kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই

রাখিল খন্দকার নিশান পড়েন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। গড়ে তুলেছেন সামাজিক সচেতনতামূলক সংগঠন—ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (ডিবিএফ)। মাদক, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, নারী নির্যাতনসহ নানা সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করাই মূল উদ্দেশ্য। নিশান ও তাঁর সংগঠনের কথা জানাচ্ছেন মুন্নি আক্তার ও মোহাম্মদ রনি খাঁ

৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই

নিশান তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীর বিয়ে ঠিক হলো। নিশান ভাবলেন, ‘এত ছোট একটি মেয়ে কিভাবে সংসার করবে?’ বিয়ে ঠেকাতে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গেলেন পুলিশ স্টেশনে। নিশ্চয়ই এঁদেরই কারো সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন অনুমান থেকে পুলিশ তাঁদের পাত্তা দিল না। তখনই অনুভব করলেন ব্যক্তি উদ্যোগের চেয়ে বরং সাংগঠিকভাবে এগোতে পারলে এসব ক্ষেত্রে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এসএসসি পরীক্ষা শেষে তিনি তাই বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘তরুণ উদীয়মান সামাজিক সংগঠন’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এ পর্যন্ত ৩৪টি বাল্যবিয়ে রোধ করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।

২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সংগঠনপ্রাণ এই তরুণের কর্মকাণ্ড আরো বেড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম ও সবচেয়ে বড় মাদকবিরোধী সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। সেই ‘স্টামফোর্ড মাদকবিরোধী ফোরাম (এসএডিএফ)’ প্রসঙ্গে নিশান জানান, ‘এই ফোরাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। গত বছর এটি এডুকেশন ওয়াচ সম্মাননা অনুষ্ঠানে সেরা সংগঠনের পুরস্কার পেয়েছে। আর আমাকে এনে দিয়েছে দেশের সেরা সংগঠকের পুরস্কার।’ এ ছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) সংগঠনের স্টামফোর্ড শাখাটির পাঁচবারের লিডার ছিলেন তিনি। সদস্যদের অনুপ্রাণিত করতে মেধা, যোগ্যতা, নেতৃত্ব, কাজের উদ্যোগ ও ব্যক্তিগতভাবে ভালো কাজ করার ওপর ভিত্তি করে ‘সেরা ইয়েস’ নির্বাচিত করে টিআইবি। সারা দেশের পাঁচ হাজার সদস্যের মধ্যে এ পর্যন্ত দুবার ‘সেরা ইয়েস’ হয়েছেন নিশান।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক, স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ম ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। এখন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নিয়ে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি জানান, ‘আমাদের স্বপ্ন অনেক বেশি বড়। মাদকের বিরুদ্ধে সারা দেশে গণজোয়ার তৈরি করতে চাই। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার করেছি। দুই বিশ্ববিদ্যালয়েরই উপাচার্যসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা তাতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জনসম্মুখে মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছি।’ মাদকবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি শিশুশ্রম, নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, পরিবেশদূষণসহ সব ধরনের সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করছে সংগঠনটি। নিয়মিতই আয়োজন করছে এ সংক্রান্ত নানা সভা-সেমিনার। গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশেষ স্কুলও, যেটি শিগগিরই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা