kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

সোনাই নয় বিয়ের গয়না

বিয়েতে সোনার গয়নাই পরতে হবে, এমন ধারণা পাল্টে দিচ্ছেন এখন অনেক কনে। একদিকে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে হাল জামানার স্টাইল স্টেটমেন্ট—সব মিলে বিয়ের গয়নায়ও এসেছে নতুনত্ব। বাজার ঘুরে জানালেন জিনাত জোয়ার্দার রিপা

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনাই নয় বিয়ের গয়না

বিয়েতে সোনার গয়না পরাই ছিল চল। কনেপক্ষ হোক বা বরপক্ষ, বিয়েতে কনেকে সোনায় সাজাতে ভালোবাসত। বিয়ের সেই চিরায়ত রূপের বদল ঘটেছে বছর কয়েক ধরে। হাল ফ্যাশনের রাশ ধরতে অনেক কনেই এখন সোনা পরছেন না। সোনার পানিতে ধোয়া, কিংবা ইমিটেশনের কালও বোধ করি অতীত হচ্ছে। সোনা না হোক, অন্তত তেমন দেখতে, সেই ধারণা থেকেই এসেছিল গোল্ড প্লেটেড গয়নার চল। সেও চলেছে কিছুকাল। তারপর ভাঙতে শুরু করল সে ধারণাও। এখন তো কুন্দন, স্টোন, রুপা, এমনকি রুপালি রঙের অক্সিডাইজড গয়না পরেই বিয়ের আসর মাতাচ্ছেন কনেরা।

সংগীতশিল্পী জিনিয়া জাফরিন লুইপা মজা করেই পালিয়ে বিয়ে করেছেন। কিন্তু বউ সাজার চিরন্তন মেয়েলি ইচ্ছাটাকে তো বিসর্জন দেওয়া যায় না। মনের সেই খেদ জানিয়েছিলেন বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার বিপ্লব সাহাকে। পরে তিনি আয়োজন করে বউ সাজালেন লুইপাকে। বর আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে তুলে দিলেন ছবিও। এ-টু-জেডকে সেই ছবি দিলেন বিপ্লব সাহাই। জানালেন, লুইপার ইচ্ছায়ই সোনা কিংবা সোনালি রঙের গয়না বাদ দিয়েছেন। লুইপা এক লুকে সেজেছিলেন অক্সিডাইজড গয়নায়, অন্য লুকে কুন্দনের।

শুধু লুইপা নন, তাঁর মতো অনেক কনেই বেছে নিচ্ছেন বাহারি এসব গয়না। চাঁদনী চক মার্কেটের মা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম রানা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সোনার বৈশ্বিক বাজারেই আগুন লেগেছে। দাম কমছে না। অনেকের সাধ্য নেই, অনেক কনে আবার অভিভাবকের ওপর চাপ দিতে চাচ্ছেন না। আবার অনেকে আছেন নিজেরাই পছন্দ করে এ রকম প্রথাবিরোধী গয়না পরছেন বিয়েতে। এখন তো অনেকে বরং আসেন আগের কম টাকায় কেনা সোনা বিক্রি করতে। যেহেতু বেশি দাম পাচ্ছেন।’

শুধু মার্কেটে নয়, রুপা কিংবা রুপালি গয়নার বিকিকিনি বেড়েছে অনলাইন সাইটগুলোতেও। সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি, আয়সের মতো অনলাইন সাইটগুলোতে শুধু রুপালি গয়নাই মিলবে। তাও আবার আনকোরা ডিজাইনে। বিয়ের শাড়ি জামদানি হলে গয়না তৈরি করে দিচ্ছে তারা জামদানি মোটিফে। কিংবা কাতান হলে কাতানের নকশাই ফুটে উঠছে রুপালি গয়নায়। অথবা একেবারে নতুন কোনো কাস্টমাইজেশন চাইলে এসব অনলাইন স্টোর বা মার্কেটের দোকানগুলোতে মিলছে তাও।

এদিকে কুন্দন, স্টোনের গয়নার চাহিদাও কম নয়। একে তো সবার সাধ্যের মধ্যে, উপরন্তু নকশায় পাওয়া যায় বাহারি লুক। কনেরা তাই ঝুঁকছেন বিকল্প এসব গয়নার দিকে। নিজের বিয়েতে জয়পুরি গয়না পরেছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলী

নুসরাত হোসাইন অনন্যা। তাঁর বিয়ের কাতানটি ছিল ময়ূরকণ্ঠী নীল রঙের। তাতে আবার রুপালি জরির ভরাট কাজ। সোনা যেন একেবারেই যাচ্ছিল না সে শাড়ির সঙ্গে। অনেক ভেবেই নাকি শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে জয়পুরি গয়না পরেছিলেন। তাতে সোনা কেনার যে টাকা বেঁচেছিল তা খরচ করেছেন বিয়ের অন্য খাতে। ওদিকে স্টাইলিশ লুকও পেয়ে গিয়েছিলেন নিজের মনের মতো।

অনন্যার মতো অনেক কনেই এখন সোনার বদলে ভিন্ন ধারার গয়নায় সাজাচ্ছেন নিজেকে। তাতে কিন্তু বিয়ের বর্ণচ্ছটা ফিকে হচ্ছে না একদমই। বরং লুকে আসছে অনন্যতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা