kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ফ্ল্যাট কিনতে ঋণ দরকার?

ফ্ল্যাট বা জমি কেনার জন্য ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী। আবাসন খাতের জন্য কোন কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দিতে আগ্রহী, তা বিস্তারিত জানাচ্ছেন এ এস এম সাদ

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফ্ল্যাট কিনতে ঋণ দরকার?

নিজেদের একটি ফ্ল্যাট কেনা প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন। ভাড়া বাসায় মাসে মাসে বাড়ি ভাড়া গোনার সঙ্গে আছে নানা ঝামেলাও। এ জন্য একটু কষ্ট করে হলেও অনেকেই টাকা জমিয়ে বা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনছেন। ব্যাংকও এখন আবাসন খাতে ঋণ আগের চেয়ে বেশি দিচ্ছে। কেননা এ খাতে ঋণ অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ। ফলে ঋণ পাওয়াও তুলনামূলক সহজ। গত বছর করোনার জন্য ফ্ল্যাট কেনার প্রবণতা কমে গেলেও এখন আবার গ্রাহকরা আগ্রহী হচ্ছেন।

লোন নেবেন কিভাবে

ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। তবে ব্যাংকভেদে এই সুদের হার ৭ থেকে ৯ শতাংশ। আবার কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই সুদের হার বেশি। গত বছর নিয়ম ছিল, আবাসন খাতে ফ্ল্যাট কেনা ও বাড়ি বানানোর জন্য গ্রাহক সর্বোচ্চ ঋণ পেতে পারেন দুই কোটি টাকা। তবে এই ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ ব্যাংক দেবে, বাকি ৩০ শতাংশ গ্রাহককে বহন করতে হবে। আপনি যদি এক কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কিনবেন বলে ঠিক করেন, তাহলে ব্যাংক আপনাকে ঋণ দেবে ৭০ লাখ, বাকি ৩০ লাখ টাকা দিতে হবে আপনাকে। তবে ব্যাংক থেকে আপনি কত টাকা ঋণ পাবেন সেটি নির্ভর করে আপনার মাসিক বেতন ও আয়ের ওপর।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা

ঋণগ্রহীতা ২৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সের হতে হবে। যাঁরা চাকরিজীবী, তাঁদের মাসিক আয় হতে হবে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা। আবার ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারাও এই ঋণের সুবিধা পাবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের এই ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। বেসরকারি চাকরিজীবী হলে আপনার চাকরির স্থায়িত্ব, মাসিক বেতন, ঋণখেলাপি, অন্যান্য আয়ের ওপর ব্যাংকঋণ নির্ভর করে।

আবাসন খাতে যারা বেশি ঋণ দিচ্ছে 

গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি আবাসন ঋণ নেন আইএফআইসি ব্যাংক থেকে। ব্যাংকটির ‘আমার বাড়ি’ নামে আলাদা একটি স্কিম রয়েছে। এই ব্যাংক বাড়ি নির্মাণে দুই কোটি ও সেমিপাকা ভবন নির্মাণে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। অন্যান্য ব্যাংক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ব্যাংক এশিয়ায় সুদের হার ৯ শতাংশ। সিটি ব্যাংকে সাড়ে ৭ শতাংশ। আবার সোনালি ব্যাংকও ৯ শতাংশ সুদে এই ঋণ দিচ্ছে। অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইপিডিসি ও আইডিএলসির আবাসন খাতের ঋণের সুদের হার প্রায় ১২ শতাংশ।

এলাকার ওপর নির্ভর করে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক 

গত মে মাসে সোনালী ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী জায়গার ওপর ভিত্তি করে ঋণ দেওয়া হয়। গুলশান, বনানী, ধানমণ্ডি, বারিধারা, উত্তরা, লালমাটিয়া, ডিএইচএস (মহাখালী, বারিধারা, মিরপুর, বনানী), ঢাকা ও চটগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য উন্নত এলাকা, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় সদর এলাকায় দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংকঋণ দেয় তারা।

নথিপত্র যা লাগবে

ফ্ল্যাট কেনার ঋণের জন্য অবশ্য কাগজপত্র কম লাগে। এ জন্য ফ্ল্যাট ক্রেতা ও ডেভেলপারের সঙ্গে সম্পাদিত ফ্ল্যাট ক্রয়ের রেজিস্ট্রি করা চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি দিতে হবে। এ ছাড়া জমির মালিক ও ডেভেলপারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি এবং ফ্ল্যাট কেনার রেজিস্ট্রি করা বায়না চুক্তিপত্রের মূল কপি এবং বরাদ্দপত্র লাগবে। বাড়ি নির্মাণ ঋণের জন্য প্রথমেই দরকার যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত নকশার সত্যায়িত ফটোকপি, মূল দলিল, নামজারি খতিয়ান, খাজনা রসিদের সত্যায়িত ফটোকপি। এ ছাড়া লাগবে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস খতিয়ানের সত্যায়িত কপি।

জেলা বা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ১২ বছরের তল্লাশিসহ নির্দায় সনদ (এনইসি)। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া জমির ক্ষেত্রে লাগবে মূল বরাদ্দপত্র ও দখল হস্তান্তরপত্র।