kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তারেক-মামুনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা

সাক্ষীর জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য

আদালত প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় সাক্ষীর জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোজাম্মেল হোসেন এ মামলার সাক্ষী সাবেক ডিবি ইন্সপেক্টর বর্তমানে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর আলীমুজ্জামানকে জেরার জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেন। অর্থপাচারের অভিযোগে এ মামলা দায়েরের আগে আলীমুজ্জামান গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে নির্মাণ কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলামের দায়ের করা গুলশান থানার একটি চাঁদাবাজির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মানিলন্ডারিংয়ের সন্ধান পান। তাঁর দেওয়া ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ বিষয়েই তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। এ নিয়ে তিনটি ধার্য তারিখে ৪ নম্বর সাক্ষী সাবেক ডিবি ইন্সপেক্টর মীর আলীমুজ্জামানকে জেরা করলেন মামুনের আইনজীবীরা। গতকাল মামলার সাক্ষী আলীমুজ্জামানকে জেরায় তিনটি প্রশ্ন করেন আসামি মামুনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। এরপর মামলার কেস ডকেট দেখার জন্য সময় প্রার্থনা করেন তিনি। মামলায় এ পর্যন্ত আদালতে এসে পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে, এ পর্যন্ত তিনজনের সম্পূর্ণ জেরা শেষ হয়েছে। তাঁরা হলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লাপ্রেভোটি, মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও মামলার নিবন্ধন কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম। মামলায় বলা হয়, টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হলে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার তারেক রহমানের মাধ্যমে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে তাঁরা ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা গ্রহণ করে তা বিদেশে পাচার করেন। পৃথক অর্থপাচার মামলায় মামুনের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র : অর্থপাচারের অভিযোগে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে পাঁচ কোটি টাকা পাচারের পৃথক আরেকটি মামলার অভিযোগপত্র নিম্ন আদালতে জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম অভিযোগপত্র পেশ করেন বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বাংলাদেশি মুদ্রামানে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা ব্রিটেনে পাচারের অভিযোগ এনে এ মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম। এজাহারে বলা হয়, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কয়েক দফায় বাংলাদেশ থেকে চার লাখ ১৮ হাজার ৮৫৩ ব্রিটিশ পাউন্ড ব্রিটেনে পাচার করেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগ এনে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে গত ৬ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন আছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন মামুন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টির বেশি মামলা হয়। কয়েকটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তিনি এখনো কারাবন্দি রয়েছেন।


সাতদিনের সেরা