kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

ঈদের পরও ঈদের খাবার

ঈদে তো অনেক মাংস খেলেন। এবার গরুর মাথা, ভুঁড়ি ও কলিজার কিছু রেসিপি দিয়েছেন নাজিয়া ফারহানা

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



ঈদের পরও ঈদের খাবার

নেহারি

উপকরণ

গরুর পা ৬ ইঞ্চি টুকরা করে কাটা ৭-৮ খণ্ড, ৮ লিটার পানি, অল্প হলুদ গুঁড়া, পরিমাণমতো লবণ, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ করে, পেঁয়াজ কুচি বড় ১ কাপ, তেজপাতা ৪টি, দারচিনি ছোট ৪-৫ টুকরা, এলাচি ৪-৫টি, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, শুকনা মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ৩-৪টি।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. গরুর পায়ের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন।

২. পানি, হলুদ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে সিদ্ধ করুন ৩-৪ ঘণ্টা। পানি কমে এলে আঁচ কমিয়ে দিন। এবার পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, দারচিনি, এলাচি, তেজপাতা, শুকনা মরিচ গুঁড়া, গোলমরিচ গুঁড়া, কাঁচা মরিচ দিয়ে আঁচে বসিয়ে রাখুন আরো ৩-৪ ঘণ্টা।

৩. হাড়ে লেগে থাকা মাংস সিদ্ধ হলো কি না দেখুন। পানি বেশি টেনে গেলে গরম পানি মিশিয়ে আবারও ফুটতে দিন।

৪. সব মসলা গলে গিয়ে সুগন্ধ বের হলে নামিয়ে নিন।

৫. গরম গরম চালের রুটি, পরোটা বা তন্দুরি রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

আলু-বেগুনে ভুঁড়ি

 

উপকরণ

ভুঁড়ি ২ কাপ (পরিষ্কার করে সিদ্ধ করা), বেগুন আধা কেজি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ, এলাচি ২টি, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, দারচিনি ২ টুকরা, তেল পরিমাণমতো, লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. প্রথমে ভুঁড়ি ছোট ছোট করে কেটে নিন।

২. বেগুন ছোট ছোট করে কেটে সামান্য হলুদ, মরিচ ও লবণ মেখে অল্প তেলে ভেজে নিন।

৩. একটি প্যানে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, এলাচি, দারচিনি, জিরা গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এরপর ভুঁড়ি দিয়ে কষিয়ে ২ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে রাখুন।

৪. পানি শুকিয়ে গেলে এর মধ্যে ভাজা বেগুন দিয়ে নেড়ে আবারও ২ কাপ পানি দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন। ঘন হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে বাটিতে ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

গরুর মাথার মাংস ভুনা

উপকরণ

গরুর মাথার মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, টমেটো কুচি ১ কাপ, মরিচ গুঁড়া ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, সরিষার তেল ১ কাপ, লবণ পরিমাণমতো, জায়ফল, জয়ত্রি আধা চা চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. প্রথমে হাঁড়িতে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে নিন। এর মধ্যে পেঁয়াজ বাটা, টমেটো, হলুদ গুঁড়া, আদা বাটা, রসুন বাটা, মরিচ গুঁড়া ও তেজপাতা দিয়ে গরুর মাথার মাংস কষানে।

২. হাঁড়িতে ২ কাপ গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ কষিয়ে গরম মসলা, জিরা গুঁড়া, জায়ফল, জয়ত্রি গুঁড়া দিয়ে আবার ঢেকে রাখুন।

৩. কিছুক্ষণ পরে আবার নেড়ে দিন। ১৫ মিনিট দমে রাখুন।

৪.  পুরো সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে গরম ভাত, খিচুড়ি বা পোলাউয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

হাফমুন পাই

উপকরণ

আটা দেড় কাপ, পানি দেড় কাপ, বাটার ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, আদা ও রসুন বাটা ২ চা চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, চিনি ১ চা চামচ, চিলি ফ্লেক্স ১ চা চামচ, গাজর কুচি আধা কাপ, ক্যাপসিকাম ১টি, কাঁচা মরিচ কুচি ৫টি, হোয়াইট সস ১ কাপ, বোনলেস চিকেন কিমা ১ কাপ, ব্রেড ক্রাম্ব প্রয়োজনমতো, ডিম ২টি, তেল পরিমাণমতো, মাখন সামান্য, লবণ স্বাদমতো, তরল দুধ ২ টেবিল চামচ।

    যেভাবে তৈরি করবেন

১. প্রথমে পুরের জন্য চিকেন কিমা ও গাজর গ্রেট করে নিন। ক্যাপসিকাম ছোট ছোট করে কেটে নিন।

২. চুলায় প্যান বসিয়ে পরিমাণমতো তেল দিয়ে গরম হলে পিঁয়াজ কুচি ও কাঁচা মরিচ কুচি দিন। স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিন।

৩. এখন কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে পেঁয়াজ সাদা অবস্থায় পেঁয়াজ ও আদা বাটা দিয়ে ৫ মিনিট নেড়ে চিকেন ও সবজি দিয়ে দিন। ৬-৭ মিনিট পর হোয়াইট সস দিয়ে গোলমরিচ গুঁড়া ও চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন।

৪. পুর ঠাণ্ডা করুন। চুলায় একটি প্যান বসিয়ে পরিমাণমতো পানি, লবণ ও মাখন দিন। মাখন গলে গেলে আটা দিয়ে খামির তৈরি করে নিন।

৫. ভালো করে মেখে রুটি বেলে একটি কাটার দিয়ে গোলাকার করে কেটে নিয়ে পুর ভরে হাফমুন পাই বানিয়ে নিন। তারপর ডিম ভেঙে সঙ্গে ২ টেবিল চামচ দুধ ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে ফেটিয়ে নিন।

৬. তারপর পাই ডিমে চুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বে গড়িয়ে নিয়ে নরমাল ফ্রিজে রেখে ১০ মিনিট পর নামিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন।

 

রেসিপি : নাজিয়া ফারহানা

 

কলিজা ভুনা

উপকরণ

কলিজা আধা কেজি, পেঁয়াজ ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ। পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, দারচিনি, এলাচি, লং একত্রে বাটা আধা চা চামচ, তেজপাতা ১টি, পাঁচফোড়ন গুঁড়া ১ চিমটি, দারচিনি টুকরা ৩টি, জায়ফল ও জয়ত্রি বাটা চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, চিনি একচিমটি, টালা জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. কলিজা ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ভালো করে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। তাহলে রক্ত থাকবে না।

২. একটি বাটিতে কলিজার টুকরাগুলো নিয়ে এর মধ্যে তেল, টালা জিরা গুঁড়া, কেটে রাখা পেঁয়াজ বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে নিন।

৩. এবার একটি পাত্রে তেল গরম করে এর মধ্যে মসলা মাখানো কলিজাগুলো দিয়ে অল্প আঁচে নেড়ে কষান। যতক্ষণ না কলিজার পানি শুকিয়ে তেল ওপরে উঠে আসে ততক্ষণ নাড়তে থাকুন।

৪. কেটে রাখা পেঁয়াজ দিন। নেড়েচেড়ে আরো ১৫ মিনিট রান্না করুন। টালা জিরা গুঁড়া ছড়িয়ে আরো ৫ মিনিট পরে চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

মগজের কাবাব

উপকরণ

সিদ্ধ মগজ ১ কাপ, সিদ্ধ আলু ২ টেবিল চামচ (ম্যাশড), সিদ্ধ কাঁচা কলা ১টি, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, কাবাব মসলা আধা চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, মরিচ কুচি ২টি, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, ডিম ১টি, বিস্কুটের গুঁড়া ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. তেল, ডিম ও বিস্কুটের গুঁড়া ছাড়া বাকি উপকরণ একসঙ্গে মেখে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।

২. মিশ্রণ থেকে নিয়ে কাবাব আকারে গড়ে ডিমে ডুবিয়ে বিস্কুট গুঁড়া মেখে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন।

৩. এরপর ডুবো তেলে সোনালি রং করে ভাজুন।

৪. কাবাবের কাঠি বরফপানিতে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

৫. কাঠিতে গেঁথে প্রিহিটেড ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ২০ মিনিট বেক করুন।

৬.  গরম গরম পরিবেশন করুন গরম নানের সঙ্গে।

 

আটার উপকারিতা

১. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আটার রুটি খাওয়ার ফলে ২২ শতাংশ পর্যন্ত হূদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

২. পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো জানান, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা থেকেও মুক্তি দেয় আটার রুটি। কারণ আটার সমৃদ্ধ খাদ্য আঁশ বা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

৩. ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আটার রুটি বিশেষভাবে উপকারী। কারণ ময়দায় থাকা বাড়তি সুগার ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আটায় যা নেই বললেই চলে।

৪. যাঁরা ওজন কমানোর দিকে মন দিয়েছেন তাঁদের জন্যও আদর্শ আটার রুটি। ডায়েটিশিয়ানরা ডায়েট চার্টে আটার রুটি রাখতে পরামর্শ দেন।

৫.  আটায় থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শরীরকে দেয় ভরপুর উদ্যম, সঙ্গে মেটাবলিজম সিস্টেমকেও উন্নত করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। 

৬.   আটার রুটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়। এ ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আটার রুটি।

৮. প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা আটায় রয়েছে ক্যালরি ৭০ শতাংশ, ফ্যাট ৭৫ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১২ গ্রাম, ফাইবার ২ গ্রাম, সুগার ১.৫ গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম।



সাতদিনের সেরা