kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

সময়টা সুতি শাড়ির

হঠাত্ একটু-আধটু বৃষ্টি হলেও কালটা গরমের। এ সময় সুতির শাড়িই দিতে পারে স্বস্তি। সুতি শাড়িতে কী ধরনের কাজ হচ্ছে, ট্রেন্ডে কী চলছে—কার্পাসের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার ফারজানা নীলার সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন জিনাত জোয়ার্দার রিপা

৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সময়টা সুতি শাড়ির

মডেল : মৌমিতা মৌ শাড়ি ও ব্লাউজ : কার্পাস সাজ : মীম সাবরীন ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

গরমে শরীরে বাতাস চলাচল ও ঘাম শুষে নিতে পারার ক্ষমতার কারণে সুতি কাপড়ের আদর চিরন্তন। ঐতিহ্যবাহী ও সাবেকি ঘরানার হলেও সুতি একই সঙ্গে দারুণভাবে সমকালীনও বটে। যুগে যুগে এর রূপ-বৈচিত্র্যে বদল ঘটলেও কদর কমেনি একটুও।

 

সুতির রকমফের

সুতি, চেক, কোটা, ফাইন সুতি, প্রিন্ট, তাঁত, মনিপুরি, জামদানি, জ্যাকার্ডসহ নানা রকম সুতি শাড়ি রয়েছে। সুতির মিশ্রণে তৈরি সিল্ক তাঁত, হাফ সিল্ক শাড়িতেও করা হচ্ছে দারুণ সব নকশা, পরতেও আরামদায়ক। এখন আবার প্রতিবেশী দেশের শান্তিনিকেতনি খেশ সুতি তৈরি হচ্ছে এখানেও। জনপ্রিয় সেটিও। সুতার বুননে দুই-তিন রকম ফেব্রিকের মিশ্রণেও তৈরি হচ্ছে সুতি শাড়ি। অনেক ক্ষেত্রে জমিন সিল্কের হলে আঁচল হচ্ছে সুতিতে। তাতে মোটিফে ভিন্নতা চলে আসছে অনায়াসে।

সুতি শাড়িতে মাধ্যম হিসেবে এসেছে ব্লক, বাটিক,   ভেজিটেবল টাই-ডাই, হাতের কাজসহ নানা কিছু। নতুনত্ব এসেছে ব্লাউজের কাটেও

নকশায় নতুনত্ব

সুতি শাড়ির বড় বৈশিষ্ট্য, সব বয়সীর জন্যই মানানসই। সময়ের চাহিদায় সুতি শাড়ির আঁচল ও পাড়ে নানা বৈচিত্র্য নিয়ে আসছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। কুঁচিতেও থাকছে নানা কারুকাজ। কখনো শাড়ির পাড়ে থাকছে ভরাট বুনন তো কখনো আবার আলাদা নকশা করা পাড়ও জুড়ে দেওয়া হয় শাড়িতে। জমিনে বাহারি নকশা। কিছু সুতি শাড়ির জমিন, আঁচল, পাড়ে রয়েছে কাঁথা স্টিচ, ফুলেল প্রিন্ট, জামদানি প্রিন্ট, অ্যাপ্লিক, গুজরাটির মতো মনকাড়া কাজ। কারচুপি, চুমকি, এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, অ্যাপ্লিক কাজের সিল্ক তাঁত, তাঁত, কোটা সুতি শাড়ি দেখতে চটকদার বলে অনায়াসে পরা যায় যেকোনো অনুষ্ঠানেও।

 

রঙে বৈচিত্র্য

এই মৌসুমে হালকা কাজ বা নকশার শাড়ি বেছে নেওয়া ভালো। তাই বলে ইচ্ছা হলে ভারী কাজের সুতি শাড়ি পরা যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। একরঙা জমিন, চিকন পাড় আর হালকা নকশার আঁচলের শাড়ি যেমন আরাম দেবে, তেমনি একটু ভারী কারুকাজও খুব অস্বস্তিতে ফেলবে না। স্ক্রিন প্রিন্ট বা জলছাপ, বাটিক বা ব্লকের শাড়িও আরাম দেবে। অনুষ্ঠান বা রাতের আয়োজনে ভিন্ন কিছু পরতে চাইলে বেছে নিতে পারেন সুতির মিশ্রণে তৈরি সিল্ক তাঁত, হাফ সিল্ক সুতি বা সুতি জামদানি। লেমন, হালকা গোলাপি, হলুদ, সাদা, চাঁপা সাদা, বেগুনি, ঘিয়া, বাদামি, আকাশি, নীলের মতো যেকোনো শেড পরতে পারেন।

স্টাইলিশ লুক পেতে

পরার ধরনে ভিন্নতা এনে সুতি শাড়িতেও হতে পারেন স্টাইলিশ। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ভিন্ন কাটও পাল্টে দিতে পারে লুক। শাড়ির রং, পরার ধরন ও সাজ মাথায় রেখে থ্রি কোয়ার্টার হাতা, স্লিভলেস, পিঠখোলা বা ঘটি হাতা নকশার ব্লাউজও বেছে নিতে পারেন। গরমে পেছনের দিকটা চওড়া ও খোলা গলার ব্লাউজ আরাম দেবে। ব্লাউজের গলা, হাতায় আলাদা পাড় বা লেইস বসিয়েও আনা যায় ভিন্নতা। তাঁতের শাড়ির সঙ্গে হাইনেক, স্লিভলেস, বেন্ড কলার, বোট কলার ব্লাউজ পরতে পারেন অনুষ্ঠান বা আয়োজনে। স্টাইলিশ লুক আনতে একরঙা ব্লাউজের বদলে পরুন প্রিন্ট, ব্লক-বাটিক বা কলমকারি ব্লাউজ।

সাজ হতে পারে জমকালো

‘সুতি শাড়ির সঙ্গে স্নিগ্ধ সাজই কেবল চলে, এ ধারণা পুরনো এখন। লুকে চমক আনতে সুতি শাড়িতেই সাজ হতে পারে জমকালো। চুল ছোট হলে ছেড়ে রাখতে পারেন। করতে পারেন ব্লো কার্লও। বড় চুল খোঁপা বা বেণি করতে পারেন। এখন খোঁপা, বেণির ধরনেও পাবেন বিচিত্রতা। ইচ্ছা হলে করুন ভারী মেকআপও। বৈচিত্র্য আনতে পারেন গয়নায়। সুতি শাড়ি বলেই যে হালকা গয়না পরতে হবে তা কিন্তু নয়। ইচ্ছা হলে বেছে নিন ধাবত, মাটি, মেটাল, কাঠ, কুন্দন, পুঁতি, স্টোন, সোনা, রুপা, মুক্তাসহ যেকোনো গয়না। ফিউশন গয়নাও পরতে পারেন’—বললেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।

 



সাতদিনের সেরা