kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

আবরার হত্যাকাণ্ড

সারা দেশে বিক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সারা দেশে বিক্ষোভ

আবরার হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের একটি অংশ। গতকাল বুয়েট ক্যাম্পাসে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ছাত্রসমাজ। গতকাল মঙ্গলবার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে তারা। ঢাকার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে এবং নোয়াখালীতে মানববন্ধনে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয়, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে জয় বাংলা ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টায়ার জ্বেলে অবরোধ করেন তাঁরা। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলায় অবরোধস্থল থেকে নবীনগর ও সাভার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।

মিছিল শেষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার স্বার্থ ছাড়া দেশের পানি, গ্যাস, বন্দর ভারতকে দিয়ে দিয়েছে। একই কথা আবরার বলায় তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। আবরারের কথা দেশের সব মানুষের কথা। আবরার হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ অবরোধকালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আবরার যেসব চুক্তির সমালোচনা করেছে, সেসব আমারও কথা। তাহলে কি আমাকেও পিটিয়ে হত্যা করা হবে? আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ শুধু একটা জিডি করেছে। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে বুয়েট কর্তৃপক্ষকেও মামলা করতে হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : আবরার হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সকালে রাবি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান করতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাবেশ শেষে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধের প্রস্তুতি নেয়। তখনই পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তার একাংশ খোলা রেখে কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়। শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে রাস্তা না ছাড়লে লাঠিপেটা করার ঘোষণা দেয় পুলিশ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। পরে সন্ধ্যায় মশাল মিছিলের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিহার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাসুদ রানা বলেন, ‘বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন যাতায়াত করে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের রাস্তার একাংশ খোলা রেখে কর্মসূচি করতে বলি। শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাস্তার একাংশে অবস্থান নিলেও পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে ঠেলে পুরো রাস্তায় অবস্থান নেয়। তাদের সামলাতে গিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অযৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেনি। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে তারা আন্দোলন স্থগিত করে।’

গাজীপুর : সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বক্তব্য দেন ডুয়েটের সাবেক ছাত্র প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম, শুভ দেবনাথ, শিক্ষার্থী ফয়সাল, রেজওয়ানুল ইসলাম, আশরাফুল, সুজন সরকার প্রমুখ।

চট্টগ্রাম : বিকেলে চট্টগ্রামের ষোলশহরে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, আবরার হত্যার বিচার না দেখে ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরবে না।

নারায়ণগঞ্জ : সকালে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে নগরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন এবং পরে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের জেলা সমন্বয়ক সুলতানা আক্তার। বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সভাপতি সুমাইয়া সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ বনিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জেলা সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন।

খুলনা : ‘আমি আবরার’, ‘আমি বাক্স্বাধীনতা চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না’, ‘আমার সন্তানের নিরাপত্তা চাই’—এমন প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ‘আগুয়ান-৭১’ সংগঠনের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর : দুপুরে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে নগরের মডার্ন মোড়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে মিছিলটি পার্কের মোড়ে গিয়ে মানববন্ধনে রূপ নেয়। এ ছাড়া ডিসির মোড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়।

যবিপ্রবি : প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও ছাত্রসমাজ’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, হত্যাকারীর ঠাঁই নাই’ প্রভৃৃতি লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : আবরার হত্যার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে একাত্মতা জানায় শাখা ছাত্রলীগ।

এ ছাড়া যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মানববন্ধন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল-সভা, যশোরের মণিরামপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে আবরার হত্যার প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা