kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

পুলিশি বাধায় জাতীয় কমিটির ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মে, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সাত দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কমিটির নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তিও হয়। সাতা দফা দাবিতে জাতীয় কমিটি সকাল ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, 'বিদেশি বহুজাতিক কম্পানির সঙ্গে করা সব সর্বনাশা চুক্তি বাতিল করতে হবে।' সম্প্রতি সাগরের তেল-গ্যাস উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানি কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, 'এ রকম একটি চুক্তি হতে গেলে সে দেশে মার্কিনীদের যুদ্ধ করতে হয়। অথচ বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী কম্পানি কনোকো-ফিলিপসের চুক্তি হয়ে গেলো কোনো যুদ্ধ ছাড়াই।' তিনি বলেন, 'নতুন করে আর কোনো উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) করা যাবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেঙ্কে দিয়ে তেল ও গ্যাস উত্তোলন করতে হবে। খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে আইন পাস করতে হবে।' কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদ্যুৎ সংকট যত দিন টিকে থাকবে, তত দিন দেশি-বিদেশি কমিশন-ভোগীদের লাভ। ফলে তারা বিদ্যুতের স্থায়ী কোনো সমাধান করবে না। পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত করতে পারলে বর্তমান উৎপাদনের সঙ্গে আরো দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব। সরকার তা না করে রেন্টাল থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে। রেন্টাল বিদ্যুতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'রেন্টাল থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আসার কথা সে পরিমাণ বিদ্যুৎ আসছে না। রেন্টালের কারণে বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি গুতে হচ্ছে সরকারকে। এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সরকার আইএমএফ থেকে শর্তযুক্ত ঋণ নিচ্ছে। আর আইএমএফের দেওয়া শর্তের কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে সরকার। ফলে জনগণের জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।' আনু মুহাম্মদ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ঘেরাও-পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া সমাবেশ সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা হয়ে দৈনিক বাংলার মোড়ে এলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। এ সময় জাতীয় কমিটির কর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের লাঠিপেটায় জান্নাতুল তানিয়াসহ অন্তত চারজন আহত হয়। পিডিবির অফিস ঘেরাওয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়া জাতীয় কমিটির নেতা-কর্মীরা রাস্তার ওপর বসে পড়েন। ফলে মতিঝিল, পল্টন, প্রেসক্লাব, কাকরাইল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল সাত দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে জাতীয় কমিটি। সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে_কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি বাতিল, অচল রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত, বিদ্যুতের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ, সুন্দরবনের জন্য হুমকি রামপালের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বাতিল, কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল, খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ এবং ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।


সাতদিনের সেরা