kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিন্ডিকেট ও ডিন নির্বাচন

উপাচার্যকে মিষ্টি খাওয়াতে গেলেন পরাজিত প্রার্থীরা!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৭ এপ্রিল, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বুধবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট ও ডিনসহ ১৬টি পদের নির্বাচনে পাঁচটিতে হেরে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের গ্রুপকে দায়ী করেছে প্রগতিশীল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেলের একাংশ। এর প্রতিবাদে বুধবার রাতে পরাজিত প্রার্থীসহ তাঁদের সমর্থকরা উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের বাসায় মিষ্টি নিয়ে যান। তবে উপাচার্য দরজা না খোলায় মিষ্টিগুলো দরজার সামনে রেখে আসেন তাঁরা। গত বুধবার সিন্ডিকেটের পাঁচটি সদস্যপদ, আটটি অনুষদের ডিন, শিক্ষা পরিষদের দুটি সদস্যপদ এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিষদের একটি সদস্যপদ মিলিয়ে মোট ১৬টি পদে গত বুধবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিন্ডিকেটের দুজন সদস্য এবং তিনজন ডিন ছাড়া বাকি ১১টি পদেই প্রগতিশীল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের হলুদ প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য সমর্থিত প্রগতিশীল ও আওয়ামী লীগ শিক্ষকরা তাঁদের প্যানেলে বিভাজন তৈরি করায় তাঁরা সবকটি পদে জয়লাভ করতে পারেননি। জানা গেছে, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনে যান। তাঁদের মধ্যে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক শাহ নওয়াজ আলী, ডিন নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কাশেম, সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শফিকুন্নবী সামাদি, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, অধ্যাপক মিজানউদ্দিন, অধ্যাপক নাসিমা আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে উপাচার্যের বাসভবনে থাকা শরীফ নামের এক কর্মচারী এসে দরজার সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষকদের বলেন, 'আপনারা বসেন, স্যারের (উপাচার্যের) আসতে একটু দেরি হবে।' পরে আরেকবার এসে ওই কর্মচারী বলেন, স্যার নামাজে আছেন। এভাবে প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষায় রাখার পর শেষে কর্মচারী শরীফ বলেন, স্যার দেখা করবেন না। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে শিক্ষকরা উপাচার্যের বাসভবন ত্যাগ করেন। আর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া মিষ্টির প্যাকেটগুলো উপাচার্যের বাসভবনের দরজার পাশে রেখে আসেন। এদিকে গতকাল বিকেল ৪টায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকজন শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত। তাঁদের মদদেই প্রগতিশীলদের একটা অংশ বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ প্রার্থীকে নির্বাচনে পরাজিত করেছে।


সাতদিনের সেরা