kalerkantho

শস্য শুকাবে নিমিষে

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শস্য শুকাবে নিমিষে

টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার

শস্য উত্পাদন যতটা জরুরি, সংরক্ষণও তেমনই। বেশির ভাগ শস্য সংরক্ষণের প্রথম ও প্রধান ধাপ ড্রায়িং বা শুকানো। শস্য শুকানোর কাজটি কত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ, সেটি কৃষিপ্রধান দেশের অনেকেরই জানা। একবার ভাবুন তো, এমন যদি কোনো পরিবেশবান্ধব যন্ত্র থাকত, যেটির এক দিকে শস্য ঢেলে দিলে অন্যদিক দিয়ে নিমিষেই শুকিয়ে বের হয়ে যায়! এমনই এক যন্ত্রের উদ্ভাবন করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকার। ‘টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার’ নামের এই যন্ত্রের উদ্ভাবন একদিনে হয়নি। কৃষক বাবার ছেলে ড. সাজ্জাত যখন মালেশিয়ায় ‘টু স্টেজ ড্রায়িং’ বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন, তখনই তাঁর মাথায় এই যন্ত্র উদ্ভাবনের ভাবনা আসে। চোখের সামনে ভাসতে থাকে গ্রামবাংলার কৃষক-কিষানির মায়াভরা ম্লান হাসি। দেশে ফিরেই লেগে পড়েন গবেষণায়। কিন্তু দামি যন্ত্রপাতি ও গবেষণার জন্য ল্যাবরেটরির প্রয়োজন বাধা হয়ে দাঁড়ায়। থেমে না গিয়ে প্রকল্পটিতে অর্থায়নের জন্য কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনে (কেজিএফ) আবেদন করেন তিনি। সেটি মঞ্জুর হলে শুরু হয় তাঁর আসল লড়াই। অধ্যাপক ড. মো. মফিজুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মমিন শেখকে প্রজেক্ট কো-ইনভেস্টিগেটর এবং মো. হাছান তারেক ও মো. আখতারুজ্জামানকে সহযোগী করে চালিয়েছেন নিরন্তর গবেষণা। পেয়েছেন সুফলও।

অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকার মো. সোয়াদুজ্জামান সোয়াদ

বিদ্যুত্চালিত এই যন্ত্রে শস্যকে দুইবার উষ্ণ ও একবার শীতল করার মাধ্যমে আর্দ্রতা কমিয়ে শুকানো হয়। এই উষ্ণ করার কাজে জ্বালানি হিসেবে সামান্য পরিমাণ তুষ পোড়ানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাতাসের ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রূপান্তরিত করা হয়। অন্যদিকে তুষের ছাইয়ের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে প্রথম পর্যায়ে ভুট্টা বা ধান ফ্লুডাইজড বেড ড্রায়ার ব্যবহার করে চার মিনিটে ২৫-২৮ শতাংশ আর্দ্রতা থেকে ২০ শতাংশ আর্দ্রতায় নিয়ে আসা যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এলএসইউ বা সান ড্রাই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় আর্দ্রতা কমিয়ে আনা যায় ২০ থেকে ১২ শতাংশে। এভাবে যন্ত্রটির মাধ্যমে প্রতিদিন ১০-১২ টন শস্য শুকানো সম্ভব। দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে তৈরি এ যন্ত্রের পেছনে ব্যয় হয়েছে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা; হিসাবে যা অন্য যেকোনো দেশের এ ধরনের যন্ত্র নির্মাণ খরচের ছয় ভাগের এক ভাগ। ১৭ জুলাই দিনাজপুরের এলমিস অটো রাইস মিলে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে যন্ত্রটি বসানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই যন্ত্রটিকে আরো পরিমার্জিত, আরো পরিবেশ উপযোগী এবং উচ্চ শক্তিসম্পন্ন করার আশা রাখেন ড. সাজ্জাত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা