kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সাজানো রান্নাঘর

গৃহিণীদের অনেকটা সময় কাটে রান্নাঘরে। গোছানো রান্নাঘর ভালো রান্নার পূর্বশর্ত। কিভাবে রান্নাঘর সাজাবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আদর ইউসুফ। লিখেছেন এ এস এম সাদ

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাজানো রান্নাঘর

বেসিন

রান্নাঘরের অতি প্রয়োজনীয় একটি আসবাব হলো সিংক বা বেসিন। সাধারণত রান্নাঘরের বেসিন অন্যান্য বেসিন থেকে বড় হয়। এতে রান্না ও খাওয়ার কাজে ব্যবহূত যাবতীয় জিনিসপত্র ধোয়া হয়। এ জন্য অনেক জায়গার প্রয়োজন। এ ছাড়া কাজের সুবিধার জন্যই রান্নাঘরে আড়ম্বরপূর্ণ বেসিন ব্যবহারের চল নেই। স্টিলের তৈরি বড় বেসিনই রান্নাঘরের জন্য উপযুক্ত। রান্নাঘরের বেসিনের পাশে জিনিসপত্র রাখার জন্য আলাদা তাক রাখুন। ঘরের এক কোণে বা চুলার পাশে রান্নাঘরের বেসিন বসান। এটি ঘরের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি করবে।

তাক

রান্নাঘরে বড় জার রাখার জন্য দেয়ালে তাক তৈরি করুন। নিজের বাসা হলে তো কথাই নেই; দেয়ালে পছন্দমতো তাক বানিয়ে নিতে পারেন। এখন কাঠের কিংবা পারটেক্সের তাকের চল বেশি। রান্নাঘর অনুযায়ী তাকের দৈর্ঘ্য কত হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে নিন। দেয়াল তাকে বড় জার ছাড়াও কাপ, প্লেট কিংবা ছোট জারের জন্য তাক বানিয়ে নিতে পারেন। অবশ্যই তাকে দরজা কিংবা লক পদ্ধতি রাখুন। এতে কাচের পাত্র পরে যাওয়ার ভয় থাকবে না। ব্যবহার শেষে তৈজসপত্র যত্রতত্র না রেখে এই তাকে তুলে রাখুন।

শেলফ

রান্নাঘরে যেকোনো ধরনের শেলফ ব্যবহার করুন। প্রতি বেলায় যে প্লেট কিংবা বড় বাটি দরকার হয়, সেগুলো এই শেলফে রাখুন। এতে খুব সহজে নেওয়া ও রাখা যাবে। শেলফ অর্গানাইজারের মধ্যেই ছুরি, কাঁচি কিংবা পাউডার মেশানোর চামচ সব একসঙ্গে রেখে দিন।

কেবিনেট

রান্নাঘরের কেবিনেটগুলোতে অনেক বাক্স থাকে এবং বাক্সগুলোতে যথেষ্ট জায়গা থাকে। বড় জিনিসপত্র রাখার জন্য অনেক জায়গার প্রয়োজন হয়। বাক্সগুলো বড় হওয়ায় সুবিধা অনেক। আবার গভীরতা বেশি হওয়ায় বাক্সের গভীর থেকে জিনিসপত্র বের করতে ঝামেলা হয়। এ জন্য রোল আউট তাক ব্যবহার করুন। তাকগুলো সাধারণত ড্রয়ারের মতো। অনেক বড় ও গভীর হয়। রোল আউট তাকের মাধ্যমে অনেক সহজেই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি নিতে পারবেন।

কাঠের টেবিল

রান্নাঘরের মাঝে একটা কাঠের টেবিল রাখুন। টেবিলে সবজি কাটাসহ যাবতীয় কাজ করতে পারবেন। ইচ্ছা করলে টেবিলের এক পাশে প্রতিদিন ব্যবহার করেন এমন চামচ কিংবা চায়ের ছাঁকনিও রেখে দিতে পারেন। এটার জন্য ছোট পেরেক টেবিলের এক পাশে বসিয়ে দিন।

রান্নাঘরের রং

রান্নাঘরে কালো ও বাদামি রং ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এসব রং ভালোভাবে আলো প্রতিফলন করতে পারে না। রান্নাঘরের দেয়াল ও ছাদে আলোর সুব্যবস্থা রাখুন। বাতাস চলাচল ঠিক রাখার জন্য উন্নত চিমনি ব্যবহার করুন।

রান্নাঘরের আলোকসজ্জা

রান্নাঘরে আলোকসজ্জা জরুরি। কেবিনেটের ভেতর বাড়তি আলোর প্রয়োজন হয়। এ জন্য রান্নাঘরের কেবিনেটের ভেতরে বাল্ব লাগান। ঘরের সব জায়গার সর্বাধিক ব্যবহার করতে চাইলে ভালো আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করুন।

আসবাব

রান্নাঘরের রং ও আকৃতি অনুযায়ী কেবিনেট ও আসবাব নির্বাচন করুন। কেবিনেটে যথেষ্ট জায়গা থাকায় অনেক জিনিস রাখতে পারবেন। কেবিনেট কয়েকটি ড্রয়ারে বিভক্ত করে পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করুন। এতে রান্নাঘর ঝকঝকে ও পরিপাটি থাকবে। দেখতেও সাজানো ও সুন্দর লাগবে।

রেফ্রিজারেটর

এখন রান্নাঘরগুলোতে দেয়ালজুড়ে কেবিনেট দিতে দেখা যায়। ফলে অন্যান্য আসবাব রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও সেখানে ফ্রিজ মানানসই দেখায় না। তাই রান্নাঘরের কেবিনেটে ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর রাখার জন্য কিছু জায়গা খালি রাখুন। যদি নতুন রান্নাঘর তৈরি করেন, তাহলে অবশ্যই কেবিনেটে ফ্রিজ রাখার জন্য জায়গা রাখুন। কেবিনেটের এমন ডিজাইন রান্নাঘরকে আরো প্রশস্ত করে তুলবে এবং রান্নাঘরে নতুনত্ব আনবে।

মাইক্রোওয়েভ

ইদানীং ফ্রিজের মতো মাইক্রোওয়েভ ওভেনও মানুষের জীবনের আনুষঙ্গিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। ছোট রান্নাঘরে ওভেন রাখা নিয়ে ঝামেলা হয়। যেখানে সেখানে রাখলে রান্নাঘরের সৌন্দর্য ব্যাহত হয়। এ জন্য কেবিনেটের সঙ্গে মাইক্রোওয়েভের সাইজ অনুযায়ী একটি স্টেন যুক্ত করে তাতে ওভেনটি রাখতে পারেন। দেখতে সুন্দর লাগবে।

রান্নাঘরের আলো-বাতাস

রান্নাঘরে অনেকটা সময় থাকতে হয়। এ জন্য সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের সুবিধা রাখুন। রান্নাঘরের দেয়ালে গরম বাতাস বের হয়ে যাওয়ার এগজস্ট ফ্যান লাগিয়ে দিন। রান্নাঘরের জানালা খোলা রাখুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা