kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেনে নাও

পেনসিল শার্পনার

ফয়সল আবদুল্ল্লাহ   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পেনসিল শার্পনার

দেয়ালে আটকানো শার্পনার

এখন যে পেনসিল শার্পনার দেখছ, সেটা যে এসেছে বেশিদিন হয়নি, তা তো জানা কথা। আগে তাহলে পেনসিলের ডগাটা চোখা করা হতো কী দিয়ে? একটু ভাবলেই পেয়ে যাবে উত্তর—ছুরি! কিন্তু ছুরি বা ধারালো চাকু দিয়ে কি আর নিখুঁত গোলগাল করে পেনসিল কাটা যায়? তা ছাড়া এভাবে কাটলে এবড়োখেবড়ো হয় বলে ছবি নিয়ে কাজ করাও মুশকিল। এ চিন্তা থেকেই ১৮২১ সালে প্যারিসের সি এ বাউচার সাহেব বানিয়ে ফেললেন গোলগাল ব্লেডযুক্ত একটা যন্ত্র। কোনো কষ্ট আর ঝুঁকি ছাড়াই তাতে ছেঁটে ফেলা যাচ্ছে পেনসিলের কাঠ। এবার আরামে তিনি তাঁর ফটোগ্রাফির কাজে ব্যবহার করতে পারলেন পেনসিল। তবে বাউচার যে ভুলটা করলেন, তিনি তাঁর এ শার্পনারের পেটেন্ট করেননি। বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার চিন্তাও তাঁর ছিল না। কাজটা করে ১৮২৮ সালে বাইন্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্যারিসে ছবি আঁকার সরঞ্জাম বিক্রি করত ওরা। পেটেন্ট লাভের পর বেশ কিছুদিন তারা বিক্রি করেছে শার্পনার। তবে আধুনিক শার্পনার তোমরা দেখছ, সেটার মালিক আবার আরেকজন। ১৮৩৩ সালে ইংল্যান্ডের কুপার অ্যান্ড ইকস্টেইন প্রতিষ্ঠান সমকোণে বসানো দুটি ধারালো টুকরো পাশাপাশি বসিয়ে বানিয়ে ফেলল ছোটখাটো আরেকটি শার্পনার। পরে ওটারই ধারাবাহিকতায় ১৮৪৭ সালে ফরাসি আবিষ্কারক থিয়েরি দেস তৈরি করলেন আরো সাধারণ, আরো হালকা একটি শার্পনার। তাঁর ওই শার্পনারটিই পরে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে যায়।

এখন যেমন সহজে পেনসিল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শার্প করা হয়, আগে সব সময় এমনটা ছিল না। রেজর ব্লেডযুক্ত একটা শার্পনার ছিল, যাতে ছেঁচে ছেঁচে পেনসিল ধার করতে হতো। আবার দেয়ালে হুক দিয়ে বসিয়ে পেনসিল ধারালো করার একটা জগদ্দল শার্পনারও একসময় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ১৯৪০ সালেই কিন্তু একটা বৈদ্যুতিক পেনসিল শার্পনার এসেছিল বাজারে। সেটা অবশ্য দামের কারণে বাজার পায়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা