kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্যাম্পাস টিপস

ক্যাম্পাসে ভয়? শিখে নাও ছয় মন্ত্র

স্কুলে এখনো অনেকে নতুন। মানে এত দিনেও সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলতে পারোনি। আবার যাদের এসএসসি শেষ হতে চলল, তাদের জন্যও সামনে নতুন আরেকটি বিদ্যাপীঠ অপেক্ষা করছে। হাফপোস্ট ডটকম অবলম্বনে উটকো সেই ভয় কাটানোর মন্ত্র বলে দিচ্ছেন ফয়সল আবদুল্ল্লাহ

৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যাম্পাসে ভয়? শিখে নাও ছয় মন্ত্র

ভয়ের মুখোমুখি

যারা একেবারেই আত্মকেন্দ্রিক ও চুপচাপ ঘরানার, তারা নতুন স্কুল বা কলেজে গেলে কিসে ভয় পাও? ইট, বালু, সিমেন্ট বা ক্লাসরুমের পেছনের তালগাছটাকে নিশ্চয়ই নয়। ভয়ের কারণ হলো নতুন মানুষ, নতুন স্যার। আর এই ভয় কাটানোর এক নম্বর ফর্মুলা হলো ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাওয়া। যে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখে মনে হবে, এদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারবে না, প্রথম দিনেই তাদের সামনে চলে যাও। হাসিমুখে একটা কিছু জানতে চাও বা তাদের শিঙাড়া খাওয়ার নিমন্ত্রণ করো। দেখো এক দিনেই ভয় তো গায়েব, উল্টো অন্য রকম কিছু সাহসী বন্ধুও পেয়ে যাবে। প্রথমেই একেবারে নিজের মতো গোমড়া মুখে বা চুপচাপ বন্ধু খুঁজতে যেয়ো না।

 

দ্রুত বদলাও

স্কুল-কলেজে ঢোকার পরপরই অনেক অনেক ক্লাবের মুখোমুখি হবে। বিতর্ক ক্লাব, ফুটবল ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি ইত্যাদি। শুরুতে দেখা গেল, বন্ধুদের চাপে বা নিজের অতি আগ্রহের কারণে সব কটায়ই ঢু মারতে চাইবে তুমি। তবে যদি দেখো যে তোমাকে দিয়ে একটা কিছু হচ্ছে না, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে। অর্থাৎ যদি দেখো বিতর্ক করতে গিয়ে বারবার অ্যাঁ, উঁ করছ কিংবা বিষয়টি তুমি উপভোগ করছ না, তবে ফুটবল বা অন্য কোনো খেলায় চেষ্টা করে দেখো। আবার দেখা গেল, সাঁতারে না পারলেও ক্যামেরায় ক্লিক করে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছ তুমি। তবে এ বাছাবাছিতে সময় নষ্ট করা চলবে না মোটেও।

 

ভালো বন্ধুদের কাছে কাছে

ভালো ভালো বন্ধু তো হবেই। তবে একবার হয়ে গেল বলে দুই দিনে একবারও খোঁজ নেবে না—এমনটা যেন না হয়। ক্লাসের পড়া বা পারিবারিক সময়টা বাদ দিয়ে যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকো। আর ধীরে ধীরে চেষ্টা করবে ভালো বন্ধুদের পরিবারের অংশ বানিয়ে নিতে। তাদের পরিবারকেও চলে আসতে বলবে তোমাদের বাসায়। ভালো সম্পর্কওয়ালা মানুষজন যত বাড়বে, পড়াশোনা থেকে ক্যারিয়ারে সেটা ততই মঙ্গল বয়ে আনবে।

 

শুরুতেই অন্য কিছু

ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি তোমার আগ্রহের আর কী জায়গা আছে, সেটার ওপর কী করে বাড়তি কোর্স করা যায়, সেটা ঠিক করার মোক্ষম সময় এখনই। তবে এটা করতে গিয়ে যেন মূল পড়ার খরচে চাপ না পড়ে। যে বিষয়টি তুমি নিজেই ভালো বোঝো ও অনায়াসে পড়ে শেষ করতে পারবে, সেটার জন্য বাড়তি করে অন্য কারো কাছে পড়ার দরকার নেই। বরং ফটোগ্রাফি, কারিগরি কোনো কাজ বা ছবি আঁকার ওপর একটা কোর্স করে নিতে পারো। ‘পরে শিখব’ কথাটা অভিধানে রেখো না। নতুন কিছু শেখার জন্য প্রতিটি দিনের গুরুত্বই সমান।

 

বাইরে যাও

স্কুল বা পড়ার ঘরের গণ্ডির মধ্যে সারা দিন আটকে থাকার মানে হয় না। ক্লাসের অন্তর্মুখী স্বভাবটা কাটাতে চাইলে তোমাকে বহির্মুখী হতেই হবে। এর জন্য আবার রাতের বেলায় না বলে হুট করে পার্টি করতে যেয়ো না। কোনো বিশ্বস্ত ও কাছের বন্ধুদের ডেকে নিয়ে শহর বা গ্রামের একপ্রান্ত থেকে ঘুরে আসতে পারো। সঙ্গে রাখো নোটবুক। যত পারো তথ্য টুকে নাও। এটা হতে পারে মজার একটা খেলা।

 

ভেতরে থাকো

এবার ঠিক উল্টোটা করার পালা। সারা দিন টইটই করে বাইরের জ্ঞান বাড়ালেই হবে না। মাঝেমধ্যে ঘরে নিজেকে আটকে রেখে বই আর ভালো কোনো সিনেমায় বুঁদ হয়ে যাও। এতে তোমার মধ্যে মানসিক চাপ কেটে গিয়ে একটা শিথিলতা ভর করবে। ক্যাম্পাসের উটকো ভীতি কাটাতে যা দারুণ একটা ওষুধ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা