kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

বর্ষার পোশাকে

বর্ষায় এমন পোশাক বেছে নিন যেটির ম্যাটেরিয়াল ও মাধ্যম দুটিই টেকসই ও আরামদায়ক। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস ও টুয়েলভের সিনিয়র ডিজাইনার শুভাগত ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বর্ষার পোশাকে

মডেল : তানভীন সুইটি ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

‘নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।’ ঘনঘোর বর্ষার দিনে ঘরের বাইরে যেতে মানা করেছেন কবিগুরু। তবু জীবনের তাগিদে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বেরোতে হয় আমাদের। কারো বর্ষাযাপন ঘরের কোণে কাঁথা মুড়িয়ে, কারো বা বারান্দায় গরম কফির মগে। আবার অফিস যাওয়ার পথেও বৃষ্টি সঙ্গী হয় অনেকের। এমন দিনের জন্যও আছে বিশেষ নকশার পোশাক। বর্ষায় প্রকৃতি যেন নতুন জীবন লাভ করে। তারই প্রতিফলন ঘটে ফ্যাশন হাউসগুলোর বর্ণিল ডিজাইনের ফ্যাশনেবল পোশাকে। বর্ষায় আকাশ সাজে নীলে আর প্রকৃতি মেতে ওঠে সবুজ রঙে। এ সময়ের পোশাকেও দেখা যায় নীল ও সবুজ রঙের প্রাধান্য। একই সঙ্গে বৃষ্টি, রোদ ও গুমট আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেও পোশাকে নতুনত্ব যোগ করেন ডিজাইনাররা।

পোশাকের ম্যাটেরিয়াল

বর্ষার পোশাক আরামদায়ক করার দিকে মনোযোগ দিয়ে থাকেন ডিজাইনাররা। তারপরই নকশা ও অন্য সব কারুকাজ। এ জন্য এমন ম্যাটেরিয়াল বেছে নেন, যেগুলো বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেয়। বর্ষার পোশাকে সাধারণত জর্জেট, সিল্ক, শিফন, হাফসিল্ক, লিনেন, ভিসকস জাতীয় কাপড়ের প্রাধান্য দেখা যায়। এগুলো বর্ষায় বেশি আরামদায়ক। বৃষ্টির ছাঁট লেগে সামান্য ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন ম্যাটেরিয়ালের কাপড়। এ জন্য ডিজাইনাররা এই জাতীয় কাপড়েই বর্ষার নকশা, থিম ফুটিয়ে তোলার

প্রয়াস চালান। এ বছরও ফ্যাশন হাউসগুলোর বর্ষার পোশাকে এমন ম্যাটেরিয়ালের দেখা মিলছে বেশি। এ ছাড়া সুতিও পরতে পারেন বর্ষায়। সুতি বর্ষায় আরামদায়ক হলেও ভিজে গেলে শুকাতে একটু সময় লাগে। আবার ডেনিমও পরতে পারেন বর্ষায়। সব ঋতুতেই ডেনিম কাপড় মানানসই। হাফ কিংবা ফুল—দুই ধরনের ডেনিম প্যান্ট বর্ষার জন্য আদর্শ। হালকা রঙের ফেডেড ডেনিম

ছেলে-মেয়ে উভয়েরই পছন্দে এগিয়ে। পলিএস্টার কাপড়ের ক্রপ টপও বৃষ্টির দিনে ফ্যাশনেবল তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। আবার রেয়ন পরতে পারেন। এটি পরার পর সিল্কের মতোই অনুভূতি হয়। রেয়ন কাপড় আদতে সুতি আর লিনেনেরই মিশ্রণ। ফলে এর ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করে সহজে এবং শরীর শীতল থাকে। বর্ষায় এমন কাপড় বেছে নিন, যেটি পাতলা ফিনফিনেও নয়, আবার ভারীও নয়।

ডিজাইনাররা বর্ষার পোশাকে এখন নানা মোটিফ ফুটিয়ে তুলছেন। বর্ষার কদম, ময়ূর, মেঘ, নৌকা—সবই আসছে পোশাকে

মাধ্যম ও মোটিফ

বর্ষার পোশাকের প্রধান সমস্যা ভিজে যাওয়া ও স্যাঁতসেঁতে হওয়া। এ জন্য এই সময়ের পোশাকের ডিজাইনে মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন থাকেন ডিজাইনাররা। ব্লক ও বাটিকের মতো মাধ্যম বর্ষার পোশাকে একটু কমই দেখা যায়। কারণ এমন মাধ্যমের নকশা ভিজে গেলে সহজে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। এ জন্য সাধারণত স্ক্রিন প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, হাতের কাজের মাধ্যমে বর্ষার পোশাকের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। বর্ষার পোশাকে কম কারুকাজই বেশি পছন্দ সবার। সুতা কিংবা এমব্রয়ডারির ভারী কাজের চল কম। এবারের বর্ষার পোশাকেও ফ্যাশন হাউসগুলোতে দেখা মিলছে এমন সব মাধ্যমের ব্যবহার। বর্ষার পোশাকের মোটিফের মধ্যে এবারও এগিয়ে মেঘ, বৃষ্টি, বর্ষা, নৌকা, প্রকৃতি, পাখি, ফুল, লতাপাতা, ঢেউ, বর্ষার কবিতার লাইন, ছাতা ইত্যাদি

রং ও সুতা

বর্ষার পোশাকের রঙের খেলা খেলতে পছন্দ ডিজাইনারদের। এ জন্য বর্ষার রং নীল ও সবুজ থাকে প্রাধান্যের তালিকায়। বর্ষার আকাশ মাতে নীলে আর প্রকৃতি সাজে সবুজে। এর দেখা পাওয়া যায় পোশাকে। এ ছাড়া নীল, সবুজ, লাল, কমলা, হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙের দেখা মেলে বর্ষার পোশাকে। বর্ষার পোশাক সাজাতে সাধারণত টেকসই রংই বেশি ব্যবহারের প্রয়াস চালান ডিজাইনাররা। কারণ ভিজে যাতে রং নষ্ট হয়ে না যায়। এ জন্য বর্ষার পোশাক কেনার সময় পাকা রং দেখে পোশাক কেনার পরামর্শ দিলেন তাঁরা। হাতে বোনা তাঁতের সুতা, মেশিনে বোনা তাঁতের সুতা ও কটন সুতার কদর বেশি দেখা যায় বর্ষার পোশাকের কাপড় বুননে।

ম্যাটেরিয়ালে দেখা মিলছে শিফন, সিল্ক, জর্জেট, হাফসিল্ক ইত্যাদির। ভারী কাজের নকশাও ফুটে উঠছে মসলিনের মতো ম্যাটেরিয়ালে

খেয়াল রাখুন

বর্ষায় বেশি জমকালো পোশাক না পরাই ভালো। এমন পোশাক বৃষ্টির ছাঁট লেগে ভিজে গেলে শুকাতে বেশি সময় লাগবে। এ জন্য এমন পোশাক বেছে নিন, যেটি ভিজলেও সহজে শুকিয়ে যায়। সিল্ক, হাফসিল্ক, জর্জেট, লিনেন, ভিসকস জাতীয় পোশাক সহজেই শুকিয়ে যায়। বর্ষায় পরিবেশ অনেক সময় ভাপসা গরম মনে হয়। এ সময় হাফসিল্ক অথবা সিল্ক লেসজাতীয় পোশাক বেছে নিতে পারেন। আরাম লাগবে।

 

 

 



সাতদিনের সেরা