kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

সিলেট চলচ্চিত্র উৎসব

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হলো তিন দিনের দারুণ এক চলচ্চিত্র উৎসব। সেখানে ৬৬টি দেশের ৭০টি ছবি দেখানো হয়। সেই আয়োজনের গল্প শোনাচ্ছেন উৎসবের পরিচালক ইফতেখার ফাগুন

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেট চলচ্চিত্র উৎসব

একসঙ্গে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের বন্ধুরা

আমাদের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদটি বলতে গেলে নতুনই। গেল বছর মার্চে এর যাত্রা। তার পরও একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কারণ একটি চলচ্চিত্র সংসদের অন্যতম দায়িত্ব হলো চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা। ২০১৫ সালের অক্টোবরে এক সভায় এই আইডিয়ার কথা বলেছিলাম। সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ উদ্দিন বিন নূরসহ সবাই এই প্রস্তাবে খুশি মনেই সায় দিলেন। এর পর থেকে কাজ শুরু হলো। পৃষ্ঠপোষকের জন্য সংসদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস ও অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান হাওলাদারের সঙ্গে কথা বললাম। আর সংগঠনের একটি ওয়েবসাইটও (saufs.org) তৈরি হলো। আমরা নিজেরাই সেটি বানিয়েছি। তাতে উৎসবের কথাও বলা হলো। স্যারদের সাহায্যে নানা প্রতিষ্ঠানের কাছে গেলাম। তবে কেউই প্রথমে সাহায্য করতে রাজি হলেন না। কিন্তু কাজ থেমে থাকেনি। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও শিশু নির্মাতা—এই তিন বিভাগে সিনেমা জমা নেওয়া শুরু হলো। সত্যি বলছি, এত সাড়া পাব কোনো দিন ভাবিনি। প্রথম দুই দিনেই ওয়েবসাইটে সাড়ে ৩০০-র মতো সিনেমা জমা পড়ল। ফলে স্পন্সর পাইনি, উৎসব হবে কি হবে না—এই শঙ্কা একেবারেই কেটে গেল। পুরোদমে কাজে নেমে পড়লাম। কয়েকটি সভায় কারা অতিথি হবেন, কারা হবেন জুরি, উৎসব প্রাঙ্গণ সাজানো, সংবাদ সম্মেলন—সবই ঠিক করে ফেললাম। আরো সিদ্ধান্ত হলো, নিজেরাই চাঁদা তুলে, স্যারদের সহযোগিতা নিয়ে উৎসব করে ফেলব। বাছাই কমিটি প্রাথমিকভাবে ছবিগুলো বাছাই করল। এর মধ্যে অমিতাভ রেজা, ইশতিয়াক জিকো ও মুক্তাদির ইবনে সালাম আমাদের প্রস্তাবে সায় দিয়ে বললেন, তাঁরা সিলেটে আসবেন, বিচারক থাকবেন। ফলে আমাদের ঠেকায় কে? তাঁদের কাছে বাছাই করা ছবিগুলো পাঠানো হলো। আরেকটি দল তিন দিনের চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সময়সূচিও ঠিক করে ফেলল। মোরশেদুল ইসলাম, শামীম আখতার, আবু শাহেদ ইমন ও শুভাশীষ রায় তাঁদের সিনেমা ও পরামর্শ দিয়ে ঋণী করে ফেললেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র সমালোচক, সংগঠক ও আমাদের উৎসব উপদেষ্টা প্রেমেন্দ্র মজুমদারও যখন যেমন প্রয়োজন সাহায্য করলেন। বরেণ্য লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক ও রুশ কালচারাল সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার দেমিনও অনেক করলেন। তাঁদের ভালোবাসা, পরামর্শ, সহযোগিতা ও আমাদের শ্রম-ঘামে ১৪ মার্চ শুরু হলো ‘সিলেট চলচ্চিত্র উৎসব’। ভেন্যু—আমাদের ক্যাম্পাস। উদ্বোধন করলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম মোহাম্মদ শাহী আলম। শুরুর দিনই দর্শকরা মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন’ দেখলেন। এটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস থেকে বানানো হয়েছে। ফলে প্রথম দিন থেকেই জমজমাট উৎসব। পরের দিন ছেলে-বুড়ো সবাই এলেন। তবে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরাই। আমাদের এই আয়োজনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও অনেকে এসেছেন। আর আমরা ব্যস্ত ছিলাম টিকিট বিক্রি, উৎসব অফিস সামলানো, খবর লিখে পত্রিকায় পাঠানো, নির্মাতাদের নিয়ে এসে মঞ্চে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনে। এসব কাজের ফাঁকে তিন দিনে ৬৬টি দেশের মোট ৭০টি ছবি দেখিয়েছি। আর পর্দা নেমেছে ১৬ মার্চ।

সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবে ৯টি বিভাগে দেশ-বিদেশের ৯টি ছবিকে সেরা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ‘সেরা বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ হয়েছে হেমন্ত সাদিকের ‘অ্যা লেটার টু গড’। তিনি ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। আর সেরা আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হয়েছে মিসরের রামি গাব্রির ‘ফ্রম ইনসাইড’। তরুণদের স্বাধীনভাবে সিনেমা বানানোতে আগ্রহী করে তোলাই আমাদের এই পুরো আয়োজনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল।



সাতদিনের সেরা