kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

গণিতের দুই কৃতী

রণদা প্রসাদ রায় ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে পড়তেন। ২৫শে মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। বন্ধুরা তাঁর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে বিভাগে একটি পুরস্কারের প্রবর্তন করেন। নাম ‘শহীদ রণদা প্রসাদ রায় অ্যাওয়ার্ড অব একাডেমিক এক্সিলেন্স’। সবচেয়ে ভালো ফল করা দুজন হিন্দু শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় এটি। এবার সেই পুরস্কার পেয়েছেন সুষমা পাল ও অতসী দাস। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন মীর হুযাইফা আল মামদূহ

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণিতের দুই কৃতী

সুষমা পাল

লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট জেভিয়ার্স গার্লস হাই স্কুল আর হলিক্রস কলেজে পড়েছেন সুষমা। স্কুলবেলা থেকেই গণিতে বেশ আগ্রহ ছিল। বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশও নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পছন্দের বিভাগ দিয়েছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। কিন্তু গণিত পাওয়ায়ও মন ভার হয়নি। গণিতকে দেখে নেওয়ার একটা ইচ্ছা পেয়ে বসেছিল তখন। প্রথম বর্ষে এসে অবশ্য কূল করতে পারছিলেন না। দুই রকম গণিত ছিল, কিছু অ্যানালিটিক, আর কিছু প্রায়োগিক। অ্যানালিটিক গণিত বুঝতে ঝামেলা হচ্ছিল তখন। বুঝতে পারছিলেন, এটা নিজের জন্য নয়। ওই বুঝতে গিয়েই প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলে এলো। ফল সিজিপিএ চারের মধ্যে ৩.৪৪। তার পর থেকে বুঝে গেলেন, কী করতে হবে। প্রথম বর্ষ থেকেই লেকচার নোট করলেও এবার শুরু করলেন পুরোদমে। যেসব বই সাজেস্ট করতেন স্যাররা, জোগাড় করে পড়ে ফেলতেন। দ্বিতীয় বর্ষে রেজাল্ট তাই ভালো হলো, পেলেন সিজিপিএ ৩.৭৬। আর চতুর্থ বর্ষের ফলাফল তাই হলো সিজিপিএ ৩.৬৯। বিভাগে হলেন ষষ্ঠ। বই সুষমার পছন্দ। থ্রিলার পড়েন। ফেলুদা যতবার পড়েন, নতুন লাগে। মাসুদ রানাও পড়েন। তবে পছন্দের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গোরা উপন্যাস পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন।

পড়াশোনায়ই মন ছিল বেশি। তাই আর কিছুতে মন দিতে পারেননি। তবে বিভাগের অনুষ্ঠানগুলোতে পারফর্ম করতেন। নেচেছেন, উপস্থাপনা করেছেন। এখন মাস্টার্স করছেন ফলিত গণিতে। বললেন, প্রায়োগিক গণিতের জন্যই ফলিত গণিত নেওয়া। ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা। তবে তার আগে বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চান।

মানুষের চেতনায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারেন শিক্ষকরা। সুষমার গড়ে ওঠার পেছনে শিক্ষকদের অবদান অনেক। বললেন, ‘মা-বাবা আমার ইচ্ছা পূরণের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। শিক্ষকদের কাছেও কৃতজ্ঞ আমি।’

অতসী দাস

অতসীর বাবা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। প্রতিদিন পাঁচটি করে অঙ্ক করল কি না, সেই খোঁজ নিতেন তিনি। বলতেন, ‘এটা তোমার গণিতভীতি দূর করবে।’ অতসীও নিয়মিত করতেন বাবার দেওয়া কাজ। সেই গণিতের সঙ্গেই যে তাঁর সম্পর্ক করতে হবে, তখন হয়তো ভাবেননি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভর্নমেন্ট মডেল গার্লস হাই স্কুল আর সরকারি কলেজে এসএসসি ও এইচএসসি দিয়েছেন অতসী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ৩.৫০-এর ওপর রেজাল্ট রাখবেন। সেই নিত্যকার পাঁচটি গণিত থেকে এসে পড়লেন সরাসরি গণিতের সাগরে। প্রথম বছর তাই সাঁতার কাটা শিখতেই লেগেছে। এই সময়ে বেশ সাহায্য করেছেন সিনিয়ররা। প্রথম বর্ষে ফল ৩.৩৩। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শুরু করেছেন পূর্ণোদ্দমে পড়াশোনা। বন্ধু বানিয়ে নিলেন ইবতিদাকে। একত্রে গ্রুপ স্টাডি করতে শুরু করলেন ওর সঙ্গে এবং আরো বেশ কিছু বন্ধুর সঙ্গে। সবাই মিলে সমস্যার সমাধান করতেন। এভাবে পড়তে পড়তেই গণিতে জয় এলো। চতুর্থ বর্ষ শেষ করলেন ৩.৬০ সিজিপিএ নিয়ে। প্রথম বর্ষের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন।

অতসীরও গণিতের অ্যানালিটিক্যাল অংশ অপছন্দ। তাই মাস্টার্স করছেন প্রায়োগিক ফলিত গণিতে। উচ্চশিক্ষার পর শিক্ষকতায়ই যাবেন। অতসী খেলতে পছন্দ করেন। হলের খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত আছেন। ফুটবল খেলেন হলের হয়ে, ডিফেন্সিভ মিডে খেলেন। এ ছাড়া ক্যারম, ক্রিকেট,  ব্যাডমিন্টন—এসবেও আগ্রহ আছে। কিন্তু পরীক্ষার সময় খেলা পড়ে বলে খেলা হয়ে ওঠে না আর। ছোটবেলায় ছেলেদের সঙ্গে খেলতেন, মেয়ে খেলার সাথি না পেয়ে। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করেন। তাতে বেশ শেখা যায়, বললেন অতসী। আড্ডা দিতে পছন্দ করেন। বিভাগের অনুষ্ঠানগুলোর আয়োজনে ছিলেন। এখন স্প্যানিশ ভাষা শিখছেন। স্পেনে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর।

মন্তব্য