kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিশেষ দিনের উদযাপন

বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন উদযাপন এখন আর শুধু নবদম্পতি আর ছোটদের মধ্যেই আটকে নেই। পুরনো দম্পতি ও বয়স্ক মানুষের বিবাহবার্ষিকী ও জন্মদিনের আয়োজন হচ্ছে নানা মাত্রায়। জীবনের বিশেষ দিন যাপনের এই চলতি ধারার আছে নানা সুবিধাও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিশেষ দিনের উদযাপন

কয়েক দিন আগে অভিনেতা নাঈমের জন্মদিন সপরিবারে পালন করেন তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী নাদিয়া আহমেদ

একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করেন রাসেল আহমেদ। বিয়ে করেছেন গত বছর। নববধূ আর নতুন সংসার ঘিরে উপভোগ্য জীবন। ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়া, সংসারের কেনাকাটা—জীবন স্বপ্নের মতোই সুন্দর মনে হচ্ছিল তাঁর।

বিজ্ঞাপন

সেই স্বপ্নও ছাড়িয়ে গেল বউয়ের একটি আয়োজনে। দিনটি যে তাঁর জন্মদিন, মনেই ছিল না রাসেলের। অফিস থেকে আর সব দিনের মতোই বাসায় ফেরেন। দরজা খুলতেই দেখেন পুরো বাসা অন্ধকার। কিন্তু ইলেকট্রিসিটি তো যায়নি। তবে! আধো অন্ধকারের মধ্যে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বেডরুমে। দরজা খুলে হতভম্ব হয়ে পড়েন রাসেল। পুরো ঘর মোমবাতির মৃদু আলোয় আলোকিত। রংবেরঙের বেলুন, বেড সাইট টেবিলের ওপর পানির পাত্রে ভাসছে ফুলের তাজা পাপড়ি। উল্টো পাশের দেয়ালে তাঁকে ঘিরে নানা শুভেচ্ছাবার্তা। এই বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই এলো খাবার টেবিলে ডাক। সেখানেও তাঁর সব প্রিয় খাবারের আয়োজন। এমন নান্দনিক আয়োজনের ছবি তুলে নিজের মুগ্ধতার গল্প ফেসবুকে ফলাও করে জানিয়েছিলেন রাসেল। বললেন, এখনো দিনটিকে তাঁর কাছে জীবনের সেরা দিন মনে হয়। স্বামীর জন্মদিনে এমন আয়োজন করে তাঁকে চমকে দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী ফারজানা শিখা।

গেন্ডারিয়ানিবাসী কে এম মহিব উদ্দিনের জন্মদিন এবার ঘটা করে পালন করেছে নাতি-নাতনীরা।

শুধু যে নতুন দম্পতিদের মধ্যে বিয়ের দিন উদযাপনের এমন রেওয়াজ সীমাবদ্ধ তা নয়। এখন বয়স্কদের বিবাহবার্ষিকীও উদযাপিত হচ্ছে নানাভাবে। একটি ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সামিউল হাসান। বিয়ে করেছেন পাঁচ বছর। প্রতিবছর বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে স্বামী-স্ত্রী মিলে এখানে-সেখানে ঘুরতে যান। আবার নতুন দম্পতিদের বিয়ের ছবি তোলাই সামিউলের কাজ। হরেক আয়োজনের বিয়ে দেখেছেন ক্যামেরার চোখে। আচ্ছা মা-বাবার বিয়ের দিনটা ভিন্ন ভাবে আয়োজন করলে কেমন হয়? স্ত্রীকে প্রস্তাব দিতেই সানন্দে রাজি হয়। এরপর মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে তাঁদের বিয়ের দিনটি উদযাপনের পরিকল্পনা করেন। ঢাকার সন্নিকটে ঠিকানা রিসোর্টে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠান। মা-বাবাকে হাজির করা হয় তাঁদেরই তুলে রাখা বিয়ের দিনের পোশাকে। দুই পক্ষের অতিথিরাও সেজেগুজে হাজির হন। এরপর খাওয়াদাওয়া, ছবি তোলা আর মা-বাবার বিয়ের গল্প শুনে দিনটা পার করে দেন সবাই। ছেলে আর বউয়ের এমন আয়োজনে একটু বিব্রত হলেও পরে বেশ আনন্দ পেয়েছিলেন তাঁরা, এমনটাই জানালেন সামিউল হাসান।

