kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

ঈদের আগেই সুন্দর ত্বক

ঈদের বেশি বাকি নেই। দিন যত ঘনাবে ব্যস্ততা তত বাড়বে। এ জন্য আগেভাগেই ত্বক প্রস্তুত করা দরকার। এখন থেকে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে। পরামর্শ দিয়েছেন বিউটি জোন মেকওভার স্যালনের স্বত্বাধিকারী রূপবিশেষজ্ঞ আনজুম শিউলি। লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদের আগেই সুন্দর ত্বক

মডেল : মৌ রহমান; ছবি : এম এইচ বিপু

ত্বক সুন্দর রাখতে স্ক্র্যাবিং জরুরি। এখন তো গরম, প্রকৃতিতে ধুলাবালি প্রচুর। লোমকূপের গোড়ায় ত্বকে প্রচুর ময়লা জমে। ত্বকের ওপরের অংশের মরা চামড়া দূর করতে স্ক্র্যাবিং বেশ কার্যকর।

বিজ্ঞাপন

ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েও স্ক্র্যাব তৈরি করা যায়। চালের গুঁড়ার সঙ্গে মধু, দুধ মিশিয়ে মুখ ও গলায় ঘষে ঘষে লাগান, পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

ত্বকের আরেকটি বড় সমস্যা ব্ল্যাকহেডস। ময়লায় লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্ল্যাকহেডস তৈরি হয়। বাজারে বিভিন্ন নোস স্ট্রিপ পাওয়া যায়। এগুলো বেশ ভালো কাজ করে। ব্ল্যাকহেডস দূর করতে প্যাকও বানাতে পারেন। ডিমের সাদা অংশ নাকে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে টেনে তুলে ফেলুন।

ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম থাকলে ত্বকের চকচকে ভাবটা ঠিক দেখা যায় না। তাই লোম দূর করে ফেলতে পারেন ঘরোয়া উপায়ে। বেসন ও ময়দার সঙ্গে এক চিমটি হলুদের গুঁড়া, দুই ফোঁটা নারকেল তেল ও পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। ত্বকে পেস্ট লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ঘষে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন। পর পর কয়েক দিন ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

গরমের এই সময়ে অনেকের ত্বকে ব্রণের সমস্যা বাড়ে। ব্রণযুক্ত মুখে কোনো সাজই ভালো দেখা যায় না। ব্রণ থাকলে এখন থেকেই দূর করার চেষ্টা করুন। নিমপাতা, হলুদ, চিরতা ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণের সমস্যায় উপকার পাওয়া যাবে।

 

ত্বকের যত্নে ঘরে বসেই ফেসিয়াল

ত্বকের যত্নে নিয়মিত ফেসিয়াল করা জরুরি। ঈদের আগেই কোনো পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করিয়ে নিতে পারেন। ব্যস্ততার কারণে যাঁদের পার্লারে যাওয়ার সুযোগ হয় না, তাঁরা ঘরে বসেও নিজে নিজে ফেসিয়াল করতে পারেন। ধাপে ধাপে একটু সময় নিয়ে করলে ঘরোয়া ফেসিয়ালেও দারুণ ফল পাওয়া সম্ভব।

ফেসিয়ালের প্রথম ধাপ—মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া। ত্বকের ধরন বুঝে ক্লিনজার বেছে নিন। প্রথমে মুখে হালকা গরম পানির ঝাপটা দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এরপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

দ্বিতীয় ধাপে ত্বক থেকে মৃত কোষ তুলে ফেলার জন্য স্ক্র্যাবিং করতে হবে। স্ক্র্যাব বানানোর পদ্ধতি আগেই বলা হয়েছে। ত্বক বেশি শুষ্ক হলে স্ক্র্যাব মিশ্রণের সঙ্গে একটু চিনি মেশাতে পারেন। স্ক্র্যাব দিয়ে খুব ঘষাঘষি না করাই ভালো। এরপর পাঁচ থেকে সাত মিনিট গরম পানির ভাপ নিতে হবে।

এখন থেকে মুখ ও গলায় ফেস প্যাক ব্যবহার করতে হবে। ফেস প্যাক ত্বকে পুষ্টি জোগায়। ত্বকের ধরন বুঝে প্যাক ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ফেস প্যাক তুলে ফেলার পর মুখে টোনার ব্যবহার করা হয়। শসার রস খুব ভালো টোনার। ফেসিয়ালের শেষ ধাপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার। ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার হিসেবে আধা চা চামচ অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েল মেখে নিন। শুষ্ক ত্বকে নারকেল তেল আর তৈলাক্ত ত্বকে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।

 

ত্বকের জন্য কয়েকটি ফেস প্যাক

১.    টক দইয়ের সঙ্গে মধু ও লেবু মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই তিনটি উপকরণই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

২.   বেসন ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ পর ঘষে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার হবে।

৩.   অ্যালোভেরার জেল ত্বকের জন্য বেশ ভালো। মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

৪.   পাকা পেঁপে ও মধুর প্যাক বানিয়ে লাগান ত্বকে। উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে ত্বক।

৫.   চন্দন, কমলার খোসার গুঁড়া ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করতে পারেন। ত্বকে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। ত্বক পরিষ্কার হবে ও উজ্জ্বলতা বাড়বে।



সাতদিনের সেরা