kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

বুয়েটের নাট্যোৎসবে

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বুয়েটের নাট্যোৎসবে

বুয়েট ড্রামা সোসাইটির নাটক 'দূর ঘটনা'র একটি দৃশ্য

গভীর রাত। মহাসড়কে হঠাৎ ঘটল দুর্ঘটনা। গুরুতর আহত হলেন এক পথচারী। পালিয়ে গেল গাড়িটি।

বিজ্ঞাপন

পথচারী পড়ে আছেন পথের মধ্যে। সাহায্যের জন্য বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। হঠাৎ দ্রুতগতিতে চলে এলো আরেকটি গাড়ি। রাতের অন্ধকারে চালক দেখল না আহত পথচারীকে। গাড়ি চালিয়ে দিল তাঁর ওপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে মারা গেলেন। তবে শরীর থেকে বেরিয়ে এলো তাঁর আত্মা। জন্মস্থান রতনপুরে দেহটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য পথচারী বা গাড়িচালকদের অনুরোধ করতে লাগলেন। তবে কারোরই থামার সময় নেই। একের পর এক গাড়ি চলে যাচ্ছে লাশের ওপর দিয়ে। একসময় পেট্রল পুলিশ এলো। তাদের চোখে পড়ল, পড়ে আছে একটি ক্ষতবিক্ষত লাশ। খবর দিয়ে ডোম ডেকে আনা হলো। ডোম লাশ তুলতে এসেই বাধার মুখে পড়লেন। কথা বলে উঠল আত্মা- 'বাজান আমারে চিনতে পারছ না? আমি যে তোমার ছেলে নবদাস!' সঙ্গে সঙ্গে চমকে ওঠলেন ডোম। হাজারো লাশ নিয়ে কারবার যার জীবনভর, তার চোখে গড়িয়ে পড়ছে জল।

এ এক নাটকের গল্প। নাম 'দূর ঘটনা'। পরিবেশন করেছে বুয়েট ড্রামা সোসাইটি। এ নাটক পরিবেশনের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল 'গ্রামীণফোন-বুয়েট ড্রামা সোসাইটি নাট্যোৎসব'। চলেছে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর।

'দূর ঘটনা' সোসাইটির ১১তম প্রযোজনা। রচনা ও নির্দেশনায় বাকার বকুল। অভিনয় করেছেন বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরাই। বুয়েট অডিটরিয়ামে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হয়েছে আরো চারটি নাটক। আয়োজক সংগঠন ছাড়াও উৎসবে ছিল প্রাচ্যনাট, আগন্তুক রিপারটরি ও বটতলা নাট্যদল। উৎসব উদ্বোধন করেন বুয়েট উপাচার্য খালেদা একরাম। বিশেষ অতিথি নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক ও আজাদ আবুল কালাম। প্রতিদিন নাটক দেখতে ভিড় করেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সামিনা ইসলাম, 'আমি সব কটি নাটক দেখেছি। সারা দিন ক্লাস-ল্যাব শেষে ফ্রেশ হয়েছি। সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বসে নাটক দেখে হলে ফিরেছি। ' কাদের পরিবেশনা ভালো লেগেছে? উত্তরটি দিলেন তাঁর সহপাঠী ইশানা, 'প্রাচ্যনাটের পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ' দর্শকদের এমন দারুণ সাড়ায় খুশি আয়োজকরাও। ড্রামা সোসাইটির সহসভাপতি আসিফ আব্দুল বাসিত জানালেন, 'এখন থেকে আমরা প্রতিবছর নাট্যোৎসব করব। তাতে লেখাপড়ার ফাঁকে নির্মল বিনোদনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। আমাদেরও চর্চা হবে। '

 

 



সাতদিনের সেরা