kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

সাফল্য

কমার্স কলেজই সেরা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ডে তিন-তিনটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে ঢাকা কমার্স কলেজ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কমার্স কলেজই সেরা

ঢাকা কমার্স কলেজে ঢুকেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপ হলো। সবাই বেশ উত্ফুল্ল। একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী সামিহা তাসনিম ও হুমায়রা আক্তার। তারা জানাল, কলেজের অর্জনে তারা ভীষণ গর্বিত। হওয়ারই কথা। কারণ একটি-দুটি নয়, কলেজটির কপালে জুটেছে তিন-তিনটি শ্রেষ্ঠত্বের তিলক। অবশ্য অর্জনগুলো ঠিক এইচএসসি পর্যায়ের নয়। ঢাকা কমার্স কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরও পড়ানো হয়। সুখবরগুলো এসেছে এই উচ্চতর পর্যায়ের পড়াশোনাকে ভিত্তি করে। সেই ভিত্তিতে কলেজটি ২০১৭ সালের সেরা বেসরকারি কলেজ, ঢাকা অঞ্চলের সেরা কলেজ এবং সেরা প্রাক-মডেল কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তিনটি স্বীকৃতিই জুটেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

২০১৫ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলো নিয়ে একটা বার্ষিক র্যাংকিং তৈরি করছে। সেটা তৈরি করা হচ্ছে ৩১টা কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটরের (কেপিই) ভিত্তিতে। এগুলোর মধ্যে পাঁচটা ইন্ডিকেটর ফ্যাকাল্টি রিসোর্সেস বিষয়ক, তিনটা একাডেমিক এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রেপুটেশন বিষয়ক, ১৪টা ফিজিক্যাল বা একাডেমিক ফ্যাসিলিটিজ বিষয়ক, ছয়টা একাডেমিক পারফরম্যান্স বা এচিভমেন্ট বিষয়ক ও তিনটা এক্সট্রা কারিকুলাম বিষয়ক। এই বার্ষিক র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে প্রতিবছর সেরা কলেজের পাঁচটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে—সেরা মহিলা কলেজ, সেরা সরকারি কলেজ, সেরা বেসরকারি কলেজ, আটটি বিভাগের সেরা কলেজ এবং সারা দেশের সেরা কলেজের তালিকা। এর মধ্যে ঢাকা কমার্স কলেজ যে তিন তালিকায় বিবেচিত হয়, ২০১৭ সালের র্যাংকিংয়ে তার দুটিতেই আছে সবার ওপরে। ৬১.৮৪ পয়েন্ট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে সেরা বেসরকারি কলেজ ও ঢাকা অঞ্চলের সেরা কলেজ হিসেবে। আর সারা দেশের সেরা কলেজের তালিকায় আছে ছয়ে। শুধু তা-ই নয়, দুই শ্রেষ্ঠত্বের একটি, সেরা বেসরকারি কলেজ নির্বাচিত হলো এই নিয়ে টানা তিনবার। মানে এই র্যাংকিং শুরু হওয়ার পর প্রতিবারই এই বিভাগে সেরা হয়েছে ঢাকা কমার্স কলেজ।

সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘মডেল কলেজ’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছে। সাধারণত বেসরকারি কলেজগুলো ক্যাম্পাস ও অবকাঠামোর দিক থেকে সরকারি কলেজগুলো থেকে পিছিয়ে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি কলেজগুলোকে সেসব ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের কলেজ বাছাইয়ের জন্যও একই র্যাংকিং ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে পাঁচটি ‘প্রাক-মডেল কলেজ’ বাছাই করা হয়েছে, যেগুলোকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মডেল কলেজে রূপান্তরিত করা হবে। এই তালিকায়ও সবার ওপরে স্থান করে নিয়েছে ঢাকা কমার্স কলেজ।

এমন অর্জনে আপ্লুত কলেজটির অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটাই ঢাকা কমার্স কলেজের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।’ অবশ্য কলেজটির এর আগের প্রাপ্তিগুলোও নিতান্ত কম নয়। ছয়বার জুটেছে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের সেরা কলেজের স্বীকৃতি। দুইবার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি নিয়ম আছে, এই স্বীকৃতি দুইবারের বেশি দেওয়া যাবে না। তাই জেতা হয়নি তৃতীয়বারের মতো। কিন্তু একই সঙ্গে তিন ক্যাটাগরিতে সেরা। তার মধ্যে একটি আবার পরপর তিনবার! এবারের অর্জনটা আসলেই বিশেষ কিছু।

এমন অর্জনের পেছনে কি কলেজটির বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল? অধ্যক্ষ জানালেন, ‘ঠিক পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি এমন নয়। তবে আমাদের কিছু পরিকল্পনার জন্যই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।’ এই যেমন শিক্ষার্থীদের ভালো ফল নিশ্চিত করতে কলেজটিতে বিশেষ কিছু কাজ করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই সঠিক সময়ে সব ক্লাসে উপস্থিত থাকছে—সেটা নিশ্চিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিশেষ গাইড ক্লাস করানো হয়। এর বাইরেও শিক্ষার্থীদের সব সমস্যার দেখভাল করার জন্য রয়েছেন শ্রেণিশিক্ষকরা। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের ব্যাপারেও কলেজের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হয়। নিশ্চিত করা হয়েছে অন্য প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। যেমন—প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, মিলনায়তন, গ্রন্থাগার ও তাতে প্রয়োজনীয় বইপত্র, ছেলে ও মেয়েদের পৃথক টয়লেট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, নিজস্ব ওয়েবসাইট ইত্যাদি। এমনকি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কেউ কলেজে না এলে অ্যাপসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে খবর চলে যায় তার অভিভাবকদের কাছে।

শুধু পড়াশোনাই নয়, কলেজটিতে নিয়মিত খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়। অবশ্য কলেজের নিজস্ব মাঠ খুব একটা বড় নয়। সে অভাব পূরণ করা হয় প্রয়োজনের সময় মাঠ ভাড়া করে। মডেল কলেজ প্রকল্পের অধীনে এসব বিষয়েই সহায়তা করা হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেরও বন্দোবস্ত আছে। আর সেসব আয়োজনে নেতৃত্ব দেয় শিক্ষার্থীরাই। কলেজটিতে ১৬টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্লাব ও ১৫টি খেলাধুলাবিষয়ক ক্লাব রয়েছে। শিক্ষার্থীরাই মূলত এসব ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ক্লাবগুলোর এই সক্রিয়তা শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার বোধই তৈরি করছে না, র্যাংকিংয়ে কলেজটিকে শীর্ষে তুলে আনতেও রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা