kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দল বেঁধে খেতে যাওয়া

অনেকে মিলে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া এখন জনপ্রিয় ট্রেন্ড। দলবল নিয়ে যাওয়ায় স্বভাবতই আনন্দের মাত্রা একটু বেশি প্রকাশ পায়। এ সময় অন্যদের অসুবিধা হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। এ বিষয়ে পরামর্শ দিলেন বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কো-অর্ডিনেটর আনিস উদ্দিন আহমেদ। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দল বেঁধে খেতে যাওয়া

নবদম্পতি অভিনেতা নিলয় আলমগীর ও তাবাসসুম হূদি এখন প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে খেতে যাচ্ছেন নানা রেস্তোরাঁয়

ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাওয়ার পাশাপাশি এখন অনেকেই দল বেঁধে খেতে যাচ্ছে। খাওয়ার ছবি শেয়ার করছে সামাজিক মাধ্যমে। নান্দনিক সব হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি জনপ্রিয় খাবার খেতে দল বেঁধে নানা স্থানে ঢুঁ মারছে। সারা সপ্তাহের কাজের ক্লান্তি কাটানোর পাশাপাশি রসনাবিলাসে মাতছে তারা। ঢাকা ও এর আশপাশেই খাওয়ার জন্য রয়েছে জনপ্রিয় কিছু জায়গা—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, পুরান ঢাকা, তিন শ ফুট সড়কসংলগ্ন নীলা মার্কেট। ঠিকানা, জল জঙ্গলের কাব্য, ঢাকা রিসোর্টসহ বিভিন্ন ছোট-বড় রেস্টুরেন্ট ও শপিং মলগুলোর ফুডকোর্টেও জড়ো হয় তারা। আবার ঢাকার কাছেই রূপগঞ্জে মাটির ঘর, মাওয়া শিমুলিয়া ফেরিঘাটের হোটেল, প্রজেক্ট হিলসার মতো রেস্টুরেন্টেও খেতে যাচ্ছে। দলবল নিয়ে খেতে গিয়ে আনন্দের অতিশয্যে কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে যায়। নিজেদের হৈচৈ ও গল্প-আড্ডা অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় খেতে আসা অন্য অতিথিদের জন্য। তাই দল বেঁধে খেতে গেলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কিছু আচরণবিধি আছে। এসব আচরণ মেনে চলাই স্মার্টনেস। এ ছাড়া করোনাকালীন রেস্টুরেন্টগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো মেনে চলা জরুরি।

ছুটির দিনে রেস্টুরেন্টে ভিড়ভাট্টা একটু বেশিই থাকে। এ জন্য অনেক চাপ সামলাতে হয় রেস্টুরেন্টকর্মীদের। এই বিষয়টি মাথায় রাখুন। বেশির ভাগ মানুষ দুপুরে বা রাতে খাওয়ার জন্য যান। এতে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে অনেক মানুষের ভিড় জমে। এ জন্য রেস্টুরেন্টে যেখানেই বসার জায়গা পান বসে পড়ুন। প্রয়োজনে ওয়েটারের সাহায্য চাইতে পারেন। তাকে আপনাদের সদস্য সংখ্যা বলুন। তারাই খাবার টেবিল ও চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেবে। নিজেরাই অন্য টেবিলের চেয়ার টেনে বসবেন না।

দলের মধ্যে নারী সদস্য থাকলে তাদের আগে বসার ব্যবস্থা করে দিন। রেস্টুরেন্টে গিয়ে হেই মামা, হ্যালো, হুস বলে, মুখে শিস বাজিয়ে কিংবা টেবিল চাপড়ে ওয়েটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করবেন না। এতে অন্যদের কাছে হাসির পাত্র হতে পারেন। অপেক্ষা করুন, ওয়েটারই এসে আপনাদের চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাইবে। প্রয়োজন হলে এক্সকিউজ মি বলে ডাকুন। সবচেয়ে ভালো হয় আই কন্টাক্ট বা চোখে ইশারা করে ডাকা কিংবা হাত উঁচু করে ইশারা করা।

রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের আগে একটু সময় লাগে। এ সময় সবাই মিলে হাত উঁচিয়ে উচ্চ শব্দে কথা বলা, গল্প করা, হাসাহাসি করবেন না। রেস্টুরেন্টে আসা অন্যদের সুবিধার দিকটিও মাথায় রাখুন। খাওয়ার সময় শব্দ করবেন না। খেতে গিয়ে ঢেকুর উঠলে মুখ হাঁ করে ঢেকুর ছাড়বেন না। হাতে টিস্যু নিয়ে মুখ ঢেকে আস্তে করে ঢেকুর তুলুন। হাঁচি এলে মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে নিন। মুখে খাবার নিয়ে গল্প করবেন না। খেতে গিয়ে চামচ পড়ে গেলে নিজ থেকে তুলবেন না। কিংবা তুলে পুনরায় ব্যবহার করবেন না। ওয়েটারকে ডেকে নতুন আরেকটি চামচ দিতে বলুন।

খাওয়ার আগে মোবাইল ফোন টেবিলের ওপর রাখবেন না। খাওয়ার সময় মোবাইলে কথা কিংবা নেট ব্রাউজ করবেন না। ফোনটি সাইলেন্ট করে পকেটে রেখে দিন। কোনো খাবার সবাই মিলে শেয়ার করার সময় বাঁ দিক থেকে ডান দিকে খাবার বাটি পাস করুন।

বুফে রেস্টুরেন্টে গেলে খাবার নিতে হুড়াহুড়ি করবেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে ধীরেসুস্থে খাবার নিন। একসঙ্গে বেশি খাবার নিয়ে প্লেট উপচে ফেলবেন না। কম করে খাবার নিন। আগে নেওয়া খাবার শেষ করে প্রয়োজন হলে আবার নিন। পরে পাবেন না ভেবে আগেই ডেজার্ট আইটেম নিয়ে টেবিলে রেখে দেবেন না। সবাই মিলে খাবার খাওয়ার মানসিকতা লালন করুন।

দলবল মিলে গেলে আনন্দের আতিশয্যে প্রতিযোগিতা করে খাবার খাবেন না। যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই নিন।

খাবার দিতে দেরি, কোনো অসংগতি কিংবা কোনো অসুবিধা হলে ওয়েটারকে ধমক দেবেন না বা দল বেঁধে গেছেন বলে বাহাদুরি ফলাবেন না। রেস্টুরেন্টে আচরণে আপনার পারিবারিক শিক্ষা ও রুচির প্রকাশ পায়। বিষয়টি মনে রাখুন। প্রয়োজন হলে ম্যানেজারকে ডেকে সমস্যা খুলে বলুন। রেস্টুরেন্টে আসনের তুলনায় অতিথির সংখ্যা বেশি হলে খাবার শেষে চেয়ারে বসে আড্ডা দেবেন না। অন্যদের বসার ও খাওয়ার সুবিধা করে দিন। অনেক রেস্টুরেন্ট আছে, যেখানে কাউন্টারে গিয়ে বিল দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে সবাই গিয়ে ম্যানেজারের টেবিল ঘিরে দাঁড়াবেন না। একজন যান এবং বিল পরিশোধ করুন।

মনে রাখবেন, রেস্টুরেন্টগুলোতে অতিথিদের রাজার মতোই সম্মান করা হয় এবং বলা হয় কাস্টমার সব সময় সঠিক।

সেই অতিথিরাই যদি রেস্টুরেন্টের নিয়ম ভঙ্গ করেন তাহলে তাঁদের সেই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্যও করতে পারেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতি নিশ্চয়ই কাম্য নয়।



সাতদিনের সেরা