kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

বৃষ্টিতে যেমন জুতা

যখন-তখন বৃষ্টি হচ্ছে বিনা নোটিশে। এমন সময় জুতা হওয়া চাই আরামদায়ক। বৃষ্টি-কাদায় ভিজে যাতে নষ্ট না হয়, খেয়াল রাখা জরুরি তাও। বৃষ্টিবান্ধব বাহারি ডিজাইনের টেকসই জুতা এখন পাওয়া যায় বাজারে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৃষ্টিতে যেমন জুতা

‘নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে।/ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দিন ঘরে বসে থাকার সুযোগ অনেকেরই মেলে না। বিশেষ করে নিত্যদিন যাদের বাইরে বেরোতেই হয় বৃষ্টির কারণে জুতা নিয়ে তাদের পড়তে হয় বাড়তি বিপত্তিতে। বিশেষ করে চামড়ার জুতা নিয়ে  ভুগতে হয় বেশি। বৃষ্টির দিনে পরার জন্য তাই আলাদা উপাদানে স্যান্ডেল সু তৈরি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, যেগুলো বৃষ্টি ও কাদাতেও নষ্ট হয় না। স্যান্ডেল সু আর জুতার মূল পার্থক্য হলো, স্যান্ডেল আবরণ খোলা দুই ফিতার বা ব্যান্ড হোল্ডিং হয়। আর জুতা পা জোড়াকে ঢেকে রাখে।

বৃষ্টি উপযোগী স্যান্ডেল

বর্ষায় বৃষ্টি বলে-কয়ে আসে না। হুটহাট যখন তখন নেমে পড়ে। এ সময় শখের চামড়ার জুতা পরে না বেরোনোই ভালো। একে তো চামড়ার জুতা বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ভয়, তার ওপর এমন জুতায় কাদা ছিটে ময়লা হয় জামাকাপড়। এমন দিনে বুদ্ধি করে তাই বৃষ্টিদিনে পরার উপযোগী স্যান্ডেল বেছে নিন।  বাটার মার্কেটিং ম্যানেজার ইফতেখার মল্লিক বলেন, ‘প্রতিবছর বৃষ্টিতে পরার জন্য নতুন নকশার স্যান্ডেল আনে বাটা। এবারও পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো পানিনিরোধক। বৃষ্টি-কাদায় ভিজলেও নষ্ট হয় না। আবার হাঁটতে গেলে কাদা ছিটবে না।’ বৃষ্টির দিনের এসব পাদুকা রাবার, রেক্সিন, স্পঞ্জ ও সিনথেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি বলে পানিতে ভিজলেও নষ্ট হয় না। এগুলোয় উন্নত মানের রাবার ও পিভিসি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পানির সঙ্গে মিশে পায়ের সংস্পর্শে এলেও এটা থেকে চুলকানি বা অন্য সমস্যা হওয়ারও ভয় থাকে না।

যেমন নকশা

স্যান্ডেল বা জুতা এখন আর শুধু পায়ের সুরক্ষাবস্তুই নয় বরং ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গও। তরুণ-তরুণীর ফ্যাশন ও পছন্দের কথা ভেবে প্রতিবছরই নতুন নকশা যুক্ত হয় স্যান্ডেলে। ইফতেখার মল্লিক জানালেন, ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা নকশা করে বাটা। বাটায় এবার মেয়েদের বৃষ্টির স্যান্ডেলে তারা, ফুল, প্রজাপতিসহ প্রকৃতিকে উপজীব্য করে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর ছেলেদের জন্য প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে স্ট্রাপ নকশায়। পানিনিরোধক এসব জুতার ব্যবহারের ক্ষেত্র বিবেচনায় আছে আলাদা ডিজাইন ও নকশা। সকাল অথবা বিকেলের হাঁটাহাঁটিতে যেমন মিলবে আরামদায়ক স্যান্ডেল, তেমনি আবার অফিস ও পার্টির জন্যও আছে বিকল্প ব্যবস্থা। পানিনিরোধক বেশ কিছু জুতা পাবেন যেগুলো পিভিসি ম্যাটেরিয়ালে তৈরি হলেও দেখতে চামড়ার জুতার মতো। এগুলোও বৃষ্টিতে আরামদায়ক ও ভিজে নষ্ট হয় না।

রঙের বৈচিত্র্য

লাল, নীল, বাদামি, পিংক, কালো, সবুজ, হলুদ, কমলা ও ছাই রঙা স্যান্ডেল ও জুতার দেখা পাবেন শোরুমগুলোতে। কোনো কোনো জুতায় আবার একাধিক রঙের সংমিশ্রণে নতুনত্ব আনা হয়েছে।  

 

কোথায় পাবেন, কেমন দাম

বাটা, এপেক্স, জেনিস, বে এম্পোরিয়াম, লোটো, ওরিয়নসহ ছোটবড় প্রায় সবগুলো ব্র্যান্ডেই বৃষ্টিতে পরার উপযোগী স্যান্ডেল পাওয়া যায়।

নকশা ও মান ভেদে দাম পড়বে ১৯৯ থেকে ৫৯৯ টাকার মধ্যে।

একটু কম দামে কিনতে চাইলে যেতে পারেন নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান, মিরপুর ১০ নম্বরের নন-ব্র্যান্ড দোকানে।

মনে রাখুন

 বৃষ্টির দিনে কম উচ্চতার একেবারে ফ্ল্যাট জুতা না পরে একটু উঁচু হিলের জুতা পরুন। সহজে পায়ে কাদা লাগবে না।

 পুরো পা জুতার মধ্যে আটকে থাকে এমন জুতা না পরে দুই ফিতার জুতা পরুন।

এতে বৃষ্টিতে পা ভিজে গেলেও বাতাসের সংস্পর্শে দ্রুত শুকিয়ে যাবে।

 বৃষ্টিতে কাপড়, চামড়া ও রেক্সিনের তৈরি জুতা পরে না বেরোনোই ভালো। ভিজে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।

পায়ের মাপ বুঝে সঠিক সাইজের জুতা পরুন। তাহলে কাদা ছিটে উঠবে না।

জুতার পেছনে বেল্ট থাকলে পায়ের সঙ্গে বেঁধে নিন। হোঁচট ও কাদা-পানির ছিটা থেকে মুক্তি পাবেন।