার নিয়মিত সদস্য। রচনা, আবৃত্তি, কুইজে পুরস্কার আছে অনেক। আন্ত ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ কুইজ প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে। সহকারী স্কুল ক্যাপ্টেন সে। রক্তদান, মাদক নির্মূল ইত্যাদি অভিযানে দলগতভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বন্ধুদের নিয়ে  শোভাযাত্রা ও কর্মশালা আয়োজন করেছিল, যেখানে ডেঙ্গুর চিকিৎসা, প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হতে চায়। শাহেদ বলল, ‘জীবনে যেখানে যেমন থাকি না কেন, বাংলার সঙ্গে সম্পর্কটা সব সময় অবিচ্ছেদ্য রাখতে চাই। বিশেষত চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চায় বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করতে চাই। সেরা বাংলাবিদ হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বলল, ‘বাংলাবিদ নিয়ে স্বপ্ন ছিল বহুদিন ধরেই। আজ সে স্বপ্নটা সত্যি হওয়ায় দারুণ খুশি আমি। গুণীজনের সান্নিধ্য, অনেক নতুন বন্ধুর সঙ্গে পরিচয়—এসব আমার ভবিষ্যৎ জীবনে চলার পাথেয় হয়ে থাকবে। বাংলাবিদকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার জীবনকে রাঙিয়ে তোলার জন্য।’

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র পি কে এম শাজেদুর রহমান শাহেদ সেরা বাংলাবিদ হওয়ায় পায় ১০ লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। দ্বিতীয় স্থান দখল করে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তিকা জান্নাত পেয়েছে তিন লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। তৃতীয় স্থান অধিকারী বরিশাল জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র অয়ন চক্রবর্তী পেয়েছে দুই লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। এ ছাড়া  প্রথম ১০ জন প্রতিযোগীর প্রত্যেকে পেয়েছে একটি ল্যাপটপসহ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি করার জন্য ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের বাংলা বই ও বইয়ের আলমারি।

 

একনজরে বাংলাবিদ

নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ বাংলা, বানান ও বাংলা ভাষার ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে ইস্পাহানি মির্জাপুর আয়োজন করে এ প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় শুদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যবহার, বানানচর্চা, শুদ্ধ উচ্চারণ ও ব্যাকরণের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় শেষে চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের বাছাই করা হয়। সারা দেশ থেকে ৮৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধন হয়। বিভিন্ন বিভাগের বাছাই পর্ব শেষে সেরা ৮০ জনকে নিয়ে চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে ধারণ করা হয় মূল পর্বগুলো। সেরা ছয় প্রতিযোগীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মহোৎসব।  প্রধান বিচারক হিসেবে  দায়িত্ব পালন করেন সাহিত্যিক ও কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার। এ ছাড়া অতিথি বিচারক হিসেবে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মহোৎসবে উপস্থিত ছিলেন। মহোৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা