kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

নিমন্ত্রণে নতুন দম্পতি

বিয়ের পর নতুন দম্পতিকে যেতে হয় নানা নিমন্ত্রণে। দাওয়াতে নতুন দম্পতির সাজের বিষয়ে ধারণা দিলেন রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিমন্ত্রণে নতুন দম্পতি

মডেল : বিদ্যা সিনহা মিম ও সনি পোদ্দার গয়না : আমিসে ফাইন জুয়েলারি মীমের পোশাক : সারা করিম সনির পোশাক : ওটু স্থান কৃতজ্ঞতা : এসকে ডেকর ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

তারকা অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিমের বিয়ের আগে প্রেমের বিষয়টি কাছের অনেক মানুষই জানত না। বিয়ের মাত্র কয়েক মাস আগে এই অভিনেত্রী তাঁর ভালোবাসার মানুষের কথা জানান। এর কিছুদিন পরই বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। তার পর থেকেই মিম আর তাঁর স্বামী সনি পোদ্দারকে নিয়ে আত্মীয়, বন্ধু, স্বজনের আগ্রহের কমতি নেই।

বিজ্ঞাপন

নিমন্ত্রণের লাইন পড়ে যায় রীতিমতো। শিডিউল মেলাতে বিয়ের বেশ কয়েক মাস পরেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শুধু মিম-সনি নন, বিয়ের পর নতুন দম্পতিকে নিয়ে আগ্রহের কমতি থাকে না নিকটজনদের মধ্যে। বর-কনে  উভয় কুলের আত্মীয়বাড়ির দাওয়াতে যেতে হয় তাঁদের। এ সময় তাঁদের একনজর দেখতে ভিড় করে কাছের ও দূরের আত্মীয়সহ পড়শিরাও। তাই নিজেদের সুন্দর দেখাতে দাওয়াতে নতুন দম্পতির সাজও হওয়া চাই জমকালো।

জুতসই মেকআপ

মেকআপ করলেই সবাইকে যে সুন্দর লাগবে—এই ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। চেহারার গড়ন ও ধরন বুঝে মেকআপ করতে হবে সবখানে। এখন মিনিমাল মেকআপের ট্রেন্ড। নতুন বউ বলে জমকালো ভারী মেকআপ দরকার নেই। মনে রাখতে হবে, নিজেদের রুচি ও পছন্দ অন্য সবার সামনে তুলে ধরারও প্রথম সুযোগ এসব নিমন্ত্রণ। তবে সাজটা হওয়া চাই বিশেষ। মিনিমাল মেকআপের সঙ্গে হেয়ারস্টাইলে রাখা যায় অভিজাত ভাব। চোখে যেকোনো আইশ্যাডো ব্লেন্ড ভালো মানাবে। ঠোঁটে পিচ রঙের লিপস্টিক অথবা নুড লিপস্টিক দিতে পারেন যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই। গালে গোলাপি ব্লাশন দিতে পারেন। মনে রাখুন, পোশাক যদি হালকা রং বা প্যাস্টেল শেডের হয়, তাহলে অল্প মেকআপই বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠবে। চোখে টেনে কাজল দিতে পারেন। বিশেষ করে শাড়ির সঙ্গে কাজলের যুগলবন্দির জুড়ি নেই। আর এখন তো পোশাকে গাউন, কাফতান বেশ চলছে কনের নিমন্ত্রণ বাড়ির সজ্জায়।

নজর গয়নার দিকেও

বিয়েতে নতুন বউকে গা ভরা গয়না দেওয়ার চল এখনো ফিকে হয়ে যায়নি। বরং নতুন বউকে কতটা গয়না দেওয়া হলো, তা নিয়ে চুলচেরা চর্চাও হয় বিয়ে-পরবর্তী নানা দাওয়াতে। তাই দাওয়াতে গেলে যতটা সম্ভব বিয়ের গয়না পরার চেষ্টা করুন। তবে বিয়ের গয়নাই যে পরতে হবে তার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সোনা, রুপা, হীরার গয়নার পাশাপাশি মেটাল ও পাথরের ভারী ডিজাইনের গয়নাও পরা যাবে। পোশাক হালকা হলে ভারী গয়না বেছে নিন। আর পোশাক ভারী হলে হালকা গয়নার কম্বিনেশন ভালো দেখাবে। ব্লাউজ হাতাকাটা হলে হাতে বাজু পরলে সুন্দর লাগবে। শাড়ি পরলে গলায় ভারী হার ভালো মানাবে। লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে বড় ঝুমকা সুন্দর লাগবে। আর গাউন পরলে গলায় লকেট, কানে ছোট টপ বেছে নিন। হাতে পরুন ব্রেসলেট বা ঘড়ি। হাতের আঙুলে আংটি পরতে ভুলবেন না। বিশেষ করে বিয়ের আংটি পরতে ভুল করা যাবে না। বর বিয়েতে উপহার পাওয়া নতুন ঘড়ি ও আংটি পরতে পারেন। দুজনের যুগলবন্দি যেন জুতসই হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।

পোশাকে বৈচিত্র্য

দাওয়াতে নতুন দম্পতিকে একটু জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকেই বেশি মানানসই লাগে। দাওয়াত যদি হয় কোনো পাঁচতারা হোটেলে, তাহলে গাউন বা লেহেঙ্গায়ও ভালো মানাবে। যেকোনো দাওয়াতে লাল, নীল, গোলাপি রঙের পোশাক সহজেই মানিয়ে যায়। যদি ছিমছাম সাজ আপনার ভালো লাগে, তবে শাড়ি সবচেয়ে মানানসই। জামদানি, সিল্ক, শিফন ও মসলিনের শাড়ি বেছে নিতে পারেন। বিয়েতে উপহার পাওয়া শাড়ির সম্ভার থেকে বেছে নিতে পারেন পছন্দের শাড়ি। একেক দাওয়াতে একেক পোশাকে হাজির হওয়ার চেষ্টা করুন। শাড়ির সঙ্গে বর্ণিল কাটের ব্লাউজ নিমেষেই এনে দেবে ভিন্ন লুক। দাওয়াত যদি হয় দিনের বেলার, তাহলে গর্জিয়াস ওয়ান পিস, সালোয়ার-

কামিজ পরতে পারেন। সাদা, নীল, হলুদ, গোলাপি—সব ধরনের রং নতুন বউকে মানিয়ে যাবে। বর পাঞ্জাবি, স্যুট, শার্ট, ব্লেজার, কাবলি, কটিসহ সব রকম পোশাকই পরতে পারেন। যেটাই পরুন না কেন চেষ্টা করুন দুজনের পোশাকের মধ্যে মেলবন্ধন রাখার। এখন যেহেতু গরমের মৌসুম, সে জন্য আরামদায়ক পোশাককে প্রাধান্য দিন। সুতি, লিনেনের তৈরি পোশাক এ সময় বেশি আরামদায়ক। রাতের দাওয়াতে গাঢ় রঙের গাউন, লেহেঙ্গা, জমকালো কাজ করা শাড়ি পরলে ভালো লাগবে। এখন নানা কাজ করা ছেলেদের পাঞ্জাবি, কটি পাওয়া যায়। এগুলোও নতুন বরের পোশাক হিসেবে খুব মানাবে।  

  

 

সাজের অনুষঙ্গে ঘড়ি, বালা, চুড়ি ও আংটি বেশ মানিয়ে যাবে



সাতদিনের সেরা