kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সোনারঙা তৈজস

দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন আনন্দ-উত্সবে কাঁসা-পিতলের বাসনের জুড়ি নেই। আদিকাল থেকেই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে জনপ্রিয় কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র। এখনো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে পাওয়া যায় এসব থালাবাসন। বাজার ঘুরে এসে লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনারঙা তৈজস

বনেদি পরিবারের কনের বিয়েতে একসময় কাঁসা-পিতলের ঘটিবাটি, কলস দেওয়ার চল ছিল। মুখে ভাতের নিমন্ত্রণেও চমত্কার কারুকাজ করা কাঁসার তৈজস দেওয়া হতো। আভিজাত্যের প্রতীক ছিল এসব জিনিস। কালের বিবর্তনে এই ধারায় চীনামাটি, মেলামাইন, কাচের বাসনকোসন জায়গা করে নিলেও ফুরিয়ে যায়নি পিতল বা কাঁসার বাসনের আবেদন।

বিজ্ঞাপন

শুধু যে হিন্দু পরিবারেই এমন চল ছিল তা নয়, অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারেও দেখা যেত এসব বাসনের ব্যবহার। এখনো শখের বশে অনেকেই ঘরে কাঁসা-পিতলের বাসনে অতিথি আপ্যায়ন করে। বিশেষ করে হিন্দুদের পূজাসহ বিভিন্ন উত্সবে এমন থালাবাসন ছাড়া অতিথি আপ্যায়ন কল্পনাই করা যায় না। পূজা এলে তাই ধুঁকতে থাকা কাঁসাশিল্পেও যেন প্রাণ সঞ্চার হয়। সারা বছর কমবেশি চাহিদা থাকলেও কাঁসা-পিতলের তৈজস আর পূজার সামগ্রীর চাহিদা এ সময়ে অনেক বেড়ে যায়। কাঁসা-পিতলের দোকানগুলোতেও ভিড় বাড়ে ক্রেতাদের।

শুধু যে অতিথি আপ্যায়নের বাসনকোসন-থালা-বাটি তা-ই নয়, পূজায় পিলসুজ থেকে শুরু করে জল-ঘটিসহ দরকার পড়ে অনেক কিছুর। ঠাকুর দেবতার জন্য থালাবাসনে পূজার তুলসীপত্র, পুষ্পথালা, অঞ্জলি, কাঁশি, ঘণ্টা, প্রদীপ, পঞ্চপ্রদীপ, বড় বড় মঠ ও মন্দিরে এখনো কদর রয়েছে পিতলের তৈজসপত্রের। এ জন্য ক্রেতাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায় কাঁসারুখানায়।

পুরান ঢাকার একটি দোকানে কাঁসার বাসন কিনতে এসেছিলেন শ্যামা রানী পাল। বললেন, ‘বাপ-দাদার আমলে কাঁসার থালা-বাটিতে খাবার খেয়ে বড় হয়েছি। জল খাওয়ার গ্লাস এখনো কাঁসাই আছে। তবে চীনামাটি, মেলামাইন ও অন্যান্য বাসনকোসনের কারণে কাঁসার ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। পিতলের বাসনকোসন ব্যবহারে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। কারণ পিতল ও কাঁসার পাত্রগুলো ব্যবহারের আগে-পরে ভালো করে ঘষে ঘষে মাজতে হয়। ’

কাঁসা-পিতলে তৈরি দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় সব রকম তৈজসই পাওয়া যায়। যেমন—হাঁড়ি, পাতিল, কড়াই, খুন্তি, হাতা, প্লেট, গ্লাস, মগ, বাটি, বড় প্লেট, ঘটি, চামচ, নকশা করা বেবি সেট, নকশি থালা, কাপ, পিরিচ, পানির বোতল, ফিরনি সেট, সিঁদুরদানি, ধূপদানি, আগরদানি, গয়নার বাক্স, পানদানি, পান ছেঁচুনি, সুপারি কাটার ছর্তাসহ নানা রকম নান্দনিক সব শোপিস। তবে কাঁসার বাসনের পাশাপাশি ইস্পাতের তৈরি নানা বাসনও এখন বেশ জায়গা করে নিচ্ছে উত্সব-পার্বণগুলোতে।

কোথায় পাবেন

বাংলাবাজারের শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী বাসনালয় ও রাসমোহন বাসনালয় দোকান দুটি কাঁসা ও পিতলের বাসনের জন্য বেশ পরিচিত। এ ছাড়া শাঁখারীবাজারের নাগ ভাণ্ডার ও ধামরাই বাসনালয়ে পাওয়া যাবে কাঁসার বাসনকোসন। মিটফোর্ড রোড, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, নিউ মাকের্ট ও এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলোতে যাবে এমন তৈজসপত্র। এ ছাড়া পাওয়া যাবে আড়ং, যাত্রা, দেশীদশ, স্বদেশির মতো ফ্যাশন ব্র্যান্ডে। দোকানে থাকা পিতল, তামা ও কাঁসার বাসনপত্র আসে মানিকগঞ্জের ধামরাই, জামালপুরের ইসলামপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। এ ছাড়া পুরনো কাঁসার বাসনের বদলে নতুন বাসন নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। চাইলে বেচতেও পারবেন পুরনো কাঁসা ও পিতলের জিনিস। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন শপেও পাওয়া যাবে পিতলের তৈজসপত্র।

কেমন দাম

শাঁখারীবাজারে কাঁসা-পিতলের প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান নাগ ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার নাগ বললেন, ‘কাঁসা, পিতল ও তামার তৈজসপত্র বিক্রি হয় কেজি দরে। কাঁসার দাম এক হাজার ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। পিতল ৬০০ থেকে এক হাজার ৫০০ আর তামার তৈরি তৈজসপত্র পাওয়া যাবে এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। ’



সাতদিনের সেরা