kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

চাঁদপুর কলেজে একদিন

নিয়মিত ক্লাস হয়, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি আছে, পরীক্ষার ফলও ভালো। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্রছাত্রীদের দিন। ক্যাম্পাস ঘুরে লিখেছেন কলেজেরই ছাত্র ফরিদ হাসান   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাঁদপুর কলেজে একদিন

১০ হাজারেরও বেশি বই আছে চাঁদপুর সরকারি কলেজের লাইব্রেরিতে

মাঠে বসে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন তাঁরা। নানা বর্ষের ছাত্রছাত্রী। বাংলার ফাতেমা, পদার্থবিজ্ঞানের সোহরাবসহ সাত-আটজন। কেমন চলছে লেখাপড়া? হাসিমুখে বললেন ফাতেমা, 'ভালো।

বিজ্ঞাপন

আমাদের স্যাররা খুব আন্তরিক। ক্লাসরুমেরও কোনো সংকট নেই। কেবল যাতায়াতেই সমস্যা। ' 'কেন?' অনেক ছাত্রছাত্রী। বিভিন্ন উপজেলা থেকে তো আসিই, আশপাশের জেলার অনেকেও পড়েন। সবার জন্য বাস কেবল একটি। বাসের সংখ্যা আরো বাড়ানো দরকার। ' পরিবহন সমস্যায় জর্জরিত ১১ হাজার শিক্ষার্থী। সে নিয়ে খেদ আছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট সবাই।

কলেজের জন্ম ১৯৪৬ সালে। চাঁদপুর সরকারি কলেজটি বিপণিবাগ-কুমিল্লা মহাসড়কের গা ঘেঁষে। আছে ১৭টি বিষয়ে স্নাতক, ১৪টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণি।

সকাল থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পদচারণে মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। তাঁদেরই একজন রোজী। পড়েন ইতিহাসে। ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস। ক্যাম্পাসে এলেই ক্লাসের ফাঁকে ঢুঁ মারেন লাইব্রেরিতে। পাঠ্য বই ছাড়াও গল্পের বই নিয়ে বসে যান। রোজীর মতো আরো অনেকের নিয়মিত যাতায়াত লাইব্রেরিতে। কলেজের লাইব্রেরিতে বই আছে ১০ হাজারেরও বেশি। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস, পাঠ্য বই, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন- সব বিষয়ের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা শেলফ। ছাত্রছাত্রীদের পড়ার জন্য আছে আলাদা দুটি কক্ষ। বই ছাড়াও লাইব্রেরিতে নিয়মিত রাখা হয় ছয়টি জাতীয় দৈনিক, কয়েকটি ম্যাগাজিন। এসব বইয়ের নিয়মিত পাঠক শিক্ষকরাও। তবে তাঁদের বেশির ভাগই আসেন রেফারেন্স বইয়ের খোঁজে। তাঁরা প্রায় সবাই সন্তুষ্ট, লাইব্রেরিতে বই আছে পর্যাপ্ত। বাংলা বিভাগের ছাত্র তুষার জানালেন, 'লাইব্রেরিতে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার সবচেয়ে সমৃদ্ধ। বিভাগের সব ছাত্রছাত্রীর এটি খুব কাজে আসে। ' সমৃদ্ধ লাইব্রেরিটি গড়ে তোলার পেছনের কারণ জানালেন লাইব্রেরিয়ান তৃপ্তি সাহা, 'ফি বছর শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বই কেনা হয়। ' আরো বলেন তিনি, 'এ বছর কলেজের সব ছাত্রছাত্রী নিয়ে বই পড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। '

মুখোমুখি অধ্যক্ষ

কলেজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হলো অধ্যক্ষ মিহির লাল সাহার সঙ্গে। কলেজের ফলাফল ও ক্যাম্পাসের সার্বিক অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি, 'শিক্ষকদের চেষ্টায় দিন দিন ফলাফল ভালো হচ্ছে। আমরা অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পেরেছি। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসছে। লাইব্রেরির কারণে অনেকের পাঠাভ্যাসও গড়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এটি আরো সমৃদ্ধ করার ইচ্ছা আছে। '

 

 



সাতদিনের সেরা