kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পূজায় নিরামিষ

পূজার পাতে নিরামিষ থাকতেই হবে। এবার পূজায় ভিন্ন স্বাদের নিরামিষ খেতে পারেন অসিত কর্মকার সুজনের রেসিপিতে

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



পূজায় নিরামিষ

সপ্তপদী খিচুড়ি

উপকরণ

নিরামিষ সবজির জন্য

আলু, পটোল, কাঁকরোল, বরবটি, পেঁপে, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া—প্রতিটি সবজি ১ কাপ করে, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, এলাচ ২টি, দারচিনি ২টি, সরিষার তেল আধা কাপ, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ ও লবণ স্বাদমতো।

 

খিচুড়ির জন্য

পোলাউ চাল ৫০০ গ্রাম, মুগ ডাল ভাজা ২৫০ গ্রাম, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, এলাচ ও দারচিনি ৪-৫ টুকরা, তেজপাতা ২টি, আদা বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, সরিষার তেল আধা কাপ ও লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. সবজিগুলো ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।

২. প্যানে তেল ও সব মসলা মিশিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে সবজি দিন। সবজিগুলো নেড়ে সামান্য পানি দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে সবজি সিদ্ধ হয়ে এলে ওপরে গরম মসলা গুঁড়া ছড়িয়ে নামিয়ে রাখুন।

৩.  চাল ও ডাল আলাদাভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।

৪. প্যানে তেল দিয়ে দারচিনি, এলাচ ও তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে বাকি সব মসলা দিয়ে কষিয়ে চাল ও ডাল দিন।

৫.  চাল ও ডাল ভাজা ভাজা হয়ে এলে গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন।

৬.  পানি শুকিয়ে গেলে আগে থেকে রান্না করে রাখা সবজিগুলো খিচুড়ির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

ছানা-পটোলের কষা

 

উপকরণ

পটোল ৮টা ডুমো করে কাটা, আলু ডুমো করে কাটা ১ কাপ, ছানা ২ কাপ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, আদা বাটা আধা চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ, টক দই ১ কাপ, কাঁচামরিচ কুচি আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ, সরিষার তেল ১ কাপ, ঘি ২ চা চামচ ও লবণ স্বাদমতো।

 

ফোড়নের জন্য

শুকনা মরিচ ২টি, তেজপাতা ২টি, এলাচ ২টি, গোটা জিরা আধা চা চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন

১.  একটি বাটিতে ছানা, স্বাদমতো লবণ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা কুচিসহ বাকি সব মসলা সামান্য পরিমাণে মিশিয়ে ছোট ছোট বল আকারে গড়ে সরিষার তেলে ভেজে তুলে নিন।

২.  একই তেলে সামান্য হলুদ ও লবণ মেখে ডুমো করে কেটে রাখা পটোল ও আলু হালকা ভেজে তুলে নিন।

৩. অন্য একটি বাটিতে টক দই এবং বাকি সব গুঁড়া ও বাটা মসলা মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন।

৪.  এবার সরিষার তেলে গোটা মসলাগুলো ফোড়ন দিয়ে মিশ্রণ ঢেলে কষিয়ে নিন। মসলার ওপরে তেল উঠে এলে ভেজে রাখা পটোল ও ছানার বড়া দিয়ে পরিমাণমতো পানি দিন।

৫.  পানি কমে মাখা মাখা হলে ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে গরম ভাত অথবা লুচির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

মোচার পাতুরি

 

উপকরণ

মোচা কুচি ২৫০ গ্রাম (গরম পানিতে ভাপিয়ে নেওয়া), নারকেল কোরা ২ টেবিল চামচ, পোস্ত বাটা ১ টেবিল চামচ, সরিষা বাটা ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, কলাপাতা ছোট করে কাটা ৭-৮টি, ভাজার জন্য সরিষার তেল সামান্য।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. কলাপাতা ভালো করে ধুয়ে আগুনে হালকা সেঁকে নিন।

২. এবার সব উপকরণ ভালোমতো মেখে কলাপাতায় নিন। পাতাটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে প্যানে সামান্য তেল দিয়ে ছেড়ে দিন।

৩.  কিছুক্ষণ পর উল্টে দিন। পাতা পোড়া পোড়া হয়ে এলে বুঝতে হবে পাতুরি তৈরি।

৪.  এবার নামিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

কলাপাতায় নারকেল পোস্ত ভাপা

 

উপকরণ

নারকেল কোরা ২ কাপ, পোস্ত বাটা আধা কাপ, কাঁচামরিচ কুচি ১ চা চামচ, সাদা সরিষা বাটা আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল আধা কাপ, কলাপাতা চৌকোনা করে কাটা ৪টি।

যেভাবে তৈরি করবেন

১.  একটি বাটিতে কলাপাতা বাদে ২ চা চামচ সরিষার তেলসহ বাকি সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে নিন।

২.  এবার কলাপাতা ধুয়ে আগুনে সামান্য সেঁকে মাখানো মিশ্রণটি পাতার মাঝ বরাবর বিছিয়ে কলাপাতা চারপাশ থেকে ভাঁজ করে মুড়ে সুতা দিয়ে বেঁধে দিন।

৩. এবার ১০ মিনিট ভাপিয়ে পরিবেশনের সময় সরিষার তেল ছড়িয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

ফ্রায়েড মিল্ক

 

উপকরণ

চার কাপ গুঁড়া দুধ গুলিয়ে নিয়ে তৈরি তরল দুধ ১ লিটার, কর্নস্টার্চ ১ কাপ, চিনি ৪ কাপ, পাতিলেবুর খোসা ছুরি দিয়ে কাটা ১টা, দারচিনি গুঁড়া আধা চা চামচ, আস্ত দারচিনি দুই-এক টুকরা, ডিম ১টা, ময়দা ৩ টেবিল চামচ, তেল ২ কাপ, বিস্কুটের গুঁড়া প্রয়োজনমতো, লবণ ১ চিমটি।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. একটি পাত্রে ৭৫০ মিলি দুধ নিয়ে চুলায় বসিয়ে লেবুর পাতলা খোসা ও আস্ত দারচিনি দিন।

২. দুধ ফুটে উঠলে তাতে ২ কাপ চিনি দিয়ে আরো দু-তিন মিনিট ফুটিয়ে নিন।

৩. বাকি আড়াই শ মিলি দুধে কর্নস্টার্চ গুলে তা ফুটন্ত দুধে মিশিয়ে কম আঁচে ক্রমাগত নাড়ুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো দলা তৈরি না হয়।

৪. একটা বাটিতে অল্প সাদা তেল ব্রাশ করে এই মিশ্রণ ঢেলে ঠাণ্ডা হতে দিন।

৫. ঠাণ্ডা হলে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে মিশ্রণটি সেট করতে দিন। এটা সেট হয়ে পাত্রের আকার নিলে ছোট ছোট চৌকো পিস করে নিন।

৬. একটা পাত্রে শুকনো ময়দা নিয়ে সেই ময়দার মধ্যে এই চৌকো পিসগুলো হালকা হাতে গড়িয়ে নিন।

৭. সামান্য লবণ দিয়ে ডিম ফেটিয়ে নিন। এবার ময়দায় গড়ানো ছোট টুকরোগুলোকে এই ডিমের গোলায় ডুবিয়ে নিন।

৮. একটি থালায় বিস্কুটের গুঁড়া ছড়িয়ে ডিমে ডোবানো পিসগুলোকে বিস্কুটের গুঁড়ায় গড়িয়ে নিন।

৯. তারপর ১৫ মিনিট এটিকে একইভাবে রেখে সেট হতে দিন।

১০. ১৫ মিনিট পর সাদা তেলে লালচে করে ভেজে ঠাণ্ডা করে নিন।

১১. বাকি দুই কাপ চিনি ও দারচিনি গুঁড়া মিশিয়ে এতে সামান্য পানি দিয়ে চুলায় শিরা করে নিন। শিরা হলে নামিয়ে হালকা গরম অবস্থায় ভাজা কিউবগুলো শিরায় গড়িয়ে পরিবেশন করুন।

 

রেসিপি : নাজিয়া ফারহানা



সাতদিনের সেরা