kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরচুলা সমাচার

চুলের সৌন্দর্য, ঘনত্ব বা দৈর্ঘ্য বাড়াতে পরচুলা বা কৃত্রিম চুল ব্যবহার করা হয়। বাজারে নানা রং ও ঢঙের এমন কৃত্রিম চুল পাওয়া যায়। এমন চুলের ব্যবহার, যত্ন ও সতর্কতা সম্পর্কে জানিয়েছেন শোভন মেকওভারের রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরচুলা সমাচার

চুলের শোভা বাড়াতে কৃত্রিম চুল বা পরচুলার ব্যবহার আদিকাল থেকে। প্রাচীন মিসরে শুরু হলেও গত শতকের মাঝামাঝি থেকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এর জনপ্রিয়তা। নানা জায়গায় দেখা যেত পরচুলার বিশেষ ব্যবহার। মূলত মাথায় যাতে রোদ না লাগে সে জন্যই পরচুলা ব্যবহার করত তারা।

বিজ্ঞাপন

রোদের তাপ থেকে সুরক্ষা দিত এমন কৃত্রিম চুল।

পরচুলা বা নকল চুল এক ধরনের কৃত্রিম আবরণ, যা দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা হয়। মানুষের চুল, পশু-প্রাণীর চুল, কৃত্রিম তন্তু বা সিনথেটিক ফাইবার, নাইলন থেকে তৈরি করা হয় পরচুলা। রাসায়নিক নানা উপাদানের ব্যবহারে এমন ফাইবার দেখতে আসল চুলের মতোই দেখায়। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারী-পুরুষ উভয়কেই এমন চুলে সাজতে দেখা যায়। তা ছাড়া অভিনয়ের সময় পাত্র-পাত্রীদের কৃত্রিম চুলের ব্যবহারও আদিকাল থেকে। আবার যেসব ব্যক্তির মাথায় চুল নেই বা চুল কম তাঁরাও পরচুলা ব্যবহার করেন। নারীদের অনেকেই চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতে, খোঁপা বড় দেখাতে বা চুলের ঘনত্ব বেশি করতে পরচুলা পরে। তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও অনেকে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান, স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়ে রংবেরঙের পরচুলা ব্যবহার করে। পুরুষদের মাঝে যাদের মাথায় টাক তারাও কেউ কেউ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পরচুলা ব্যবহার করে। মাথার ঝলমলে চুল শুধু সৌন্দর্যই নয়, আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। তরুণীদের বেলায় চুলের সাজে কৃত্রিম চুল বা উইগের ব্যবহার তো নিত্যদিনের। লুকে বদল আনতে এমন চুলের বিকল্প খুব কমই। মাথার স্থায়ী চুল অক্ষত রেখে কৃত্রিম চুল দিয়ে নিমেষে লুক পরিবর্তন করা যায়। কৃত্রিম চুলের মান, ব্যবহার ও যত্ন-আত্তির ওপর ভিত্তি করে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশে তৈরি পরচুলার কদর দিন দিন বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৯১ কোটি টাকার পরচুলা রপ্তানি হয়েছে। দেশে ছোট-বড় সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক পরচুলা তৈরির কারখানা রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে আসা কাঁচামাল দিয়ে এসব কারখানায় কৃত্রিম চুল তৈরি করা হয়। এসব চুলের মূল ক্রেতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

 

 

 

সতর্কতা

 

 

পরচুলা বা উইগ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত যত্ন নিতে হবে

 

সতর্কতা

পরচুলা পরতে চাইলে কিছু সতর্কতা অবশ্যই মাথায় রাখুন। সতর্ক না হলে স্থায়ী চুল ও মাথার স্কাল্পের ক্ষতি করতে পারে পরচুলা। পরচুলা ব্যবহারে অ্যালার্জি বা চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা যায়। পরচুলায় ব্যবহূত নানা রাসায়নিক উপাদান ত্বকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমন হলে পরচুলা ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ত্বকের ধরন বুঝে পরচুলা বাছাই করতে হবে। ব্যবহারের আগে ভালো করে পরচুলা বা উইগ ধুয়ে নিতে হবে।

 

যত্ন-আত্তি

নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে পরচুলা বা উইগ। ধোয়ার পর ভালো করে রোদে বা হেয়ার ড্রায়ারে শুকিয়ে নিতে হবে। তাপের সংস্পর্শ থেকে পরচুলা বা উইগ দূরে রাখতে হবে। প্রাকৃতিক কোনো উপাদান এমন চুলে ব্যবহার করা যাবে না।

 

কোথায় পাবেন

বিভিন্ন কসমেটিকসকের দোকানেই পাওয়া যাবে উইগ বা পরচুলা। লম্বা, বেণি করা, বেণি ছাড়া, সোজা, কোঁকড়ানো, খোঁপা করা, খোঁপা ছাড়া, দৈর্ঘ্য কম বা বেশি নানা আকৃতির পরচুলা পাওয়া যাবে। দোকান ছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন শপ ও ফেসবুক গ্রুপেও বিকিকিনি চলে এমন চুলের।

 

কেমন দাম

মান, পরিমাণ, আকৃতি ও উপাদানের ওপর নির্ভর করে একেক রকম পরচুলার একেক দাম হয়ে থাকে। সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে পরচুলা বা উইগ।    



সাতদিনের সেরা