kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

হয়ে যাও গ্র্যান্ড মাস্টার

দাবা খেলতে ভালোবাসো? তাহলে গ্র্যান্ড মাস্টার শব্দটার কথাও হয়তো শুনেছ? এটি দাবা খেলার সর্বোচ্চ খেতাব। দাবা খেলায় পারদর্শী হতে চাইলে ঢুঁ মারতে পারো বিনা তারের পাঠশালায়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হয়ে যাও গ্র্যান্ড মাস্টার

দাবা অতি পরিচিত একটি খেলা। হাটে, মাঠে, ঘাটে দাবা খেলতে দেখা গেলেও এখন স্মার্টফোন ও কম্পিউটারেও খেলা যায়। গ্র্যান্ড মাস্টার দাবার সর্বোচ্চ খেতাব। এটি দাবার আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিদে’র তরফ থেকে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

১৯৮৭ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে বাংলাদেশের নিয়াজ মোর্শেদ প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার খেতাব জয় করেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও এশিয়ার পঞ্চম গ্র্যান্ড মাস্টার। নিয়াজ মোর্শেদ, জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, আব্দুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেন রাজীব—এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এই পাঁচজন দাবাড়ু গ্র্যান্ড মাস্টার সম্মাননা অর্জন করেছেন। তবে তারও আগে ১৯৮৫ সালে রানী হামিদ আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র নারী, যিনি এই খেতাবে ভূষিত হন।

এগুলো তো দাবায় আমাদের দেশের বড়দের অর্জন। তবে ছোটদেরও কিন্তু নিরাশ করে না দাবার আন্তজার্তিক সংগঠন ফিদে। যারা অল্প বয়সেই দাবায় খুব ভালো মুনশিয়ানা দেখাতে সক্ষম হয় তাদেরও স্বীকৃতি দেয় তারা। বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান আছে এই তালিকায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে কম বয়সী ফিদে মাস্টার সে। একজন দাবারুকে ফিদে মাস্টার খেতাব পেতে হলে কমপক্ষে ২৩০০ রেটিং থাকতে হয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে এমন একটি বিশ্ব স্বীকৃতি অর্জন করে ফাহাদ।

দাবার ইতিহাস

চলো জেনে নেওয়া যাক দাবার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। দাবার সবচেয়ে মজার দিক হচ্ছে, এতে কোনো কায়িক শ্রমের দরকার হয় না। বুদ্ধি, কৌশল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার পরিচয় দিতে হয় এই খেলায়।

দাবার জন্ম ভারত উপমহাদেশে। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ভারতে দাবা খেলা চালু হয়। সে সময় এই খেলার নাম ছিল চতুরঙ্গ। চতু মানে চার এবং অঙ্গ মানে অংশ। তখন দাবায় হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক সৈন্য এই চারটি অংশ ছিল। তাই এই নাম। চীনারা এই খেলার নাম দেয় জিয়ানকি। ইরানে জিয়ানকি হয়ে যায় শতরঞ্জ।

নানা দেশ ঘুরে ইউরোপে যখন খেলাটির প্রচলন হয় তখন নাম রাখা হয় ঈযবংং। ইউরোপে নামের সঙ্গে সঙ্গে খেলাটির নিয়মেও অনেক পরিবর্তন হয়। এখানেই খেলাটিতে যোগ হাতি যোগ হয়। এরও পরে যোগ হয় রানি। দাবার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠলে ১৯২৪ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে ‘দ্য ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডেস চেক’ [এফআইডিই] গঠন হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি দাবা খেলার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজকও তারা।

খেলতে কী লাগে

দাবা খেলায় দরকার দাবা খেলার বোর্ড ও ঘুঁটি। দাবা খেলার সেট হিসেবে দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। আর দরকার দুজন খেলোয়াড়।

খেলার নিয়ম

খেলা শুরুর আগে ঘুঁটিগুলো দাবার বোর্ডে দুই পাশে দুই লাইনে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে নিতে হয়। বিপরীত দুই পাশে নিচের দুই সারিতে আটটি করে মোট ১৬টি সৈন্য থাকবে। দাবা খেলার সাতটি ঘুঁটি প্রজা ঘুঁটি। এদের মধ্যে ছয়টি ঘুটি আরেকটিকে অর্থাত্ এক ঘুঁটির ওপর অন্য ঘুঁটি টপকে যেতে পারবে না। একমাত্র ঘোড়া লাফিয়ে টপকিয়ে চলতে পারবে। ঘুঁটিগুলো বিপক্ষ দলের দিকে নিয়মানুসারে এগিয়ে যাবে। একটি আরেকটি হারিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে রাজাকে ঘিরে আটকে ফেলবে। রাজাকে আটক করলেই দল পরাজিত হবে অর্থাত্ বিপক্ষ খেলোয়াড় হেরে যাবে। তবে রাজাকে আটকের নির্দেশস্বরূপ চেকমেট (ঈযবপশসধঃব) করা হয়। চেকমেট হলে রাজা নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। একসময় রাজা আর নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। কারণ বিপক্ষ দল রাজার চারদিক ঘিরে ফেলে। তখনই রাজা পরাজিত হয়।

দাবার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এখন অফলাইন বা বোর্ড গেম হিসেবে দাবা অনলাইনেও খেলা যায়। মোবাইল, কম্পিউটারের বিপক্ষেও খেলা যায় দাবা। খেলাটি খেলতে যে পরিমাণ বুদ্ধি ও কৌশল প্রয়োজন হয় তা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। দাবা ও অন্যান্য আরো সব খেলা সম্পর্কে জানতে ঢু মারতে পারো বিনা তারের পাঠশালায়।

 

রেজিস্ট্রেশন করো এই লিংকে গিয়ে। বিস্তারিত: http://www.bashundharanoodles.com/binatarerpathshala/



সাতদিনের সেরা