kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

কত কাজের কুচি

রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরবাড়ি থেকেই বাঙালি প্রথম কুচি দিয়ে শাড়ি পরা শেখে। শেখান তাঁরই বৌদি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী। এমনকি ব্লাউজে কুচির ব্যবহারও এ বাড়িতেই প্রথম। কালক্রমে কুচির নকশা এখন ফ্যাশনে যোগ করছে নতুন মাত্রা। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার বিপ্লব সাহার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন জিনাত জোয়ার্দার রিপা

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কত কাজের কুচি

মডেল : জেসিয়া, পোশাক : বিশ্বরঙ, সাজ : মীম সাবরীন, ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

শুরুর কথা

শুরুটা তো হয়েছিল ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলেই। বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য এক প্যাঁচে পরা শাড়ির রূপের বদল ঘটল জ্ঞানদানন্দিনীর হাত ধরেই। তিনিই প্রথম পরতে শেখালেন কুচি দিয়ে শাড়ি পরা। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার চলও শুরু হলো এ বাড়ি থেকেই। তারপর ব্লাউজের নকশায় নতুনত্ব আনতে তাতেও জুড়ে দেওয়া হলো কুচি। কখনো একই কাপড়ের টুকরো দিয়ে হাতায়, কখনো আলাদা করে লেইসের সাহায্যে। কুচির নকশা তাই অধুনা নয়। তবে এখন এর মাধ্যমেই নানা পোশাকের নকশায় আনা হচ্ছে বৈচিত্র্য।

ব্লাউজে কুচি

নানাভাবে ব্লাউজের নকশায় কুচি আসে। কখনো ঘটি হাতায়, তো কখনো বাটারফ্লাই ফ্রিলে। কুচিরই আধুনিক আদুরে নাম ফ্রিল। এই কুচি আবার ব্লাউজে আসে নানা কায়দায়। কখনো হাতার শেষ প্রান্তে ঘন কুচি, কখনো আলাদা লেইসে হাতার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া কুচি, আবার কখনো একেবারে কাঁধ থেকেই শুরু হয় কুচির বাহার। শুধু তাই নয়, গলার নকশায়ও কুচি আসে নানা ভঙ্গিতে। এখন তো কাঁধের নিচে কিংবা কটিদেশেও কুচির নকশা নিয়ে কাজ করছেন ডিজাইনাররা।

শাড়িতে কেমন

একটা সময় পর্যন্ত শাড়ি পরার স্টাইলেই শুধু আবদ্ধ ছিল কুচি। মানে কি না কুচি দিয়ে শাড়ি পরা। এখন এর ব্যাপ্তি বেড়েছে। শাড়ির পাড়ে ও আঁচলে ফ্রিল জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শাড়িটির ভোলই যাচ্ছে পাল্টে। দেখতেও দারুণ লাগে। এমনকি এখন তো রেডি টু ওয়্যার শাড়ির চল শুরু হয়েছে। এই সময়ের মেয়েরা যারা সময়কে অজুহাত করে শাড়ি না পরার কারণ খোঁজে, এই ধরনের শাড়ি তাদের জন্য এক্কেবারে জুতসই। শাড়ির প্যাঁচ, কুচি, আঁচলও তৈরি করে রাখাই থাকে। শুধু পিন করে পরে নিলেই হলো।

কামিজ আর কুর্তিতে

বলা বাহুল্য, কামিজ বা কুর্তিতে কুচির ডিজাইন সবচেয়ে বেশি জায়গা পায় নিজেকে মেলে ধরার। কামিজের হাতা-গলায়, কুর্তির হাতা-গলা কিংবা নিচের প্রান্তে অথবা আনারকলির ঘেরে কুচি আসে নানা ভঙ্গিতে। ব্লাউজের হাতা বা গলায় যেভাবে ফ্রিল ব্যবহার করা হয়, ঠিক তেমন করেই হয় এসব পোশাকেও। হাল ফ্যাশনের লাগাম ধরতে মেয়েদেরও এখন ফ্রিলের নকশায় মন মেতেছে। লুকের বৈচিত্র্য আনতে পোশাকে শুধু কিছু কুচিই যথেষ্ট।

কুচি এখন সালোয়ারেও

সালোয়ারই বা বাদ যায় কেন! পাকিস্তানি কাট হোক কি পালাজো, শারারা কি প্যানেল কাট—কুচির নকশা ব্যবহূত হচ্ছে সর্বত্র। এমনতর নকশার সালোয়ার নিজেই এতটা বিশেষ যে তাকে ফুটিয়ে তুলতে সাধারণ কামিজ কিংবা কুর্তিই ঢের। আলাদা করে পোশাকে জাঁক আনতে হয় না।

 

পাওয়া যাচ্ছে কোথায়

দেশি সব ফ্যাশন হাউস তো বটেই, নগরের যেকোনো বিপণিবিতানেই দেখা মিলবে কুচি দেওয়া পোশাকের। তবু যদি নিজের পোশাকটি আরো খানিকটা আলাদা দেখাতে চান তাহলে চলে যান দর্জিবাড়ি। পছন্দের নকশার ছবি হাতে ধরিয়ে দিলেই দর্জি সেই মতো বানিয়ে দেবেন আপনার পোশাক।

 

দাম কেমন

ফ্রিলের শাড়ি এখন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পাওয়া যায় ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। ব্লাউজের দাম নির্ভর করবে আপনার ব্লাউজের কাপড়, নকশা আর লুকের ওপর। সে ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে দাম তিন হাজার টাকাও হতে পারে। তবে এখন কুচি দেওয়া ব্লাউজ রেডিমেড কিনতেও পাওয়া যায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। কামিজ, কুর্তির দাম হয় সেটসহ বা ছাড়া কেমন নেবেন তার ওপর। সালোয়ারসহ নিলে দেড় হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজারের মধ্যে। আর এককভাবে শুধু কুর্তি কিনলে ৬০০ টাকা থেকে শুরু হয় দাম।

 

♦   কামিজের হাতে, ইয়কের নিচে, কুর্তির হাতায় কিংবা আনারকলির ঘেরে কুচির কারুকাজ লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য পেয়েছে।

♦   শাড়ির পাড়ে ও আঁচলেই শুধু নয়, ব্লাউজের গলায়, হাতায়, এমনকি আন্ডার শোল্ডারেও করা হয়েছে কুচির নকশা।

মন্তব্য