kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

কমিউনিটি বীজতলায় খরচ কম, লাভ বেশি

শেরপুর

শেরপুর প্রতিনিধি   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমিউনিটি বীজতলায় খরচ কম, লাভ বেশি

শেরপুরের নকলা উপজেলার চরকৈয়া এলাকার একটি কমিউনিটি বীজতলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কমিউনিটি বীজতলা বা আদর্শ বীজতলা। কয়েকজন কৃষক মিলে এ বীজতলা তৈরি করেন বলে এর নাম কমিউনিটি বীজতলা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় শেরপুরের কৃষকদের মধ্যে ক্রমেই এ বীজতলা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কৃষকই এ বীজতলা তৈরির দিকে ঝুঁকছে।

বিজ্ঞাপন

এ ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তারাও তাদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি নকলা উপজেলার চরকৈয়া, কুশাবাদাগৈড় ও ভুরদী গ্রামে কয়েকটি কমিউনিটি বীজতলা দেখে মনে হয়েছে যেন সবুজ গালিচা বিছানো। সারিবদ্ধ বীজতলায় তর-তরে বেড়ে ওঠা কচি ধানের চারা। জানা গেছে, কমিউনিটি বীজতলা থেকে চারা তোলা সহজ ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান বপন যন্ত্র) দিয়ে রোপণ করা যায়। ফলে শ্রমিক খরচ কয়েক গুণ কম লাগে। তা ছাড়া এখন সময়মতো কৃষি শ্রমিকও পাওয়া যায় না। আগে দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাতে ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিকের সারা দিন লাগত, এখন রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে রোপণ করতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগে। কমিউনিটি বীজতলার মাধ্যমে শ্রম, সময়, অর্থ—সব দিক থেকে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান আতিক জানান, কৃষকরা সাধারণভাবে যে বীজতলা তৈরি করে তাতে ১ শতাংশ জমিতে পাঁচ কেজি বীজধান প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া জমির কোথাও উঁচু-নিচু হওয়ায় বীজতলার অনেক শিকড় ঠিকমতো গজায় না। এসব বীজতলা পরিচর্যা করাও অনেক সমস্যা। বেশি শীত বা কুয়াশায় অনেক সময় বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (শীতজনিত রোগ) আক্রান্ত হয়। এতে বীজধান পুড়ে লালচে হয়ে যায়। কিন্তু কমিউনিটি বীজতলায় এসব সমস্যা নেই।

তিনি আরো জানান, কমিউনিটি বীজতলার দৈর্ঘ্য জমির সমান হয়। বীজতলার প্রতিটি ‘বেড’ (বিছানা) থাকে এক মিটার করে। প্রতিটি বেডের মাঝখানে ৯ ইঞ্চি ফাঁক থাকে। সঙ্গে ৯ ইঞ্চি গভীরতার ড্রেন বা নালা থাকে। এ পদ্ধতিতে বীজ লাগে প্রতি শতাংশে মাত্র আড়াই কেজি করে। এতে বীজতলার পরিচর্যাও অনেক সহজ। ঠাণ্ডা কিংবা কুয়াশায় বিকেলে মেশিনের সাহায্যে বীজতলায় সেচ দিয়ে সকালেই পানি সরিয়ে নিলে কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি থাকে না। কমিউনিটি বীজতলায় চারা পুষ্ট হয়, পার্শ্ব কুশি গজায় ও ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে মাঠে লাগানো যায়। এতে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩ শতাংশের ১ শতাংশ কম লাগে।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৮০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে কৃষকদের কমিউনিটি বীজতলা তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা