kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

‘কাগুজে মেধাবী’ বানানো হয় পরিবার থেকেই

তৌফিক মারুফ   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার বিচারে সবচেয়ে মেধাবীরা পড়ে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে। তবে এসব মেধাবী যদি হত্যার মতো নৃশংসতায় জড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষের আক্ষেপ আর কৌতূহল বাড়ে। তবে মনোবিদরা মনে করেন, সন্তানের ভালো ফল করানোর দিকেই এখন অভিভাবকদের সব মনোযোগ। সন্তানকে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে অভিভাবকদের মন নেই। ফলে এসব মেধাবী আসলে প্রকৃত মেধাবী নয়, তারা সনদপত্রের জোরে যতই ওপরে উঠুক না কেন তারা সব সময়ই যেকোনো নৃশংসতা কিংবা নীতি-নৈতিকতাবহির্ভূত যেকোনো অপরাধ ঘটাতে পারে।

জানতে চাইলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও লেখক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারা বেগম (আনোয়ারা সৈয়দ হক) বলেন, ‘মেধাবীরা কেন নৃশংসতা ঘটাচ্ছে, এর জবাব খুব সহজ। কারণ তারা শুধুই কাগুজে বা যান্ত্রিক মেধাবী। এদের মধ্যে কোনো মানবিক মেধা ঢুকতে পারেনি। অভিভাবকরাই এদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে বা আনছে। এখন বেশির ভাগ অভিভাবকই ভালো ফলাফলের আশায় সন্তানকে শুধু পাঠ্য বই, কোচিং আর প্রাইভেটের প্রতিযোগিতা ও ছোটাছুটির মধ্যে আটকে দিচ্ছে। সন্তানকে মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো সময়-সুযোগ দিচ্ছে না। ফলে তারা মানবিক বোধ কী তা শিখতে  ও জানতে পারছে না। তারা শুধুই কঠিন ও প্র্যাকটিক্যাল হয়ে উঠছে। ফলে তাদের দিয়ে যেকোনো অপরাধ ঘটানো সম্ভব, যার প্রমাণ এখন ঘন ঘন মিলছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেন, ‘এককথায় বলতে গেলে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন অবক্ষয়ের নানা মাত্রা যোগ হয় তখন এমন অপরাধ ঘটতেই থাকে। সেটা মেধাবী হোক বা না হোক। কারণ অপরাধ এক জিনিস আর মেধা আরেক জিনিস। এ ক্ষেত্রে পরিবার থেকে যখন একটি শিশুকে বড় করা হয় তখনই ভালো-মন্দের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে দিতে হবে। পরে সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে বাকি দিকনির্দেশনা দিয়ে একেকজন ছাত্র বা নাগরিককে সঠিক পথে পরিচালিত করা। বিশেষ করে পরিবারে শুধু পড়াশোনাই শিশুদের যেন মূল কাজ না হয়, বরং শিশুদের গড়ে তুলতে অবশ্যই পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতির যোগসূত্র রাখতেই হবে। এখন যেভাবে শিশুরা যন্ত্রে ডুবে থাকে তাতে সামনের দিনগুলোতে আরো মানবিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা রয়েছে।’ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, ‘পরিবারের দায় তো আছেই। তবে পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থায় চলে যাওয়ার পর্যায়ে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের দায়ও বড় হয়ে দেখা দেয়। বিশেষ করে যখন কারো মধ্যে কিছু একটি প্রাপ্তির লক্ষ্য তৈরি হয় তখনই সে তা অর্জনের জন্য ভালো বা মন্দ যেকোনো পথ বেছে নেয়। তখন মেধার বিষয়টি মুখ্য থাকে না, বরং পরিবেশ-পরিস্থিতির মধ্যে ঢুকে পড়ে অপরাধ ঘটাতে দ্বিধা করে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা