kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ডিজিটাল কৌশলে ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় সামসুল হক স্কুল

জসীম রেজা ও রাসেল আহমেদ   

৮ মে, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিজিটাল কৌশলে ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় সামসুল হক স্কুল

ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসির কৃতী শিক্ষার্থীদের উল্লাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর আনন্দ যেন থামছেই না। সাফল্যের ঝলকানি স্কুলটিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই হাতছানি দিয়ে আসছিল। পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রত্যাশিত সাফল্য মনঃপূত হচ্ছিল না। তাই এবার স্কুল কর্তৃপক্ষ বেছে নিয়েছিল ডিজিটাল কৌশল। এর বিনিময়ে এসেছে ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকারের সাফল্য। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী আপন, সাইফুল, ইমরান, ফাহিম, আমিনা ইসলাম তন্নী ও অভিভাবক বিউটি বেগমের দাবি, সব কিছুর সমন্বয়ে ভালো ফল পেতে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে ডিজিটাল কৌশল। তাঁরা বলেন, কোনো শিক্ষার্থী বাইরের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয় না। স্কুলের ভেতরেই শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে কোচিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরীক্ষার ফল অভিভাবকদের মোবাইলে খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। কোনো শিক্ষার্থী একটি ক্লাস ও স্কুল কোচিংয়ে অনুপস্থিত থাকলে ওই দিনই সন্ধ্যায় তা অভিভাবকের মোবাইলে খুদেবার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হতো। পরীক্ষায় খারাপ ফল ও স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষ জবাব চায়। গতকাল দুপুর দেড়টা তখনও সামসুল হক খান স্কুলের ফল প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা যে যার মতো নীরবে দাঁড়িয়ে আছে স্কুল ভবনের নিচে। কেউ কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছে না। আধাঘণ্টা পর ঠিক দুপুর ২টার দিকে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলে উঠলেন, 'আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা শত ভাগ পাস এবং ঢাকা বোর্ডের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।' মুহূর্তেই শুরু হলো হৈ-হুল্লোড় আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের ঢেউ। গ্রীষ্মের দুপুরে ঢোলের আওয়াজ ও শিক্ষার্থীদের নাচে আরো উদ্ভাসিত করে তোলে গোটা এলাকা। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল, স্কুলের আঙ্গিনায় শিক্ষক, অভিভাবক আর শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। আনন্দের জোয়ারে ভাসছে পুরো এলাকা। শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড় আর চেঁচামেচিতে সবকিছুই যেন আছড়ে পড়ছে। স্কুল সূত্রে জানা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ১৭৮ জন পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৭৭ জন, মানবিক বিভাগে ৭৪ জন পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৯ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৫০ জন পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৩৪ শিক্ষার্থী। স্থানীয় মাতুয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও অভিভাবক প্রতিনিধিদলের সদস্য নাসিরউদ্দিন বলেন, 'মফস্বলে থেকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ভালো রেজাল্ট করে আসছে। আমরা স্কুলটিকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুধু ঢাকা বোর্ডে নয়, সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করার প্রত্যাশায় আমরা আছি।' অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আমি শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ। সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আমাদের এই অর্জন।'

বিজ্ঞাপন



সাতদিনের সেরা