kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

ঈদের আগে-পরে

ঈদের ব্যস্ততা ও খুশির অজুহাতে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার বিষয়টি ভুলে যাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অনারারি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. রায়হান উদ্দিন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঈদের আগে-পরে

ঈদে মাংস খাওয়া হবেই। তবে ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যাবে

কোরবানি ঈদের খুব বেশি বাকি নেই। ঈদের শপিং, বাড়ি যাওয়া, কোরবানির গরু কেনা, ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়া ঘিরে আমাদের আনন্দের শেষ থাকে না। কিন্তু এই আনন্দ যেন আমাদের অসাবধানতায় বিষাদে রূপ না নেয় সেদিকেও একটু সচেষ্ট থাকতে হবে। তাই এই ঈদ ঘিরে যখন যেখানেই যান না কেন স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা ভুলে যাওয়া চলবে না।

বিজ্ঞাপন

করোনা এখনো বিদায় নেয়নি

করোনা মহামারি ঘিরে মানুষের মধ্যে এখন অনেকটাই শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। অনেকে হয়তো ভুলেই গেছেন করোনার ভয়াবহতার কথা। কিন্তু করোনা পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। এখনো বাংলাদেশসহ অনেক দেশই সংক্রমণের ঝুঁকিতে। করোনা বেশি ছড়ায় মানুষের সংস্পর্শে। এ জন্য ঈদের শপিং, ঈদে বাড়িতে যাওয়া বা ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া, কোরবানির হাটে পশু কেনার সময়ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরিধান করতে হবে।

মোশন সিকনেস

ঈদের ছুটিতে সপরিবারে বাড়ি যাবেন। সবার মধ্যে খুশির আমেজ। বাসে চেপে বসেছেন। আধাঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই মাথাব্যথায় কাতর হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো বমি। অবস্থাটা নিশ্চয়ই সুখকর হবে না। এটাকে বলা হয় মোশন সিকনেস। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। গাড়ি উঠে ঠায় বসে থাকবেন না। চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করুন। গাড়ি যেদিকে চলছে সেদিকে পেছন করে বসবেন না। গাড়ির ভেতরকার গন্ধে যাতে কাতর হতে না হয় এ জন্য এয়ারফ্রেশনার সঙ্গে রাখুন। ব্যক্তিগত গাড়ি হলে পথে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। অযথা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। চুইংগাম চিবুতে পারেন। এতে বমিভাব কম হবে। কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন।

কোরবানিতে সতর্কতা

গরু কোরবানির পর এর বর্জ্য সতর্কতার সঙ্গে পরিষ্কার করুন। যত দ্রুত সম্ভব কোরবানির স্থানের রক্ত ও আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলুন। ঈদের আগেই ডেটল, ব্লিচিং পাউডার, পলিথিন কিনে রাখতে পারেন। যাতে পরিষ্কারের কাজটা সহজ নয়। নইলে গন্ধ ও জীবাণু সংক্রমণ হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আরামদায়ক পোশাক

এখন গরমের সময়। তাই ভ্রমণের সময় হালকা, আরামদায়ক ও সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরতে হবে। আঁটসাঁট পোশাক পরিহার করাই ভালো। এতে ঈদ ভ্রমণ আরামদায়ক হবে। ঈদ যাত্রায় ব্যবহূত নরম জুতা বা স্যান্ডেল পরতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে কেনা নতুন জুতা পরে রওনা করবেন না। এতে পায়ে ফোস্কা পড়তে পারে। হাইহিলের বদলে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরলে হাঁটা ও চলাফেরা আরামদায়ক হবে।

খাবার গ্রহণে সতর্কতা

ঈদে বাড়ি যাওয়া ও আসার পথে বাইরের খাবার খাওয়া যাবে না। ঘরের তৈরি খাবার ও পানির বোতল সঙ্গে নিতে হবে। ঈদে বাহারি ও সুস্বাদু খাবার খাওয়ার দিকেও নজর রাখতে হবে। একসঙ্গে বেশি তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। নিয়ম মেনে খাবার খেতে হবে। যাঁরা একটু বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হূদরোগ আছে তাঁদের খাবারের ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ঈদেও ডায়াবেটিক রোগীকে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি বা উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা আছে, তাঁদের অবশ্যই তেল-চর্বি এড়িয়ে যেতে হবে। চর্বি ছাড়া গরুর মাংস খাওয়া যাবে তবে তা পরিমাণমতো হতে হবে। ভাজাপোড়া ও মিষ্টি বেশি খাওয়া যাবে না।

ওষুধ ও ফার্স্ট এইড বক্স

ঈদে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ একটি ফার্স্ট এইড বক্স সঙ্গে রাখতে পারেন। জ্বর, মাথা বা শরীর ব্যথা, পেটের পীড়া, বুকজ্বলা, সাধারণ সর্দি-কাশিতে কাজে দেবে। স্যালাইন, তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, স্যাভলন ইত্যাদিও রাখতে পারেন। তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনে উপকার দেবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হূদরোগের রোগীদের ঈদ ভ্রমণে ওষুধ সঙ্গে নিতে হবে।

শিশুদের নিয়ে সতর্কতা

যাত্রাপথে শিশুদের নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বেশি রোদ বা বেশি বাতাস গায়ে লাগতে দেওয়া যাবে না। বাইরের পানীয় এবং খাবারও এড়িয়ে চলতে হবে। এখন বর্ষাকাল। পানিতে চারদিক টইটুম্বুর। শিশুকে নিয়ে গ্রামে গেলে ওদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। যাতে পানিতে পড়ে না যায়।

অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান

যাত্রাপথে যানবাহনে অপরিচিত কেউ খাদ্য বা পানীয় দিলে খাওয়া যাবে না। কারণ প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরনের খাবার খেয়ে অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়েন।

ঈদেও চাই শরীরচর্চা

ঈদের ছুটিতেও কিন্তু গা ভাসিয়ে দেওয়া চলবে না। নিয়মিত শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। যাঁরা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন তাঁরা ঈদের ছুটির ফাঁকেও হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখুন। এ সময় জিমে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ, হাঁটা, দৌড়ানো ও সাঁতার কাটতে পারেন। শরীর যেমন ভালো থাকবে তেমনি অতিরিক্ত খাবারেও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

 

 



সাতদিনের সেরা