kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

সালোয়ারই বিশেষ

হাতে গোনা পরিচিত কাটের সালোয়ারে যুক্ত হয়েছে নানা বৈচিত্র্য। এসেছে নতুন কাটও। জানিয়েছেন ফ্যাশন হাউস হুর-এর স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার রোজালিন ইসলাম। লিখেছেন এ এস এম সাদ

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সালোয়ারই বিশেষ

প্যান্ট কাটে জোড়া লাগানো প্যানেল মডেল : তমা মির্জা পোশাক : হুর সাজ : সেগুফতা আজমী ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

এখন সালোয়ারের কাটে এসেছে নতুন ট্রেন্ড আর যুক্ত হচ্ছে নানা কাটও। একটা সময় সালোয়ার ছিল কামিজের অনুষঙ্গ। কিন্তু সেই ধারাতেও এসেছে বদল। এখন স্টাইলিশ সালোয়ার হয়ে উঠছে পোশাকের মূল উপকরণ। এর সঙ্গে খাপ খাইয়েই তৈরি হচ্ছে কামিজ বা টপস।

প্যান্ট, শারারা, পালাজ্জো বা বেলবটম কাটের সালোয়ার এখন ট্রেন্ডি। সঙ্গে ডিভাইডার কাট তো অনেক দিন ধরেই বাজারে জায়গা করে আছে। মূলত এই কাটিংয়ের ওপরই সালোয়ারের বৈচিত্র্য নির্ভর করে। কোনো সালোয়ারে ওপরের দিকটা ফাঁপানো, তো নিচের দিকটা ঢিলাঢালা। কোনোটা উল্টো—ওপরে চাপানো, নিচের দিকে ঢোলা। কোনোটাতে দেওয়া হয় নানা রকম কুঁচি।

জোড়া লাগানো প্যানেল কাট

অন্য সময়ের চেয়ে ইদানীং এই ধরনের সালোয়ার বেশ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সালোয়ারগুলো সাধারণত কোমরের অনেকটা ওপর থেকেই শুরু হয়। কাট প্যান্টের মতো হলেও নিচে প্যানেল জোড়া লাগানো হয়। সাধারণত কামিজ বা টপসের সঙ্গে মিল থাকে প্যানেলের নকশায়। কখনো এর দৈর্ঘ্য লম্বা হয়, কখনো গোড়ালি বা গোড়ালির ওপরও উঠে যেতে পারে।

 

পালাজ্জো

আশির দশকের মতো অনেকটা ঢোলা আকৃতির সালোয়ার। বলা যায়, অনেকটা সত্তর-আশির দশকের বেলবটম কাটের প্যান্টের মতো। তবে পালাজ্জোও কয়েক ধরনের কাট দিয়ে বানানো হয়। কোনোটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সমান ঢোলা হলেও কোনোটি ওপরের চেয়ে নিচের দিকে বেশি ঢোলা। এখন আবার অনেক পালাজ্জোর নিচের দিকটা ইংরেজি ইউয়ের মতো করে কাটা হয়। এ ধরনের পালাজ্জো একটু শর্ট পরলেই বেশি ভালো লাগে।

ধুতি কাট

এই কাটের সালোয়ারে কুঁচি দেওয়া হয় বা অনেক সময় হয়ও না। কোমরের নিচ থেকে খানিকটা ঢোলা হয়ে নিচের দিকে সরু হয়ে এসে গোড়ালিতে গিয়ে একেবারে চাপা হয়ে যায়। অন্য কাটের চেয়ে এই কাটে বেশি কাপড় লাগে। একটু নরম কাপড় বেছে নেওয়া ভালো।

শারারা কাট

এই কাটের সালোয়ারগুলোতে কুঁচি দেওয়া হয় বেশি। আর পাকিস্তানি কাটের সালোয়ারের মতো অনেক বেশি ঘের দেওয়া হয়। সাধারণত উত্সবের পোশাকে জমকালো ভাব আনতে বর্ণিল কামিজের সঙ্গে এই ধরনের সালোয়ার পরতে পছন্দ করেন অনেকে।

প্যান্ট কাট

কোমরের কাট থেকে শুরু করে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একেবারে সোজা এই কাটিং দেওয়া হয়। অফিস কিংবা যেকোনো মিটিংয়ে এ ধরনের সালোয়ার পোশাকে অনেকটাই ফরমাল লুক এনে দেয়। এ জন্য অনেক কর্মজীবী নারীরই পছন্দ।

সামনেই শীত। তাই ট্রেন্ড ও ফ্যাশননির্ভর চাহিদার কথা চিন্তা করে সালোয়ারে ব্যবহার করা হচ্ছে স্টাইলিশ প্যাটার্নের নকশা, যাতে পোশাকটি ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠে। আর ফেব্রিকে ব্যবহূত হচ্ছে খানিকটা ভারি কাপড়, যেনো হিমেল হাওয়াতেও আরাম লাগে। আর কাপড় পাতলা হলেও তাতে নকশার বুননে আনা হচ্ছে জমকালো ভাব। এ ধরনের সালোয়ারগুলো ছোট কামিজ টপসের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো মানায়। এতে সালোয়ারের বর্ণিল ডিজাইন ও কাট ভালোভাবে ফুটে ওঠে।

আবার সেমি লং বা মিড লং টপস শর্ট কুর্তির সঙ্গেও পরা যাবে। কোন ধরনের কাটের সালোয়ার কিসের সঙ্গে ভালো মানাবে সেটা আসলে সালোয়ারটির নির্দিষ্ট ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে।

বিভিন্ন কাটের সালোয়ার পাওয়া যাবে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতে। দাম পড়বে ৪০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর নিউ মার্কেট, হকার্স মার্কেট, চাঁদনী চক, ঢাকা কলেজের বিপরীতে বদরুদ্দোজা সুপারমার্কেট, বনানী সুপারমার্কেট, গুলশান ১ ডিসিসি মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডের প্রিয়াঙ্গন সুপারমার্কেট, পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক এবং ধানমণ্ডির বিভিন্ন শপিং মলেও পাওয়া যাবে। দাম পড়বে ২৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা