kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

রায়ডাঙ্গায় চিরঘুমে আবরার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রায়ডাঙ্গায় চিরঘুমে আবরার

গোটা দেশ কাঁদিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ এখন চিরঘুমে। সেই ঘুম থেকে তাঁকে আর কেউ জাগাবে না। তাঁর থেঁতলানো নিথর শরীর দেখে আর কাউকেই চোখের জল মুছতে হবে না। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের কবরস্থানে আবরারের লাশ দাফন করা হয়েছে।

এর আগে ভোর ৫টার দিকে তাঁর লাশ কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসার সামনে এলে সেখানে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার শত শত মানুষ আবরারের মুখ শেষবার দেখার জন্য বাড়ির সামনে ভিড় করে। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নার স্রোতে ভাসে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফের বাড়ির সামনের সড়কে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আবরারের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে তাঁর লাশ পৌঁছালে কান্নার রোল পড়ে। এ অবস্থায় গ্রামবাসীর কান্না আর আহাজারির মধ্যেই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। এর আগে আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ও একমাত্র ভাই আরবার ফায়াজ গ্রামবাসীর কাছে আরবারের জন্য দোয়া চান।

ওরা আমার ছেলেটাকে এভাবে মারল কেন? : ‘ওরা আমার ছেলেকে এভাবে মারল কেন? কী দোষ করেছিল ও? কী যন্ত্রণা নিয়েই না মারা গেছে আমার বুকের ধন।’ সকালে কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি কুমারখালীর রায়ড়াঙ্গা গ্রামে দাফনের আগে আবরারের লাশের সামনে ডুকরে ডুকরে কেঁদে এভাবেই বিলাপ করছিলেন আবরারের বাবা সাবেক ব্র্যাক কর্মকর্তা বরকতউল্লাহ। দাফনের প্রস্তুতি শেষ হলে গ্রামবাসীর উদ্দেশে আবরারের বাবা বলেন, ‘আপনারা তো সবই শুনেছেন ও জেনেছেন। তার পরও আমি আমার সন্তানের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাচ্ছি। একই সঙ্গে নিষ্ঠুর এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

আবরারের বাবা বলেন, ‘কত শখ করে আমার ছেলে মেডিক্যালে চান্স পেয়েও বুয়েটে ভর্তি হয়েছিল। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্স পেয়েছিল। দেশের মানুষের সেবা করার জন্য সে বুয়েটে ভর্তি হয়েছিল।’ আবরারের বাবা বিলাপ করে বলেন, ‘আবরার বলেছিল, বাবা, সবাই তো পাস করে বিদেশ চলে যায়। আমিও বিদেশ যাব আরো বড় ডিগ্রি নিয়ে আবার দেশে ফিরে এসে দেশের ও দেশের মানুষের সেবা করব। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারলাম না।’ তিনি বলেন, ‘পরপারে যেন ভালো থাকে আমার ছেলে। আপনারা সেই দোয়া করেন। আমার ছেলে যদি কোনো ভুল বা অন্যায় করে থাকে তাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন।’

আবরার হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ : আবরার ফাহাদের লাশ দাফনের আগে ও পরে তাঁর গ্রামের মানুষ হত্যাকারীদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এই বিক্ষোভে আবরারের বন্ধু, সহপাঠী ও গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। তাদের বিভিন্ন স্লোগানে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে মিছিলকারীরা কবরস্থানের পাশে মানববন্ধন করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা