kalerkantho

ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ

বিচারকদের অভিজ্ঞতা

চ্যানেল আইয়ে তৃতীয়বারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে বাংলা ভাষা নিয়ে নির্মিত মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং টেলিভিশন রিয়ালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ২০১৯’-এর চূড়ান্ত পর্ব। ইস্পাহানি মির্জাপুরের উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের আটটি বিভাগের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। দেশসেরা বাংলাবিদ পুরস্কার হিসেবে পাবে ১০ লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী পাবে যথাক্রমে তিন ও দুই লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। তাহের শিপনের পরিচালনায় এই প্রতিযোগিতার তিন বিচারক কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার। তাঁদের মুখোমুখি হয়েছিলেন আফরা নাওমী

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিচারকদের অভিজ্ঞতা

তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে আশাবাদী হতে পারছি

আনিসুল হক

শুরু থেকেই যুক্ত বাংলাবিদের সঙ্গে। খুব মহান উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাবিদ। বাংলাদেশে বাংলা ভাষাবিষয়ক প্রথম রিয়ালিটি শো বাংলাবিদ। বাংলা ভাষার নানা মজার দিক, রহস্য, ভালোমন্দ, সৃজনশীলতা, প্রতিযোগিতা সব যখন এর মধ্যে উঠে আসে, আর যখন বাচ্চারা বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিয়ে জিতে যায়, তখনই জিতে যায় আমাদের বাংলা ভাষা। এভাবে বাংলা ভাষা নিয়ে সারা দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে যেমন আগ্রহ তৈরি হচ্ছে, অভিভাবকদের মধ্যেও সমানভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। বাংলাবিদের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এর মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে আশাবাদী হতে পারছি। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কিশোর-কিশোরীরা যেভাবে উত্তর দেয়, তা শুনে আমি মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হই। বাংলা ভাষার কাছে আমাদের যে দায়বদ্ধতা, সেটাই আবার স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলাবিদ।

বিচারক হিসেবে বাংলাবিদে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা হয়। আমরা তিন বিচারক কে কী করি, বাচ্চারা সেটা নকল করে দেখায়। যেমন—আমি বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাঝে মাঝে খাই আর দুই হাতে ধীর লয়ে কিন্তু অত্যন্ত জোড়ে হাততালি দিই, আবার আমি চুলে হাত দিই কিছুক্ষণ পরপর। এই সব আচরণ তারা খুব চমত্কারভাবে অনুকরণ করে দেখায়।

বাংলা ভাষার গোটা বিষয় আসে বাংলাবিদের প্রশ্নে

সৌমিত্র শেখর

বাছাই পর্ব ও মূল পর্ব—এই দুটি পর্বে বিভক্ত বাংলাবিদ রিয়ালিটি শো। সারা দেশ থেকে অংশ নেওয়া ছেলে-মেয়েদের মধ্যে থেকে বাছাই পর্বে জ্ঞান, মনন, মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একাধিক পর্যায় পেরিয়ে ঢাকায় চ্যানেল আই স্টুডিও রাউন্ডে আসে ২০ জন। এরপর ধাপে ধাপে নির্বাচিত হয় সেরা কয়েকজন অংশগ্রহণকারী। বাংলা ভাষার গোটা বিষয় আসে বাংলাবিদের প্রশ্নে। এখানে সাহিত্যের লাইন তুলে এনে কোন সাহিত্যের জানতে চাওয়া হয়, সিনেমার গান বাজিয়ে কোন চলচ্চিত্রের গান এবং গান শুনিয়ে জানতে চাওয়া হয় কোন গায়কের নাম, মূকাভিনয়ের মাধ্যমেও চিহ্নিত করতে হয় চলচ্চিত্রের নাম। সৃজনশীল লেখা, কুইজ, ব্যাকরণ সবই অন্তর্ভুক্ত এর মধ্যে। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি—সামগ্রিক বাংলাকে জানার একটা ক্ষেত্র বাংলাবিদ। এ ছাড়া বাচ্চারা এখানে ক্যাম্প করে একত্রে থাকে। তারা অর্জন করছে বন্ধুত্ব, মা-বাবা ছেড়ে একা থাকার সাহস, একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতাসহ আরো অনেক কিছু; যা তাদের এগিয়ে রাখবে আর দশজন থেকে। বাংলাবিদের জন্মলগ্ন থেকেই আছি। বাংলাবিদ রিয়ালিটি শোর মূল উদ্দেশ্য শুদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যবহার, শুদ্ধভাবে বাংলা বানান লেখা, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করা এবং সার্বিকভাবে বাংলা ভাষাকে আয়ত্ত করা। যেমন এক পর্বে একটি কিশোর ইন্টারনেট শব্দ শুনে খুবই নাখোশ হলো। কারণ আমরা শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার চর্চা করছি এখানে। তাই সে আমাদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলল ‘ইন্টারনেট নয়, হবে অন্তর্জাল!’ তার এ রকম একটি আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি আমাদের অভিভূত করে, আশান্বিত করে তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে।

বাচ্চারা যা জানে, তার অনেক কিছুই আমার জানা নেই

ত্রপা মজুমদার

বাংলাবিদের প্রথম বর্ষে যখন অতিথি হিসেবে এক পর্বে এসেছিলাম, তখন মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তাই যখন এর সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, রাজি হয়ে যাই। নিজেকে সমৃদ্ধ করার একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম এই বাংলাবিদ। এখানে বাচ্চারা যা জানে, তার অনেক কিছুই আমার জানা নেই। আনন্দের মাঝে যখন বাচ্চারা শেখে এবং আমিও শিখি ওদের থেকে, দারুণ উপভোগ করি সেটা।

আমরা অনেক সময়েই ঢালাওভাবে মন্তব্য করে থাকি, আমাদের ছেলে-মেয়েরা বাংলা পারে না। তারা পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও ইংরেজি ভাষার দিকে বেশি ঝুঁকে যাচ্ছে। কিন্তু এই বাক্যটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাবিদ। বাংলাদেশে আসলে এখনো অসংখ্য বাচ্চা আছে, যারা বাংলার চর্চা করে, বাংলায় চিন্তা করে এবং বাংলাকে ভালোবাসে। বাংলাবিদ এই বিষয়টিকে আরো একবার সামনে তুলে ধরে। এবারের বাংলাবিদে ‘সৃজনশীল লেখা’ নামে একটি পর্ব ছিল। সেখানে একজন বাচ্চা তার হতাশা নিয়ে লেখে। ও সব সময় হতাশায় থাকে। কারণ ওর মা-বাবা ওকে নিয়ে সব সময় অভিযোগ করেন। তার পেছনে এত পরিশ্রম করার পরে কেন আশানুরূপ ফল সে মা-বাবাকে দিতে পারছে না—এই তাদের অভিযোগ। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের ছেলে-মেয়ে এবং ওর বন্ধুদের সঙ্গেও তুলনা করে। এটা ওকে আরো বেশি নিরুত্সাহিত করে ফেলে। সে হীনম্মন্যতায় ভোগে, হতাশায় ভোগে। এই বিষয়টি আসলে প্রত্যেক মা-বাবারই জানা উচিত। আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করা কখনোই উচিত নয়। কেননা একেক শিশুর একেক প্রতিভা, প্রতিটি শিশুই অনন্য। লেখাটা পড়ে আমি বাচ্চাটার অবস্থান অনুভবের চেষ্টা করেছি। কখনো সুযোগ হলে আমি তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলব।

 

 

মন্তব্য