kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

কোরবানির পূর্ণ প্রস্তুতি

কোরবানির ঈদ মানেই পশু কোরবানি। এ জন্য ছুরি, দা, চাপাতি, চাটাই, কসাইসহ দরকার আরো কিছু প্রস্তুতির। এগুলো আগে থেকে ঠিক করে রাখলে ঝামেলা ছাড়াই সারা যায় যাবতীয় কাজ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরবানির পূর্ণ প্রস্তুতি

ঈদের আগেই দা, বঁটি, ছুরি গুছিয়ে রাখতে হবে। ছবি : সংগৃহীত

জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। সঙ্গে বেড়ে চলেছে কামারশালার টুংটাং শব্দ। রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশই এখন কোরবানির ঈদের আমেজে। ঈদের শপিং, গরু কেনাসহ কোরবানিকেন্দ্রিক নানা ব্যস্ততা বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এই ব্যস্ততায় প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাই এখন থেকেই ধীরে ধীরে ছুরি, দা, বঁটি, খড়, ভুসি, চাটাই কেনা ও কসাই ঠিকঠাক করে রাখুন। পরে এ নিয়ে আর ঝামেলা পোহাতে হবে না।

ছুরির খোঁজখবর 

রাজধানীর অন্যতম বৃহত্ পাইকারি কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারের কামারশালাগুলোতে পাবেন হাতে তৈরি ছুরি, দা, বঁটি ও চাপাতি। পাশাপাশি নিউ মার্কেট, চকবাজার, মিরপুর, গুলশানসহ সিটি করপোরেশন মার্কেটেও পাওয়া যাবে। স্বপ্ন, বেস্ট বাইসহ বিভিন্ন সুপারশপে পাওয়া যাবে আমদানীকৃত ছুরি, চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিস। দা-ছুরি কেনা হয়ে গেলে সেগুলো ধার দেওয়ার কাজটাও আগেভাগেই সেরে ফেলতে হবে। পশু জবাইয়ের বড় ছুরি ১০০০-৩০০০ টাকা, হাড্ডি কাটার চাপাতি ১৫০০-২৫০০ টাকা, ছোট ছুরি ২৫০-৫০০ টাকা, বঁটি ৩০০-২০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন দামে কিনতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া চাটাই ও কাঠের গুঁড়ি পাওয়া যাবে এখানে।

গরুর খাবার, চাটাই ও কাঠের গুঁড়ি

কোরবানির গরু একটু আগেভাগে কিনে ফেলেন অনেকেই। তখন দরকার গরুর খাবার। সাধারণত কোরবানির হাটের পাশেই পাওয়া যায় গরুর খড়সহ ভুসি ও দানাদার নানা খাবার। সেখান থেকেও কিনতে পারেন। আবার ফুটপাতেও এ সময় ভাসমান দোকান বসে এসব পণ্যের। এখানে গরুর খড়সহ মাংস রাখার চাটাই, মাংস কাটার জন্য কাঠের গুঁড়ি কিনতে পাওয়া যাবে। খড় আঁটি হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি আঁটি ১৫-২০ টাকা দামে পাওয়া যাবে। চাটাইয়ের দাম পড়বে ২০০-৩০০ টাকা। আর কাঠের গুঁড়ি পাওয়া যাবে ৩৫০-৫৫০ টাকার মধ্যে।

কসাইয়ের খবর

কোরবানিতে কসাই পাওয়াটা বেশ দুষ্কর হয়ে গেছে। তাই আগে থেকেই কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলে দরদাম ও সময় ঠিক করে নিতে হবে। এখন অনলাইনে অনেক প্রতিষ্ঠান কসাই জোগাড়ের ব্যবস্থা করে থাকে। সেখান থেকেও কথা বলে নিতে পারেন। সেবা এক্সওয়াইজেড, কসাই লাগবে নানা প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে কসাইয়ের খোঁজ। গরুর ওজন ও সময় বুঝে কসাইয়ের দরদাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

মাংস সংরক্ষণ ও বিলিবণ্টন

কোরবানির মাংস বিলিবণ্টন করতে হয় আত্মীয়, প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে। তাই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্যাকেট জোগাড় করে রাখলে বিলানোর সময় তেমন ঝামেলা হয় না। বাজার থেকে এ জন্য বিভিন্ন সাইজের পলিথিনের প্যাকেট কিনে রাখতে পারেন। মাংস রান্নার জন্য চপিং বোর্ড, বড় পাতিল, মিট হ্যামার, ফ্রাইপ্যান, কিমা মেশিন, কাবাব শিক গুছিয়ে রাখুন ইত্যাদি।

সবার শেষে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা

যে স্থানে কোরবানি দেওয়া হবে, সেই স্থানটি প্রচুর পরিমাণ পানি দিয়ে ঝাড়ু দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। গরম পানিতে অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড (ডেটল, স্যাভলন, ব্লিচিং পাউডার ইত্যাদি) মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। পশুর মলমূত্র, রক্ত, আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। কোরবানি শেষে প্লাস্টিক ম্যাট বা পাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।



সাতদিনের সেরা