kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুনিধি নায়েকের দুর্গাপূজা

আমাদের গায়ক অর্ণবকে বিয়ে করে সুনিধি নায়েক এখন ঢাকার বউ। কলকাতায় পূজা তো করেছেনই, এখন ঢাকার পূজা কেমন লাগে, কতটা মানিয়ে নিয়েছেন এই শহরে— জিনাত জোয়ার্দার রিপার সঙ্গে আলাপচারিতায় জানালেন সেসব কথা। এবার দুর্গাপূজায় কোন দিন কেমন সাজবেন সাজ, কোথায় ঘুরবেন কী খাবেন আলাপে আলাপে তা-ও বলেছেন।

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুনিধি নায়েকের দুর্গাপূজা

মডেল : সুনিধি নায়েক সাজ : অরা বিউটি লাউঞ্জ শাড়ি, ব্লাউজ ও গয়না : বিশ্বরঙ ছবি : মোবারক ফয়সাল কৃতজ্ঞতা : রমনা কালীমন্দির

‘আচ্ছা, তুমি কি কলকাতারই মেয়ে? নামের শেষে নায়েক যে?’ জানতে চাই সংগীতশিল্পী সুনিধি নায়েকের কাছে। সুনিধি বলেন, ‘হ্যাঁ রে বাবা! আসলে কি জানো, আমার দাদু উপাধি পেয়েছিলেন এই নায়েক। আমরা মূলত মুখার্জি। ’ আলাপচারিতার শুরু এখান থেকেই।

বিজ্ঞাপন

সুনিধি বলে চলেন তাঁর বেড়ে ওঠা, বাড়ি, দুর্গাপূজা, বেড়ানো—সব নিয়ে। ‘আমার বাড়ি তো আসানসোলে। আমাদের বাড়িতেই পূজা হয়। এক চালা মণ্ডপ হয় আমাদের। মানে এক মঞ্চেই দেবী দুর্গাসহ সবাই থাকেন। সে বানানো যেমন কষ্ট, বিসর্জনও। তবে তার আলাদা মজা আছে। কলকাতার পূজার মণ্ডপ তো এখন নানা থিমে হয়। তার আবার আলাদা সৌন্দর্য আছে। তবে আমার কিন্তু নিজের বাড়ির সেই সাবেকি ধরনটাই বেশ লাগে। আর পূজার কয়েক দিন ইচ্ছামতো খাওয়াদাওয়া। কোনো ওয়ার্ক আউট নেই। ’ খাবারে কী সবচেয়ে পছন্দ জানতে চাইলে বলেন, ‘মাছ, মাছ, মাছ। যেকোনো তাজা মাছ। রান্না, স্টিমড, বয়েলড যেকোনো রূপে। ইলিশ বেশ পছন্দ। তবে কি জানো? ঢাকায় এসে প্রথম প্রথম আমার খুব অসুবিধা হতো। আসলে এখনো হয়। এখানে দেখি সবাই একবারে অনেক মাছ কিনে ফ্রিজে রেখে দেন। কেন রে বাবা! ফ্রোজেন মাছের চেয়ে বিস্বাদ কিছু হয়, বলো! এখানে কেউ কম কেনে না। অনেক কেনে, অপচয়ও বেশি। স্বাদ নেই, বরং এগুলোতে নানা রোগ বাসা বাঁধে। দেখো, তোমরা পশ্চিমবঙ্গের লোকেদের কিপটে বলো। কিন্তু কম কেনায় তো ক্ষতি নেই। এতে তাজা খাওয়া যায়। অপচয় হয় না। আর তাতে মুদ্রাস্ফীতি কিন্তু কম হয়। ভেবে দেখো!’

 

 

পূজায় শাড়িই তাঁর প্রথম পছন্দ। এবার সুনিধি পরবেন দুর্গাপূজা মোটিফের শাড়ি ও ব্লাউজ। গয়না, সাজে বাহুল্য থাকবে না

গল্প গড়িয়ে নিতে ফের জিজ্ঞেস করি, তারপর বলুন ওখানকার জীবন আর এখানকার কোনটা বেশি ভালো? সুনিধি হাসেন, ‘এভাবে কি বলা যায়? দীর্ঘ একটা সময় একা থেকেছি বাড়ির বাইরে। পড়াশোনা, গান এসব নিয়ে দিন কেটেছে। ক্ষুধা লাগলে  সব মিলিয়ে খিচুড়ির মতো বানিয়ে খেয়ে নিলেও কেউ দেখার ছিল না। ছিলাম শান্তিনিকেতনেও। একটা সময় ভিড়, হট্টগোল এড়িয়ে যেতাম। ঢাকায় এসে দেখি, এখানে সবাই বন্ধুবত্সল। ভালো লেগেছে। সবাইকে আপন করে নেওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা এখানকার মানুষের আছে। আর বিরিয়ানি, ফুচকা। ঢাকারটাই বেস্ট!’