আর তোফায়েল আহমেদ-ফারহানা পারভীন খানের বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন করে চমক দিয়েছে তাঁদের দুই মেয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়েন ফাহিমা ইমতু। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোট পদে চাকরি করলেও বাবাতাঁকে অভাব বুঝতে দেননি। ছোটবেলায় তাঁর প্রতিটি জন্মদিনেই জমজমাট আয়োজন করতেন বাবা। বড় হওয়ার পর জন্মদিন ওভাবে পালন না হলেও বাবা তাঁকে ঠিকই নতুন জামা-জুতা কিনে দেন। এখন টিউশনি করেন ইমতু। গত বছর নিজের টিউশনির টাকায় বাবার জন্মদিন আয়োজন করে সারপ্রাইজ দিয়েছিলেন। ইমতু বলেন, ‘বাবারা আসলেই সুপারহিরো। আমার জন্মদিন ঘিরে বাবা অনেক কিছু করতেন। শপিং করে দিতেন, রেস্টুরেন্টে খাওয়াতেন, বাড়িতেও আয়োজন হতো। কিন্তু বাবার জন্মদিন কখনো পালন হতে দেখিনি। তাই নিজে উপার্জন করার পর ভাবলাম বাবাকে একটা সারপ্রাইজ দিই। বাবা অনেক খুশি হয়েছিলেন। অবশ্য মা আর ছোট ভাই অনেক সাহায্য করেছিল বাবাকে জন্মদিনের সারপ্রাইজ দিতে। এখন তো বাবা যেখানেই যান সেখানেই এই গল্প বলে বেড়ান। হা হা হা। ’

নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতউল্লাহর জন্মদিনে নিজের হাতে কেক বানিয়ে উদযাপন করেছেন অভিনেত্রী মেয়ে বিজরী বরকতউল্লাহ। অভিনেত্রী

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক

ডা. মুনতাসীর মামুন বললেন, ‘জীবনের বিশেষ বিশেষ দিন উদযাপনের ধারা আগে থেকেই কমবেশি প্রচলিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার পর এই ট্রেন্ডটা বেশি চোখে পড়ছে। কারণ এ রকম পারিবারিক নানা উদযাপনের ছবি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে। সেখানে দেখে নতুন অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়। পারিবারিক এমন আয়োজনের অনেক গুরুত্বও আছে। এতে যেমন সবার মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত হয়, তেমনি পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। যাকে ঘিরে আয়োজন তার মধ্যেও অন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ তৈরি হয়। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। স্মৃতিপটেও যোগ হয় নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। ’

বিদ্যা সিনহা মিম তাঁর মা-বাবার জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী সবই পালন করেন নিয়মিত।

বয়স্কদের বিবাহবার্ষিকী কিংবা জন্মদিন—এগুলো মূলত বেশি আয়োজন করছে এখনকার ছেলেমেয়েরাই। তারা মা-বাবা, নানা-নানি, দাদা-দাদিকে সারপ্রাইজ দিতে বিভিন্নভাবে দিনগুলো উদযাপন করছে। সেসব মুহূর্তের ছবি তুলে ও ভিডিও করে শেয়ার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ কেউ ঘুরতেও যাচ্ছে দর্শনীয় কোনো স্থানে। আবার বড় কোনো আয়োজন না করলেও তাদের নিয়ে হাজির হচ্ছে কাছের কোনো রেস্টুরেন্টে। সেখানে খাওয়াদাওয়া আর ছবি তোলার মধ্য দিয়েই করছে বিশেষ দিনের উদযাপন। আবার অফিস ফেরত স্বামী স্ত্রীর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন সুন্দর কোনো উপহার। স্ত্রীও স্বামীর জন্য ঘরেই করছেন ভিন্নরকম আয়োজন। অথবা রাতে রেস্টুরেন্টে ক্যান্ডেল নাইট ডিনারের মধ্য দিয়েও বিশেষ দিনটি উদযাপন করছেন নতুন পুরাতন দম্পতিরা।  

 চিত্রাভিনেতা ওমর সানী চিত্রভিনেত্রী স্ত্রী মৌসুমীর জন্মদিনে প্রতিবার সারপ্রাইজ দিতে ভালবাসেন।  

অভিনয়শিল্পী দম্পতি নাঈম-নাদিয়ার বিশেষ দিনের উদযাপনও হয় নিজেদের মতো করেই



সাতদিনের সেরা