kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেনে নাও

জ্যামিতির কম্পাস

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জ্যামিতির কম্পাস

পুরনো দিনের কাঠের কম্পাস

কম্পাস বললেই দুটো ছবি মাথায় আসবে। একটা চুম্বক দিয়ে বানানো দিক বোঝার যন্ত্র, আরেকটা জ্যামিতি বাক্সের কাঁটাওয়ালা কম্পাস। দুটোর কাজে মোটেও মিল নেই, তবু নাম এক। তবে জ্যামিতির কম্পাসের কিন্তু আরেকটা নাম আছে—গ্যালিলিওর কম্পাস।

তার মানে বুঝতেই পারছ, গ্যালিলিওর সঙ্গে এর একটা সম্পর্ক আছে বৈকি। গুগল সার্চে জানা গেল গ্যালিলিওর কম্পাস ওরফে কাঁটাওয়ালা ক্যাম্পাসের জন্ম ১৫৯৭ সালে, ইতালির পাদুয়া শহরে। গ্যালিলিও তার গবেষণা-জীবনের একটা বড় সময় পাদুয়াতেই ছিলেন। আর ওই সময় জ্যামিতিক নকশা আঁকায় তার হাতেই প্রথম কম্পাস দেখা যায়। অবশ্য সম্পাদ্য-উপপাদ্য করার জন্য কিন্তু গ্যালিলিও কম্পাস বানাননি। ওই সময় কম্পাস দিয়ে সমরাস্ত্রের নিখুঁত নকশা ও ভূমি পরিমাপ করতেন তিনি। এমনকি এই কম্পাসটা কী করে সেনাবাহিনীর কাজে লাগবে, সেটা নিয়ে ১৬০৬ সালে ৬০টি প্রবন্ধও লেখেন গ্যালিলিও। সেই লেখাগুলো আবার চড়া দামে বিক্রিও করেন।

গ্যালিলিওর কম্পাস বাণিজ্যের এখানেই শেষ নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি ক্যাম্পাসের বাণিজ্যিক উত্পাদন থেকেও মোটা অঙ্কের লাভ পেতে থাকেন। এতে আবার চটে যান অনেক গণিতবিদ ও গ্যালিলিওর এক শিষ্য। কারণ তত দিনে জ্যামিতিক নকশা আঁকার কাজে অনেকেই যার যার মতো করে কম্পাস তৈরি করে ফেলেছিলেন। পরে সপ্তদশ থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত হরেক রকমের কম্পাস আসতে থাকে। আধুনিক কম্পাস আসে আরো অনেক পরে। গ্যালিলিওর সময়কার কম্পাসে পেনসিল লাগানোর জায়গা ছিল না। কম্পাসের কাঁটা দিয়ে সরাসরি কাঠ বা মাটিতে আঁচড় কেটে আঁকা হতো বৃত্ত ও বৃত্তচাপ। ওই সময়কার কম্পাস ছিল কাঠের, এখন যেটা তোমাদের জ্যামিতি বাক্সে থাকে, সেটা বানানো হয়, ইস্পাত কিংবা শক্ত প্লাস্টিক দিয়ে।

ফয়সল আবদুল্লাহ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা