kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেলিভিশন দেখা ছেড়ে দিয়েছিলাম

আদৃতা

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টেলিভিশন দেখা ছেড়ে দিয়েছিলাম

গল্পের বইয়ের সঙ্গে আদৃতা রায়ের সখ্য দ্বিতীয় শ্রেণী থেকেই। বড় বোনের উত্সাহেই প্রথম বই পড়া। ওটা ছিল মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। আদৃতা বলে, ‘রুমা দিদিকে জন্মদিনে ওর বান্ধবী আতিয়া আপু বইটা উপহার দেয়। দুজনেই আমাকে সব সময় বই পড়তে তাগাদা দিত। তারা স্থানীয় শহীদ রফিক স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য ছিল। তাদের পীড়াপীড়িতেই বইটি পড়া শুরু করি। মনে পড়ছে পড়া শেষ করে খুব কেঁদেছিলাম। দিদিরা অবশ্য তখন বুঝতে পারেনি, কী বিপদে পড়তে যাচ্ছে। এখন আমার বইয়ের বায়না মেটাতে গিয়ে হিমশিম খায়।’

আদৃতা প্রায়ই অনলাইনে বই কেনে দিদির নামে, তাকে না জানিয়েই। বই চলে যায় সোজা দিদির ঢাকার অফিসে। রিসিভ করে দামটাও দিতে হয় তাকেই। মাঝেমধ্যে অনুমতি নিয়েও কেনে। তখন বারবার ফোন দিয়ে জানতে চায় বই এলো কি না। দিদি কবে বাড়িতে আসবে? ওর বইপাগলামির কথা দিদির অফিসেও রটে গেছে। সবার কাছেই বইয়ের বায়না ধরে ও। মাঝে বিষয়টা এমন হয়েছিল যে বড়রা ভয়ে ওর কাছে ভিড়ত না, বই কিনে দিতে বলে যদি।

নতুন পোশাকের চেয়েও বই কিনতে বেশি পছন্দ করে ও। বই চুরি করেনি কখনো তবে চুরি করে অনেক বই পড়েছে, সবার মতোই পাঠ্য বইয়ের নিচে লুকিয়ে রেখে। মায়ের কাছে ধরাও খেয়েছে কখনো কখনো। ‘বইয়ের নেশা এতটাই প্রবল ছিল যে টেলিভিশন দেখা ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ জানাল আদৃতা।

আদৃতার সংগ্রহেও রয়েছে বহু বই। একবার এক বান্ধবী বই ধার নিল। যখন ফেরত দিল তখন দেখা গেল বইয়ের মধ্যে দাগ। এই অপরাধে বান্ধবীর কাছ থেকে মোটাসোটা তিনটা বই আদায় করে। এই খবর বন্ধুমহলে রটে গেল। দস্যুরানি নাম পড়ে যায়। এরপর থেকে কেউ সহজে বই ধার নেয়নি। আর নিলেও সাবধানে যত্ন করে পড়ত।

আদৃতাও এখন শহীদ রফিক স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য। সেখান থেকে নিয়ে প্রচুর বই পড়েছে। এ ছাড়া খরঃসড়ংঢ়যবত্ব  নামে একটা ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। এখানে সব বইপোকাদের আস্তানা। এখানে নিজের মতো অনেক বইপ্রেমী মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে ওর। বই নিয়ে লম্বা আড্ডাও দেওয়া যায়।

বইমেলা থেকে বই কেনা শুরু করেছে দুই বছর হলো। অনুভূতিটা দারুণ। চারদিকে বই আর বই। কোনটা ছেড়ে কোনটা নেবে, সেটাই বুঝতে পারে না।

আদৃতা পড়ছে মানিকগঞ্জের খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন কলেজের একাদশ শ্রেণিতে। ওর পছন্দের লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও জে. কে. রাওলিং। মুক্তিযুদ্ধ, থ্রিলার ও রোমান্টিক গল্পের বই ভালো লাগে। পছন্দের বইয়ের তালিকায় রয়েছে আমার বন্ধু রাশেদ, সাতকাহন এবং ফেলুদা, শার্লক হোমস, হ্যারি পটার, কাকাবাবু ও মিসির আলি সিরিজ।  

গ্রন্থনা. নাঈম সিনহা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা