kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

এবার চাই পেটের আরাম

ঈদের জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার পর একে তো চলে আসে একঘেয়েমি, তার ওপর পেটেরও দরকার হয় আরাম। তেমনই কয়েকটি রেসিপি দিয়েছেন নাজিয়া ফারহানা

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



এবার চাই পেটের আরাম

চিংড়িতে ডাঁটা আলুর ঝোল


উপকরণ
চিংড়ি (ছোট) ১ পোয়া, ডাঁটা আধা কেজি লম্বা করে কাটা, আলু ১টা (বড়) ডাঁটার সমান লম্বা করে কাটা, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, আদা বাটা চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, জিরা বাটা চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, হলুদের গুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ ও তেল পরিমাণমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন
১.     কড়াইয়ে তেল দিয়ে পরিষ্কার করে রাখা চিংড়ি ভেজে নিন।
২.     চিংড়ি ভাজা হলে এতে সব মসলা, লবণ ও সামান্য পরিমাণ পানি দিয়ে কষিয়ে নিন।
৩.     কষানো মসলায় ডাঁটা ও আলু দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন।
৪.     এরপর পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিন। সিদ্ধ হয়ে গেলে ঝোল দেখে নামিয়ে নিন।
৫.  গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন মজাদার চিংড়ি, ডাটা ঝোল।

ইলিশ মাথায় পুঁই-কুমড়ো

উপকরণ


ইলিশ মাছের মাথা ৪টি, পুঁইশাকের ডগা ৪-৫টি, কুমড়ো ১৫০ গ্রাম টুকরা করা, পেঁয়াজ চার টুকরা করা ২টি, রসুন ৪ কোয়া, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ চামচ, হলুদ আধা চামচ, কাঁচা মরিচ ৫টি, পাঁচফোড়ন আধা চামচ, শুকনো মরিচ ১টি, সরিষার তেল ১ চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন
১.     হাঁড়িতে পুঁইশাক, কুমড়ো, পেঁয়াজ, রসুন একসঙ্গে সিদ্ধ করে নিন।
২.     এরপর কড়াইয়ে তেল গরম করে পাঁচফোড়ন ও শুকনো মরিচ দিয়ে ফোড়ন দিন।
৩.     এর মধ্যে ইলিশ মাছের মাথা, লবণ, চিনি, হলুদ, কাঁচা মরিচ দিয়ে ফুটিয়ে নামিয়ে নিন।

 

ঝিঙা চিংড়ি

উপকরণ
ঝিঙা কেটে নেওয়া ২ কাপ, চিংড়ি মাছ কেটে নেওয়া ১ কাপ, আলু টুকরা করে নেওয়া ১ কাপ, হলুদ, মরিচ ও জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, তেল ১ টেবিল চামচ, আদা ও রসুন বাটা আধা চা চামচ করে, পেঁয়াজ কুচি ১টা, কাঁচা মরিচ ৫-৬টা।

যেভাবে তৈরি করবেন
১.     একটা কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি হালকা ভেজে নিয়ে আদা-রসুন বাটা দিয়ে নেড়ে নিন।
২.     সামান্য পানিতে মরিচ, হলুদ গুঁড়া, আলু, লবণ ও মাছ দিয়ে নেড়েচেড়ে কষান। এরপর ঝিঙা দিয়ে সামান্য পানি দিন।
৩.     খানিকপর জিরা গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

ডাল করলা চচ্চড়ি
উপকরণ
মসুরের ডাল আধা কাপ, মুগডাল আধা কাপ, করলা ৩টি, আলু পাতলা করে কাটা ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ৩ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৫টি, জিরা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, তেজপাতা ২টি, তেল ২ চা চামচ, ধনেপাতা ২ চা চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন
১.     প্রথমে দুই রকম ডাল মিশিয়ে নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
২.     অল্প পানি দিয়ে আলু ও ডাল একসঙ্গে সিদ্ধ করুন।
৩.     সিদ্ধ করার সময় পানিতে সামান্য লবণ দিন।
৪.     একটি কড়াইয়ে মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন।
৫.     তেল গরম হয়ে এলে এতে জিরা ও তেজপাতা দিন।
৬.     এবার পেঁয়াজ ও রসুন কুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন।
৭.     পাতলা করে কেটে রাখা করলা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন।
৮.     করলা ভাজা ভাজা হলে কড়াইয়ে সিদ্ধ করে রাখা আলু ও ডাল একসঙ্গে দিন।
৯.     এবার লবণ, কাঁচা মরিচ ও হলুদ গুঁড়া দিন।
১০. সব কিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন।
১১. একটু পাতলা ডাল খেতে চাইলে পরিমাণমতো পানি যোগ করুন।
১২. দশ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখে নিন।
১৩. ডাল মাখা মাখা হলে ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। ব্যস, হয়ে গেল ডাল করলা চচ্চড়ি।

থানকুনি পাতা ভাজি

উপকরণ
থানকুনি পাতা ২ আঁটি, রসুন ২টা (কুচি করে কাটা), পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ (ফালি করা) ৪-৫টি, লবণ পরিমাণমতো, তেল ২ টেবিল চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন
১. প্রথমে থানকুনি পাতা বেছে ধুয়ে কুচি করে নিন।
২. কড়াইয়ে তেল দিয়ে গরম হলে লবণ, পেঁয়াজ, রসুন কুচি ও কাঁচা মরিচ দিন।
৩. পেঁয়াজ একটু লাল হলে নেড়ে ঢেকে দিন।  
৪. থানকুনি পাতা দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে ভাজা ভাজা হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

পাঁচ মিশালি সবজিতে মাছ

উপকরণ
যেকোনো মাছ ২৫০ গ্রাম, আলু ১০০ গ্রাম (লম্বা করে কাটা), টমেটো ৪টি (ফালি করা), শিম ৫০ গ্রাম, পটোল ১০০ গ্রাম, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, পেঁয়াজ কাটা ১০০ গ্রাম, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, আদা বাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, তেল ৪ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, পানি সামান্য।

যেভাবে তৈরি করবেন
১. মাছ একটু লবণ ও হলুদ মেখে হালকা ভেজে নিন।
২. কাঁচা মরিচ ও ভাজা মাছ বাদে সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মাখিয়ে নিন।
৩. অল্প পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।
৪. রান্নার মাঝামাঝি কাঁচা মরিচ ও ভাজা মাছ দিয়ে দিন।
৫. ঝোল মাখা মাখা হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মসলার স্বাস্থ্যগুণ

মসলারও আছে নানা উপকারিতা। মসলা খাবার শুধু সুস্বাদুই করে না যোগ করে স্বাস্থ্যগুণও। মসলার উপকারিতার কথা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া মামুন

বিভিন্ন ধরনের মসলার নানা রকমের ভেষজ গুণ রয়েছে। পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ, রসুন ইত্যাদি আমাদের খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ায়, তেমনি আরো কিছু উপকার করে।

পেঁয়াজ : ঠাণ্ডাজনিত রোগ সারাতে পেঁয়াজ উপকারী। বদহজম ও রক্তচাপ কমানো, রক্তজমাট বাঁধা দূর করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পেঁয়াজের উপকারিতা রয়েছে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে।
রসুন : রসুন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবেও কাজ করে, সর্দি-কাশি সারায়। উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করে, রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে, শ্বাসকষ্ট কমায়, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। রসুনের এলিসি নামের উপাদান ওজন কমাতে সাহায্য করে।
আদা : আদা রক্তসংবহনে সাহায্য করে। কাশি, বমিভাব কমাতে ও বদহজমে আদা ব্যবহূত হয়। আদার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কাশি কমে। মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতেও আদা উপকারী। মোশন সিকনেস কমাতে এটি ব্যবহূত হয়।
মরিচ : মরিচ স্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে, বাতের ব্যথা কমায়। ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে এবং খিদে বাড়ায়। কাঁচা মরিচ ভিটামিন ‘সি’র চমত্কার উত্স।
হলুদ : হলুদে পর্যাপ্ত আয়রন আছে বলে এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ব্যাকটেরিয়ারোধী। পাকস্থলীর প্রদাহ কমায়, কফ-ঠাণ্ডায় উপকারী। ক্ষতস্থানে হলুদ লাগালে তা শুকাতে সাহায্য করে। ত্বকের রং উজ্জ্বল করে। প্রস্রাবের জ্বালা কমাতে হলুদের সঙ্গে মধুর মিশ্রণ উপকারী।

 



সাতদিনের সেরা