kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বাবা যখন সন্তানের রোল মডেল

সন্তানরা বাবাকেই রোল মডেল হিসেবে দেখতে ভালোবাসে। বাবা যা করেন তারাও তা-ই করতে চায়। সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়তে নিজেকে তাদের সামনে সেভাবেই তুলে ধরুন। পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাবা যখন সন্তানের রোল মডেল

সন্তানের ভবিষ্যত্ জীবনের জন্য মা-বাবার ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের কাছেই বাবা হচ্ছেন সুপারহিরো; যিনি সব কিছু করতে পারেন। বাবার ইতিবাচক ভূমিকা সন্তানের সুন্দর জীবন গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব বাবা চান তাঁর সন্তান জীবনে উন্নতি করুক; তাঁকেও ছাড়িয়ে যাক। এ জন্য ছোট থেকেই নিজেকে সন্তানের সামনে রোল মডেল হিসেবে নিজেকে তুলে ধরুন। সন্তানকে অনুপ্রাণিত করতে পারে এমন কাজ বেশি করুন। শিশুরা বেশি শেখে মা-বাবার কাছ থেকেই। বাবার খেলাধুলা, পড়াশোনা, শখসহ অন্যান্য জিনিসের প্রতি সন্তানরা স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহী হয়। এজন্য বাবার জীবনযাপনের ধরন সন্তানের পছন্দ-অপছন্দে প্রভাব ফেলে।

সন্তানের কাছে রোল মডেল হতে বাবাকে যে সব কিছুতেই পারফেক্ট হতে হবে এমন নয়। বরং সন্তানের প্রতি বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অকুণ্ঠ সমর্থন ও নিরবচ্ছিন্ন গাইডলাইনই সন্তানের সুন্দর জীবন গঠন করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সন্তানের কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং বিধি-নিষেধের বেড়াজাল চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

শুরু থেকেই শুরু করুন

সন্তান ছোট থাকতেই ওর চোখে রোল মডেল বনে যাওয়ার চেষ্টা করুন। সন্তান একটু বড় হোক, বুঝতে শিখুক এই অপেক্ষায় থাকবেন না। শিশুরা ছোট থেকেই বড়দের ইশারা, আদর, ভালোবাসা বুঝতে পারে। তাই ছোট থাকতেই সন্তানের কাছে একজন ভরসার ব্যক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।

সন্তানের বন্ধু হোন

আপনি কেমন মানুষ, এটা আপনার সন্তানের জন্য জানা খুব জরুরি। নিজের গাম্ভীর্য বজায় রাখতে সন্তানকে দূরে রাখবেন না। সন্তানকে দূরে রাখা বাবা ও সন্তান কারো জন্যই ভালো নয়। সন্তানের সঙ্গে কোনো বিষয়ে ভুল-বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্য হলেও খোলাখুলি কথা বলুন। কোনো মানুষই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। আপনার জীবনের ভুলগুলো সন্তানের কাছে তুলে ধরুন। তাকে আপনার অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে সাহায্য করুন। আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতার গল্প শুনে দৃঢ় মনোবল গড়ে উঠবে ওর।

মনোযোগ দিয়ে শুনুন

সন্তান যা বলতে চায় তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে গুরুত্ব দিন। সে যেন মনে করে সে-ও পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ কেউ। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সন্তানের কাছে মতামত চান। এতে সে নিজেকে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে করবে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্ম নেবে। তার নিজের সুবিধা-অসুবিধা নিজ থেকে আপনার কাছে খুলে বলবে।

ইতিবাচক হোন

সন্তানের মধ্যে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিন। সন্তান সব সময় তার বাবাকে পর্যবেক্ষণ করে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন। সন্তানের সামনে কোনো বিষয় নিয়ে বিচলিত বা অধৈর্য্যশীল হবেন না। সব কিছুকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন এবং সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করুন। আপনার সন্তানও একই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

উত্সাহী হোন

প্রত্যেক শিশুই কোন না কোন গুণের অধিকারী। বাবা হিসেবে সন্তানের মধ্যে থাকা গুণ আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। সন্তানের মধ্যে লুক্কায়িত গুণ বের করে বিকশিত করতে উত্সাহ দিন। সন্তানের যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করুন। তার প্রতিটি চেষ্টা ও উদ্যমকে স্বাগত জানান। সন্তানের কাছে এমন কিছু চাইবেন না যা ওর সামর্থ্যের বাইরে।

হাল ছাড়বেন না

সন্তানের কাছে নিজেকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার কাজে বিরাম দেবেন না। এটা একটা বিরতিহীন যাত্রা। সন্তানের বয়স যতই হোক, সব সময় তার কাছে একজন আদর্শ মানুষ হয়ে থাকার চেষ্টা করুন। সন্তানের প্রশংসা করুন, প্রশ্রয় দিন, উত্সাহ দিন। সন্তানের পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজে সাহায্য করুন। সন্তানের সামনে মিথ্যা ছলনা-অভিনয় করবেন না। আপনার লড়াকু মনোভাব বুঝতে সন্তানকে সাহায্য করুন। সেও আপনার মতো একজন মানুষ হয়ে গড়ে উঠার চেষ্টা করবে।

চেঁচামেচি করবেন না

কোনো বিষয়ে সন্তানের সামনে অযথা চিত্কার করবেন না। সন্তানকে আপনার কথার মূল্য এবং গলার স্বর বুঝতে সাহায্য করুন। সন্তানের সঙ্গে কোমল গলায় কথা বলুন। কিছু বুঝতে না চাইলে জোর করবেন না। আদর করে আন্তরিকভাবে পরে বুঝিয়ে বলুন। শিশুর বিচারবুদ্ধি ও বিচক্ষণতার ওপর আস্থা রাখুন। ভুল করলে শুধরে দিন। এরপর তারা নিজ থেকেই ভালো-মন্দ বুঝতে শিখবে।

লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করুন

সন্তানের জীবনের লক্ষ্য, সেটা বাস্তবায়ন ও অর্জনে একসঙ্গে কাজ করুন। তাকে আপনার জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করুন। দেখবেন খুব সহজেই সন্তানের রোল মডেল বনে যাবেন।

সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উপকারে আসে এমন কাজে সম্পৃক্ত হোন। সন্তানকেও সঙ্গে নিন। রক্তদান, দরিদ্র শিশুদের লেখাপড়ার উপকরণ, ছিন্নমূলদের মুখে খাবার তুলে দিন। এসব নিয়ে সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করুন। তাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান। বড় হয়ে সে-ও এমন কাজে যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে আপনাকেও রোল মডেল মনে করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা