kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাবা-মায়ের কষ্ট ঘোচাতে চায় সবুজ

মোহাম্মদ বাবুল আকতার, মণিরামপুর   

৮ মে, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবা-মায়ের কষ্ট ঘোচাতে চায় সবুজ

প্রতিবন্ধকতারও একটা সীমা থাকে। কিন্তু সবুজ হোসেন নামের ছেলেটির জীবনে তা যেন সীমাহীন। দারিদ্র্য তো জন্ম থেকে নিত্যসঙ্গী। তার ওপর বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন। মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসারের জোয়ালটা আর টেনে নিতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে লেখাপড়া করতে চাওয়াটা নিছক স্বপ্ন দেখার মতোই। কিন্তু মায়ের একান্ত ইচ্ছা আর নিজের সংকল্পের জোরে এগিয়ে গেছে সবুজ। যশোরের মণিরামপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। উপজেলার গাংড়া গ্রামের হতদরিদ্র রাশেদ শেখ ও শাহানাজ বেগমের দুই ছেলে সবুজ ও শাকিল। সবুজ বড়। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ভিটেবাড়িটুকু ছাড়া সহায়-সম্বল বলতে আর কিছুই নেই। ছোটবেলা থেকেই দুই ভাই মেধাবী। ছেলেদের আগ্রহ দেখে মা অনেক কষ্টে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। মা একা পেরে ওঠেন না। এ অবস্থায় সবুজ ও দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া শাকিল টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ একটু এগিয়ে নেয়। কঠোর অধ্যবসায়, মা-বাবার অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের উপদেশ আর সতীর্থদের সার্বিক সহযোগিতার ফসল হলো সবুজের এই অর্জন। সবুজ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সবার দোয়া চেয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পেয়ে বসেছে অনাগত ভবিষ্যতের চিন্তাও। মা শাহানাজ বেগম কেবল বলেন, 'আমার সবুজ অনেক কষ্ট করে পড়েছে।' বাবা রাশেদ শেখ সন্তানের সাফল্যের কথা শুনে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, 'অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে ভালো ফল অর্জন করা যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সবুজ। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা পেলে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।'

বিজ্ঞাপন



সাতদিনের সেরা