আর বেড়ানো? ‘হ্যাঁ, সে তো আমার ভীষণ প্রিয়। এইতো কিছুদিন আগেই হিমাচল ঘুরেছি একদম একা। একা ঘোরাটা কিন্তু বেশ উপভোগ্য। ’ একা কেন? অর্ণব যাননি? হেসে বলেন, ‘নাহ, প্রথমে যায়নি। ঘরকুনো তো। পরে ঠিকই গেছে। আমাকে গিয়ে বলে, একা ঘুরেছ। এবার আমায় ঘোরাও। পরে ওকে নিয়ে গেলাম কাশ্মীর। ’

ঢাকার পূজা কেমন লাগে? ‘দুই জায়গার দুই রূপ। আমার দুটিই ভালো লাগে। ’ বললেন অর্ণব জায়া। ‘আসলে সব জায়গারই তো নিজস্বতা আছে, আছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। সবই সুন্দর। ’ আরো জানান, বাবার রান্নাটা খুব মিস করেন। বাবা নাকি ভীষণ ভালো রাঁধেন। মা নেই সুনিধির। তবে মা-ও নাকি বাবার মতো রাঁধতে পারতেন না।

আর পূজার সাজের কথা তুলতেই জানালেন আর পাঁচটা বাঙালি নারীর মতো শাড়ি তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। তাই এবার পূজার পাঁচ দিনই শাড়ি পরবেন। ষষ্ঠীতে বাড়িতেই থাকবেন। বের হবেন সপ্তমীর দিন। ‘সপ্তমীতে মহাদেব মোটিফের একটি কালোর সংমিশ্রণে কমলা কন্ট্রাস্ট সিল্ক শাড়ি পরব। সঙ্গে টেরাকোটা মোটিফ ব্লাউজ। বরাবর মিনিমাল সাজ আমার পছন্দ। লিপস্টিক গাঢ় হবে। চুল ছাড়াই রাখব। আমার মা অষ্টমীতে সাদা শাড়ি পরতেন। মায়ের মতো আমিও মসলিনে ক্যাটওয়াকের কাজ করা সাদা শাড়ি পরব। সঙ্গে কালো ব্লাউজ। ব্লাউজটা স্পেশাল। এর মোটিফে দেবী দুর্গা স্বয়ং বিরাজ করছেন। সঙ্গে হাতখোঁপা। তবে নবমীর সাজ কিন্তু একদম ট্রেন্ডি হবে। গোলাপি ফ্লোরাল মোটিফের অরগ্যান্ডি শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস কালো ব্লাউজ। কানে শুধু স্টোনের একটি ম্যাচিং দুল। ’ আর পূজার মেলায় ঘোরাঘুরি? ‘দশমীতেই হবে সেটা। ঘোরাঘুরি আর ফুচকা, ঝালমুড়ি। একদম আটপৌরে খাদি শাড়ি পরব অফহোয়াইট লাল পাড়। সঙ্গে ঘটিহাতা লাল ব্লাউজ। পরব বাংলা প্যাঁচে। মেলায় যাব। কিনব মাটির তৈজস। ছোটবেলায় তো পূজার মেলায় মাটির খেলনা না কিনলে যেন পূজাই হতো না। ঢাকার দোয়েল চত্বরে যে মাটির পণ্যের দোকানগুলো আছে, ঢুঁ দেব সেখানে। বারান্দার জন্য টেরাকোটা কারুকাজের বাহারি টব কিনব। জানো, এগুলো এখানে বেশ সস্তা। শান্তিনিকেতনে কিন্তু এগুলোর দাম বেশ চড়াই বলতে হয়’-বলেন তিনি। গল্পে গল্পে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামে। আমাদের গল্প ফুরায় না। গানের গল্প এ বেলা আর হয় না। সে গল্পের জন্য আবার দেখা হবে সুনিধির সঙ্গে।

 



সাতদিনের সেরা